বুধবার দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬
  • ১০ বার
বুধবার দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা
প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
পবিত্র আখেরি চাহার সোম্বা পালনের লক্ষ্যে আগামী বুধবার, ১২ আগস্ট দেশের সকল সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জারিকৃত বার্ষিক ছুটির ক্যালেন্ডার অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। যদিও এই দিনটি সাধারণ সরকারি ছুটির তালিকাভুক্ত নয় এবং এটি একটি ঐচ্ছিক ছুটির আওতাভুক্ত দিবস, তবুও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও তাৎপর্য বিবেচনায় দেশের সকল স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে একদিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। মূলত শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ এবং শিক্ষকদের এই দিবসের বিশেষ তাৎপর্য পালনের সুযোগ করে দিতেই মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে, যা সকল সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য হবে।
এই ছুটির ঘোষণার প্রেক্ষিতে দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোও নিজস্ব প্রশাসনিক নোটিশের মাধ্যমে ছুটির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয় থেকে পাঠানো এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, পবিত্র আখেরি চাহার সোম্বা উপলক্ষে বুধবার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অফিসসহ এর অধীনে থাকা সারাদেশের সকল অধিভুক্ত ও অঙ্গীভূত কলেজ বন্ধ থাকবে। একইভাবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পৃথক পৃথক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তাদের কার্যক্রম স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছে। রাজধানীর নামিদামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো থেকেও এরই মধ্যে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ও অনলাইন নোটিশ বোর্ডের মাধ্যমে ছুটির বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা আগেভাগেই তাদের ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিকল্পনা গুছিয়ে নিতে পারেন।
আরবি ও ফারসি ভাষার চমৎকার সমন্বয়ে গঠিত ‘আখেরি চাহার সোম্বা’ পরিভাষাটি মুসলিম উম্মাহর নিকট অত্যন্ত তাৎপর্যবহ একটি দিন হিসেবে বিবেচিত হয়। শব্দগত অর্থে ‘আখেরি’ বলতে বোঝায় শেষ, ‘চাহার’ অর্থ চার এবং ‘শোম্বা’ শব্দের অর্থ বুধবার। অর্থাৎ, ইসলামি ক্যালেন্ডারের সফর মাসের শেষ বুধবারকে এই বিশেষ দিন হিসেবে পালন করা হয়। ইতিহাসের আলোকে জানা যায়, বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর রোগমুক্তির স্মরণে ও ইসলামি ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে বিশ্বজুড়ে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা এই দিনটি বিশেষভাবে পালন করেন। এই দিনটিকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিশেষ দোয়া, মিলাদ মাহফিল, ওয়াজ-নসিহত, জিকির-আজকার এবং বিশেষ মোনাজাতের আয়োজন করা হয়। বিশেষ করে ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে দিনের সূচনালগ্ন থেকেই খতমে কোরআন এবং পবিত্র সিরাত মাহফিলের আয়োজন করা হয়ে থাকে, যেখানে শিক্ষার্থীরা পরম আগ্রহে অংশগ্রহণ করে থাকে।
যদিও এটি একটি ঐচ্ছিক ছুটি, তবুও মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক ছুটির তালিকায় এই দিনটি আগে থেকেই লালকালি দিয়ে চিহ্নিত থাকে, ফলে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে এই দিনটি ঘিরে এক ধরনের পূর্বপ্রস্তুতি থাকে। ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক ভাবগাম্ভীর্যের পাশাপাশি এই ছুটির দিনটি শিক্ষার্থীদের জন্য পড়াশোনার একঘেয়েমি দূর করার একটি ছোট সুযোগ হিসেবেও কাজ করে। বিশেষ করে যারা আবাসিক এলাকায় বা ক্যাম্পাসে পড়াশোনা করেন, তাদের জন্য এই দিনটি অত্যন্ত স্বস্তির। তবে ছুটির এই দিনটিকে কেবল নিছক বিশ্রামের দিন হিসেবে না দেখে, এর পেছনের ধর্মীয় ইতিহাস ও ঐতিহ্যের তাৎপর্য অনুধাবন করার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি শিক্ষকদের পক্ষ থেকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। দিনটি উপলক্ষে বিভিন্ন স্থানে যে ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, তাতে সামাজিক দূরত্ব ও ধর্মীয় শৃঙ্খলা বজায় রেখে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
পরিশেষে, শিক্ষামন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্ত দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় বিদ্যমান ধর্মীয় সংহতি ও ঐতিহ্যের প্রতি যে শ্রদ্ধাশীল মনোভাব, তা আবারও পরিষ্কার করে তুলেছে। সাধারণত সরকারি ছুটির ক্যালেন্ডারে অন্তর্ভুক্ত না থাকলেও ঐতিহ্যগতভাবে এই দিনটিতে শিক্ষাঙ্গনে যে শূন্যতা ও উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়, তা দেশের শিক্ষা সংস্কৃতিতে এক ভিন্নমাত্রা যোগ করে। শিক্ষা প্রশাসন আশা করছে যে, সকল স্তরের শিক্ষার্থীরা এই ছুটির দিনটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পালন করবে এবং পবিত্র আখেরি চাহার সোম্বার মূল চেতনা ও শিক্ষা থেকে নিজেদের সমৃদ্ধ করার চেষ্টা করবে। সেই সঙ্গে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন বুধবার দিনের কার্যক্রম বন্ধ রাখার পূর্বে ক্যাম্পাসে যথাযথ নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করা হয়, যাতে বৃহস্পতিবার পুনরায় স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফেরার পথে কোনো প্রকার প্রশাসনিক বা একাডেমিক জটিলতা সৃষ্টি না হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত