কঙ্গোতে ইবোলায় মৃতের সংখ্যা ২০০০ ছাড়াল

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬
  • ১৯ বার
কঙ্গোতে ইবোলায় মৃতের সংখ্যা ২০০০ ছাড়াল
প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
মধ্য আফ্রিকার জনবহুল ও যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে মরণঘাতী ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব। অত্যন্ত দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়া এই ভাইরাসের করাল গ্রাসে দেশটিতে মৃতের সংখ্যা ইতোমধ্যে দুই হাজার অতিক্রম করেছে। মঙ্গলবার দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক প্রামাণিক তথ্যে এই ভয়ংকর চিত্র সামনে এসেছে। কঙ্গোর জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পক্ষ থেকে রয়টার্সকে যে তথ্য দেখানো হয়েছে, তাতে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে বর্তমান প্রাদুর্ভাবে ইবোলায় আক্রান্ত হয়ে মৃত মানুষের সংখ্যা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ১১ জনে। বিগত কয়েক সপ্তাহ ধরে যেভাবে লাশের মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে, তাতে স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীদের পাশাপাশি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন স্বাস্থ্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান। পশ্চিম আফ্রিকার সেই ঐতিহাসিক প্রাদুর্ভাবের স্মৃতি ফিরিয়ে এনে যেভাবে কঙ্গোর বিভিন্ন প্রদেশে ইবোলা ছড়িয়ে পড়ছে, তা নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন দেশটির চিকিৎসক ও চিকিৎসা সহায়তাকারীরা।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রকাশিত তথ্য বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের অন্তত পাঁচটি ভিন্ন প্রদেশে ইবোলা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে এবং এখন পর্যন্ত সর্বমোট চার হাজার ৩৮১ জন মানুষ এই প্রাণঘাতী ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। যুদ্ধবিগ্রহ, অভ্যন্তরীণ সংঘাত, স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ এবং সময়মতো রোগ শনাক্ত করতে না পারার চরম ব্যর্থতার কারণে এবারের প্রাদুর্ভাবটি অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি আক্রমণাত্মক রূপ ধারণ করেছে। এটি কঙ্গোর ইতিহাসে সপ্তদশ ইবোলা প্রাদুর্ভাব হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। বিশেষ করে উদ্বেগের বিষয় হলো, এবারের এই ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবে ইবোলার অত্যন্ত মার্জিত এবং বিপজ্জনক ‘বুন্দিবুগিও স্ট্রেইন’ ভাইরাসটির সংক্রমণ ঘটছে। চিকিৎসা বিজ্ঞান ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গবেষকদের জন্য সবচেয়ে বড় মাথাব্যথার কারণ হলো, ভাইরাসের এই নির্দিষ্ট স্ট্রেইনের বিরুদ্ধে লড়াই করার মতো এখনো পর্যন্ত কোনো ধরনের অনুমোদিত টিকা কিংবা নির্দিষ্ট চিকিৎসাপদ্ধতি আবিষ্কার বা কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। ফলে আক্রান্ত রোগীদের বাঁচিয়ে তোলার ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের হাত যেন একপ্রকার বাঁধাই থাকছে।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ইতিমধ্যে বর্তমান এই প্রাদুর্ভাবটিকে আন্তর্জাতিক উদ্বেগের একটি জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা করেছে। কঙ্গোর পাশাপাশি এর পার্শ্ববর্তী প্রতিবেশী দেশ উগান্ডাতেও ইবোলা ভাইরাস শনাক্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যা গোটা অঞ্চলকে এক গভীর মহামারির ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। সম্প্রতি পরিচালিত একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণায় চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে যে, কঙ্গোর ইতুরি প্রদেশে চলমান বর্তমান এই প্রাদুর্ভাবের সংক্রমণ আসলে চলতি বছরের জানুয়ারি মাস কিংবা তারও অনেক আগে থেকে নীরবে শুরু হয়ে থাকতে পারে। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারির মাঝামাঝি সময় থেকে শুরু করে মে মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত কেবল ইতুরি প্রদেশেই পাঁচশতেরও বেশি সন্দেহভাজন ইবোলা রোগী শনাক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থা, স্থানীয় পর্যায়ে তীব্র নিরাপত্তাহীনতা এবং জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা সরঞ্জামের চরম ঘাটতির কারণে রোগীদের দ্রুত শনাক্ত করা, তাদের অন্যদের থেকে পৃথক রাখা এবং সংক্রামিত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে আসা মানুষদের খুঁজে বের করার মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
কঙ্গো সরকারের দেওয়া সরকারি পরিসংখ্যান এবং ঐতিহাসিক তুলনা বিশ্লেষণ করলে বর্তমান সংকটের ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। পশ্চিম আফ্রিকায় ২০১৪ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যবর্তী সময়ে যে প্রলয়ঙ্কারী ইবোলা প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছিল, তার পর থেকে বিশ্ব দেখেনি এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়া আর কোনো বড় প্রাদুর্ভাব। সে সময় গিনি, লাইবেরিয়া ও সিয়েরা লিওনে প্রায় ২৮ হাজার ৬১৬ জন মানুষ আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং প্রাণ হারিয়েছিলেন ১১ হাজার ৩১০ জন। কিন্তু বর্তমান কঙ্গোর প্রাদুর্ভাবের গতিবেগ অতীতের যেকোনো রেকর্ডকে পেছনে ফেলে দিচ্ছে। মাত্র তিন মাসেরও কম সময়ের ব্যবধানে এই ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবে মৃত্যুর সংখ্যা দুই হাজারের গণ্ডি পার হয়ে গেছে। এমনকি গত এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে মৃতের সংখ্যা এক হাজার থেকে দ্বিগুণ হয়ে দুই হাজারে পৌঁছেছে, যা থেকে ইবোলার অবিশ্বাস্য দ্রুত বিস্তারের ভয়াবহ চিত্রটি অত্যন্ত স্পষ্ট হয়ে ওঠে। দেশের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সবাই এখন এই অদৃশ্য শত্রুর বিরুদ্ধে সর্বাত্মক লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, যাতে ভাইরাসের এই অপ্রতিরোধ্য গতিকে যেকোনো মূল্যে থামানো সম্ভব হয়।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রকাশিত তথ্য বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের অন্তত পাঁচটি ভিন্ন প্রদেশে ইবোলা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে এবং এখন পর্যন্ত সর্বমোট চার হাজার ৩৮১ জন মানুষ এই প্রাণঘাতী ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। যুদ্ধবিগ্রহ, অভ্যন্তরীণ সংঘাত, স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ এবং সময়মতো রোগ শনাক্ত করতে না পারার চরম ব্যর্থতার কারণে এবারের প্রাদুর্ভাবটি অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি আক্রমণাত্মক রূপ ধারণ করেছে। এটি কঙ্গোর ইতিহাসে সপ্তদশ ইবোলা প্রাদুর্ভাব হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। বিশেষ করে উদ্বেগের বিষয় হলো, এবারের এই ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবে ইবোলার অত্যন্ত মার্জিত এবং বিপজ্জনক ‘বুন্দিবুগিও স্ট্রেইন’ ভাইরাসটির সংক্রমণ ঘটছে। চিকিৎসা বিজ্ঞান ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গবেষকদের জন্য সবচেয়ে বড় মাথাব্যথার কারণ হলো, ভাইরাসের এই নির্দিষ্ট স্ট্রেইনের বিরুদ্ধে লড়াই করার মতো এখনো পর্যন্ত কোনো ধরনের অনুমোদিত টিকা কিংবা নির্দিষ্ট চিকিৎসাপদ্ধতি আবিষ্কার বা কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। ফলে আক্রান্ত রোগীদের বাঁচিয়ে তোলার ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের হাত যেন একপ্রকার বাঁধাই থাকছে।

পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ইতিমধ্যে বর্তমান এই প্রাদুর্ভাবটিকে আন্তর্জাতিক উদ্বেগের একটি জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা করেছে। কঙ্গোর পাশাপাশি এর পার্শ্ববর্তী প্রতিবেশী দেশ উগান্ডাতেও ইবোলা ভাইরাস শনাক্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যা গোটা অঞ্চলকে এক গভীর মহামারির ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। সম্প্রতি পরিচালিত একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণায় চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে যে, কঙ্গোর ইতুরি প্রদেশে চলমান বর্তমান এই প্রাদুর্ভাবের সংক্রমণ আসলে চলতি বছরের জানুয়ারি মাস কিংবা তারও অনেক আগে থেকে নীরবে শুরু হয়ে থাকতে পারে। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারির মাঝামাঝি সময় থেকে শুরু করে মে মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত কেবল ইতুরি প্রদেশেই পাঁচশতেরও বেশি সন্দেহভাজন ইবোলা রোগী শনাক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থা, স্থানীয় পর্যায়ে তীব্র নিরাপত্তাহীনতা এবং জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা সরঞ্জামের চরম ঘাটতির কারণে রোগীদের দ্রুত শনাক্ত করা, তাদের অন্যদের থেকে পৃথক রাখা এবং সংক্রামিত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে আসা মানুষদের খুঁজে বের করার মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

কঙ্গো সরকারের দেওয়া সরকারি পরিসংখ্যান এবং ঐতিহাসিক তুলনা বিশ্লেষণ করলে বর্তমান সংকটের ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। পশ্চিম আফ্রিকায় ২০১৪ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যবর্তী সময়ে যে প্রলয়ঙ্কারী ইবোলা প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছিল, তার পর থেকে বিশ্ব দেখেনি এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়া আর কোনো বড় প্রাদুর্ভাব। সে সময় গিনি, লাইবেরিয়া ও সিয়েরা লিওনে প্রায় ২৮ হাজার ৬১৬ জন মানুষ আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং প্রাণ হারিয়েছিলেন ১১ হাজার ৩১০ জন। কিন্তু বর্তমান কঙ্গোর প্রাদুর্ভাবের গতিবেগ অতীতের যেকোনো রেকর্ডকে পেছনে ফেলে দিচ্ছে। মাত্র তিন মাসেরও কম সময়ের ব্যবধানে এই ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবে মৃত্যুর সংখ্যা দুই হাজারের গণ্ডি পার হয়ে গেছে। এমনকি গত এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে মৃতের সংখ্যা এক হাজার থেকে দ্বিগুণ হয়ে দুই হাজারে পৌঁছেছে, যা থেকে ইবোলার অবিশ্বাস্য দ্রুত বিস্তারের ভয়াবহ চিত্রটি অত্যন্ত স্পষ্ট হয়ে ওঠে। দেশের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সবাই এখন এই অদৃশ্য শত্রুর বিরুদ্ধে সর্বাত্মক লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, যাতে ভাইরাসের এই অপ্রতিরোধ্য গতিকে যেকোনো মূল্যে থামানো সম্ভব হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত