চাঁদা না পেয়ে চট্টগ্রামে প্রবাসীর বাড়িতে গুলিবর্ষণ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬
  • ৮ বার
চাঁদা না পেয়ে চট্টগ্রামে প্রবাসীর বাড়িতে গুলিবর্ষণ
প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বন্দরনগরী চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানার হামজারবাগ এলাকায় এক প্রবাসী ব্যবসায়ীর মালিকানাধীন বাসভবনকে লক্ষ্য করে দুর্বৃত্তদের পক্ষ থেকে নৃশংসভাবে গুলিবর্ষণের একটি লোমহর্ষক ঘটনা ঘটেছে। সুনির্দিষ্ট পরিমাণ চাঁদা দাবির পর সেই চাঁদা প্রদানে অস্বীকৃতি জানানো এবং অপরাধীর মোবাইল নম্বর ব্লক করে দেওয়ার ঠিক পরপরই গভীর রাতে এই অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটে। এই আকস্মিক সশস্ত্র হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির বাসিন্দা থেকে শুরু করে পুরো এলাকাজুড়ে এক চরম আতঙ্ক ও থমথমে পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও পুলিশ প্রশাসন ইতিমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে। বিগত ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের যে নতুন ধারা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, চট্টগ্রামের এই ঘটনাটি তারই এক নির্মম বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও এলাকাবাসী।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণে প্রকাশ, ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে যে, হামলার শিকার এই বাড়িটি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দা হাজী মোহাম্মদ ইউসুফের মালিকানাধীন। তিনি দীর্ঘ ৪০ বছর প্রবাস জীবন কাটিয়ে বর্তমানে দেশে অবস্থান করছেন। তাঁর বড় ছেলে মোহাম্মদ শওকত একজন দুবাই-প্রবাসী এবং তিনি গত কয়েকমাস পূর্বে দুবাই থেকে দেশে ফিরেছেন। হাজী মোহাম্মদ ইউসুফের জামাতা হিসেবে পরিচিত স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনের পরিচিত মুখ এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত স্বেচ্ছাসেবক লীগ চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান আজিজ। উল্লেখ্য যে, বিগত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের মাত্র দুদিন পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে কারাগারে বন্দি রয়েছেন এই স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা। মূলত এই রাজনৈতিক পরিচয়ের সূত্র ধরেই অপরাধীচক্রের প্রধান টার্গেটে পরিণত হয়েছে প্রবাসী ব্যবসায়ীর এই যৌথ পরিবারটি।
ঘটনার সূত্রপাত সম্পর্কে প্রবাসীর পিতা হাজী মোহাম্মদ ইউসুফ গণমাধ্যমকে জানান যে, গত সোমবার দুপুরে তাঁর দুবাই-প্রবাসী ছেলে শওকতের ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে একটি বিদেশি নম্বর থেকে ভয়েস রেকর্ড পাঠানো হয়। ওই ভয়েস রেকর্ডে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি নিজেকে কাতারপ্রবাসী হিসেবে পরিচয় দিয়ে অত্যন্ত ঔদ্ধত্যপূর্ণ ভাষায় দাবি জানায় যে, ওই পরিবারের প্রচুর ধনসম্পদ ও জমজমাট ব্যবসা-বাণিজ্য রয়েছে। তাই তাদের অবিলম্বে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা পরিশোধ করতে হবে। অপরাধী চক্রের সেই সদস্য আরও জানায় যে, সে টাকা নেওয়ার জন্য অন্য একটি ছোট ভাইকে পাঠাবে এবং তার মোবাইল নম্বরও মেসেজ করে জানিয়ে দেওয়া হবে। চাঁদার এই বিশাল অংক প্রদান না করলে পরিবারের সবাইকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়। প্রবাসীর ছেলে তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি তাঁর বাবাকে জানালে, প্রবীণ ব্যবসায়ী কোনো ঝুঁকি না নিয়ে নম্বরটি ব্লক করে দেওয়ার পরামর্শ দেন এবং সঙ্গে সঙ্গে অপর প্রান্ত থেকে সেই ভয়েস রেকর্ডটি মুছে ফেলা হয়।
হোয়াটসঅ্যাপের নম্বর ব্লক করে দেওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে গভীর রাতে সেই ক্ষোভ ও হুমকি বাস্তবায়নের জন্য হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। গত সোমবার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে হামজারবাগ এলাকার হাজী মোহাম্মদ ইউসুফের ব্যক্তিগত বাসভবন লক্ষ্য করে অতর্কিতভাবে দুই রাউন্ড গুলিবর্ষণ করা হয়। রাতের বেলা হঠাৎ করে বিকট শব্দের সেই গুলির আওয়াজে কেঁপে ওঠে পুরো এলাকা। গভীর রাতে এই আকস্মিক হামলায় ঘুম ভেঙে যাওয়া বাড়ির সদস্যরা চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায় পড়েন। গুলির শব্দ শোনার পর দীর্ঘক্ষণ কেউ ঘরের বাইরে বের হওয়ার সাহস পাননি। পরবর্তী সময়ে ঘরের বাসিন্দারা নিচে নেমে দেখতে পান যে, মূল প্রবেশদ্বারে বা গেটে দুটি গুলির স্পষ্ট চিহ্ন ও আঘাত রয়েছে। এমনকি গুলির আওয়াজ শুনে ভবনের বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষী বাইরে বের হতে চাইলে তাকে বন্দুকের ভয় দেখিয়ে ভেতরে চলে যেতে বাধ্য করা হয়, যার ফলে অপরাধীদের চেহারা বা পরিচয় দেখতে পারেননি কেউ।
খবর পেয়ে পাঁচলাইশ থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায় এবং দীর্ঘক্ষণ ধরে পুরো এলাকা পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করে। পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহেদুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, সোমবার রাতে হামজারবাগ এলাকায় লোডশিল্ডিংয়ের সুযোগ নিয়ে কে বা কারা অত্যন্ত সুকৌশলে একটি বাড়ি লক্ষ্য করে দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়েছে। এটি মূলত জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির একটি সুদূরপ্রসারী উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপচেষ্টা হতে পারে বলে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা। পুলিশ কর্মকর্তা আরও নিশ্চিত করেছেন যে, আলোচিত এই ভবনটি কারাবন্দি স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আজিজের শ্বশুরবাড়ি এবং স্থানীয় লোকজন এটিকে প্রবাসী ব্যবসায়ী শওকতের বাসা হিসেবেই চেনে। হোয়াটসঅ্যাপে আসা ওই ভয়েস রেকর্ড, চাঁদা দাবির সত্যতা এবং কে বা কারা এই ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত, তা উদ্ঘাটনের জন্য পুলিশ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে গভীর তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত