কচুয়ায় ইয়াবাসহ আবাসিক চিকিৎসক গ্রেপ্তার

ফারহান ফারাবী
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬
  • ১৫ বার

প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

চাঁদপুরের কচুয়ায় ইয়াবা ট্যাবলেট ও মাদক সেবনের সরঞ্জামসহ একটি বেসরকারি হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসককে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। রোববার রাতে কচুয়া বিশ্বরোডসংলগ্ন সিটি হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের আবাসিক কক্ষে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার চিকিৎসকের নাম ডা. সৈয়দ আসিফ ইস্পাহানী। তার বয়স ৩৮ বছর। তিনি টাঙ্গাইল জেলার বাসিন্দা বলে জানিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। সোমবার সকালে অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের চাঁদপুর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মিজানুর রহমান।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, রোববার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কচুয়া বিশ্বরোডসংলগ্ন সিটি হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান পরিচালনা করা হয়। হাসপাতালের তৃতীয় তলার পশ্চিম পাশের আবাসিক কক্ষটিতে অভিযান চালানো হয়। ওই কক্ষেই চিকিৎসক ডা. আসিফ অবস্থান করতেন।

অভিযানের সময় তার কক্ষ থেকে চারটি ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। একই সঙ্গে মাদক সেবনের কাজে ব্যবহৃত দুই রোল ফুয়েল পেপার, মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম এবং দুটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

অভিযানের পর ডা. আসিফ ইস্পাহানীকে হেফাজতে নেয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। পরে তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়। মামলার প্রক্রিয়া শেষে রাতেই তাকে কচুয়া থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের চাঁদপুর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, অভিযানে চিকিৎসকের আবাসিক কক্ষ থেকে ইয়াবা ও মাদক সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার অংশ হিসেবেই এ ধরনের অভিযান চালানো হচ্ছে। মাদকদ্রব্যের অবৈধ ব্যবহার ও সরবরাহের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তবে গ্রেপ্তার হওয়া চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন। মামলার তদন্ত ও পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ায় ঘটনার বিস্তারিত তথ্য উঠে আসবে।

একজন চিকিৎসকের মাদক-সংক্রান্ত মামলায় গ্রেপ্তারের ঘটনায় স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। চিকিৎসকের পেশাগত দায়িত্বের সঙ্গে রোগীর স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার বিষয়টি সরাসরি যুক্ত থাকায় এ ধরনের অভিযোগ স্বাভাবিকভাবেই জনমনে উদ্বেগ তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব তথ্য যাচাই করে দেখা এবং আদালতের সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করাও গুরুত্বপূর্ণ।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, অভিযানে উদ্ধার করা আলামত মামলার তদন্তে আইন অনুযায়ী উপস্থাপন করা হবে। গ্রেপ্তার চিকিৎসকের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার পরবর্তী কার্যক্রম কচুয়া থানা পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট আদালতের মাধ্যমে এগিয়ে যাবে।

এদিকে মাদকের অপব্যবহার রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় সমাজেরও ভূমিকা রয়েছে। মাদকাসক্তি ব্যক্তির শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি পরিবার ও সমাজেও দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই মাদকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থার পাশাপাশি সচেতনতা ও চিকিৎসাভিত্তিক পুনর্বাসনের গুরুত্বও বিশেষজ্ঞরা তুলে ধরেন।

কচুয়ার এই ঘটনায় এখন মূলত মামলার তদন্ত ও আদালতের পরবর্তী কার্যক্রমের দিকে নজর থাকবে। উদ্ধার করা মাদক ও সরঞ্জামের উৎস, এগুলো কীভাবে ওই কক্ষে এসেছে এবং ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না—তদন্তে এসব বিষয়ও যাচাই করা হতে পারে।

বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন >> 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত