প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, আঞ্চলিক কূটনীতি এবং বিগত বছরগুলোতে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দেশটির বিতর্কিত ভূমিকা নিয়ে দেশের সাধারণ মানুষের মনে দীর্ঘদিন ধরে গভীর প্রশ্ন ও যৌক্তিক সন্দেহ বিরাজ করছে বলে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর সচিবালয়ে অবস্থিত তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক নিয়মিত ও গুরুত্বপূর্ণ প্রেস ব্রিফিংয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের বিভিন্ন প্রশ্নের খোলামেলা জবাব দিতে গিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের নানা টানাপোড়েন, উচ্চপর্যায়ের বৈঠক এবং বিগত সরকারের আমলে ভারতের বহুমুখী অবস্থান নিয়ে সরকারের সুনির্দিষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে তথ্য উপদেষ্টার এই বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে নতুন করে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রতিবেশী দুই রাষ্ট্রের মধ্যকার ভবিষ্যৎ সম্পর্ক কোন পথে পরিচালিত হওয়া উচিত এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে প্রাধান্য দিয়ে কীভাবে সম্পর্কের পুনর্মূল্যায়ন করা প্রয়োজন, সে বিষয়েও তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।
প্রেস ব্রিফিং চলাকালে সাংবাদিকরা ভারতের হাইকমিশনারের সঙ্গে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বৈঠক এবং এই বিষয়ে সরকারের সুনির্দিষ্ট কূটনৈতিক অবস্থান সম্পর্কে জানতে চান। এর জবাবে তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান জানান যে, দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ইতিপূর্বেই এই বৈঠকের বিষয়ে একটি বিস্তারিত ও স্পষ্ট ব্রিফিং প্রদান করা হয়েছে এবং সরকারের প্রকাশ্য বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের জোরালো অবস্থান প্রতিবেশীর দরবারে অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে তুলে ধরা হয়েছে। অতীতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের রদবদল এবং একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক সরকারকে দীর্ঘদিন যাবৎ একপেশেভাবে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে ভারতের তরফ থেকে যে ধরনের দৃশ্যমান ও অদৃশ্য ভূমিকা পালন করা হয়েছিল, তা সাধারণ মানুষের মন থেকে সহজে মুছে যাওয়ার নয়। এই দীর্ঘমেয়াদী আস্থার সংকট কাটিয়ে উঠতে হলে এবং ভবিষ্যৎ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে একটি টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে যেতে হলে ভারতের দিক থেকেই এখন একটি অনুকূল, স্বচ্ছ ও আস্থার পরিবেশ তৈরির সুনির্দিষ্ট প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে তিনি জোরালোভাবে অভিমত ব্যক্ত করেন। পারস্পরিক সমতা ও সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে তৈরি না হলে কোনো আন্ডারস্ট্যান্ডিং বা কূটনীতিই যে দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না, সেটিই তার বক্তব্যে ফুটে উঠেছে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক কিছু বিতর্কিত বক্তব্য এবং সেই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দেওয়া আনুষ্ঠানিক তীব্র প্রতিক্রিয়ার বিষয়টিও প্রেস ব্রিফিংয়ে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন তথ্য উপদেষ্টা। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, পলাতক আসামির উসকানিমূলক মন্তব্যের পর বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে যে কঠোর বিবৃতি প্রদান করা হয়েছিল, তাতে এই বিষয়টি অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট ও জোরালো ভাষায় স্পষ্ট করা হয়েছিল। যদিও পরবর্তীতে ভারতের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দাবি করার চেষ্টা করা হয়েছে যে ওই ধরনের উসকানিমূলক ঘটনার সঙ্গে বা সাবেক নেত্রীর অবস্থানের সঙ্গে তাদের সরকারের কোনো ধরনের প্রত্যক্ষ সম্পর্ক বা পৃষ্ঠপোষকতা নেই, তবুও বাংলাদেশের কূটনৈতিক ও জনমতের দৃষ্টিতে বিষয়টিকে পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তথ্য উপদেষ্টার মতে, অতীতে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন স্পর্শকাতর ঘটনার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের জনগণের মনে যে আস্থার ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তার সঙ্গে ভারতের কোনো না কোনো পর্যায়ের সংশ্লিষ্টতা, পরোক্ষ মদদ বা নমনীয় সমর্থনের প্রশ্নটি বারবার সামনে চলে আসে। এই কাঠামোগত অবিশ্বাসের দেয়াল ভাঙতে না পারলে দুই দেশের রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মধ্যকার সম্পর্ক স্বাভাবিক করা দুরূহ হবে।
ভবিষ্যতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের রূপরেখা কেমন হওয়া উচিত, সে বিষয়ে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করে ডা. জাহেদ উর রহমান পরিষ্কার ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের রাষ্ট্রীয় সম্পর্ক কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, বিশেষ কোনো রাজনৈতিক দল কিংবা কোনো একক সরকারের সঙ্গে হতে পারে না; বরং এই সম্পর্ক হতে হবে সরাসরি দুই দেশের সার্বভৌম জনগণের সঙ্গে। অতীতের ভুলভ্রান্তি ও একপেশে মিত্রতার নীতি থেকে বেরিয়ে এসে আগামী দিনে দুই দেশের পারস্পরিক অংশীদারিত্ব ও কূটনৈতিক সম্পর্ককে সম্পূর্ণ নতুন একটি কাঠামোর আওতায় বিন্যাস করা বা ‘রিঅ্যালাইনমেন্ট’ করার সময় এখন এসে গেছে। জনগণের প্রকৃত আকাঙ্ক্ষা, পারস্পরিক সম্মান এবং সমতার ভিত্তিতে প্রতিবেশীর সঙ্গে সম্পর্ক নতুন করে সংজ্ঞায়িত না করলে তা কখনোই দীর্ঘমেয়াদে সুফল বয়ে আনবে না। তথ্য উপদেষ্টার এই দায়িত্বশীল ও সময়োপযোগী বক্তব্য দেশের ভেতরে এবং বাইরে কূটনীতি সচেতন মহলে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে এবং এটি আগামী দিনে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের গতিপ্রকৃতি নির্ধারণে একটি বড় মাপকাঠি হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
প্রেস ব্রিফিং চলাকালে সাংবাদিকরা ভারতের হাইকমিশনারের সঙ্গে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বৈঠক এবং এই বিষয়ে সরকারের সুনির্দিষ্ট কূটনৈতিক অবস্থান সম্পর্কে জানতে চান। এর জবাবে তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান জানান যে, দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ইতিপূর্বেই এই বৈঠকের বিষয়ে একটি বিস্তারিত ও স্পষ্ট ব্রিফিং প্রদান করা হয়েছে এবং সরকারের প্রকাশ্য বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের জোরালো অবস্থান প্রতিবেশীর দরবারে অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে তুলে ধরা হয়েছে। অতীতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের রদবদল এবং একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক সরকারকে দীর্ঘদিন যাবৎ একপেশেভাবে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে ভারতের তরফ থেকে যে ধরনের দৃশ্যমান ও অদৃশ্য ভূমিকা পালন করা হয়েছিল, তা সাধারণ মানুষের মন থেকে সহজে মুছে যাওয়ার নয়। এই দীর্ঘমেয়াদী আস্থার সংকট কাটিয়ে উঠতে হলে এবং ভবিষ্যৎ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে একটি টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে যেতে হলে ভারতের দিক থেকেই এখন একটি অনুকূল, স্বচ্ছ ও আস্থার পরিবেশ তৈরির সুনির্দিষ্ট প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে তিনি জোরালোভাবে অভিমত ব্যক্ত করেন। পারস্পরিক সমতা ও সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে তৈরি না হলে কোনো আন্ডারস্ট্যান্ডিং বা কূটনীতিই যে দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না, সেটিই তার বক্তব্যে ফুটে উঠেছে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক কিছু বিতর্কিত বক্তব্য এবং সেই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দেওয়া আনুষ্ঠানিক তীব্র প্রতিক্রিয়ার বিষয়টিও প্রেস ব্রিফিংয়ে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন তথ্য উপদেষ্টা। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, পলাতক আসামির উসকানিমূলক মন্তব্যের পর বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে যে কঠোর বিবৃতি প্রদান করা হয়েছিল, তাতে এই বিষয়টি অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট ও জোরালো ভাষায় স্পষ্ট করা হয়েছিল। যদিও পরবর্তীতে ভারতের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দাবি করার চেষ্টা করা হয়েছে যে ওই ধরনের উসকানিমূলক ঘটনার সঙ্গে বা সাবেক নেত্রীর অবস্থানের সঙ্গে তাদের সরকারের কোনো ধরনের প্রত্যক্ষ সম্পর্ক বা পৃষ্ঠপোষকতা নেই, তবুও বাংলাদেশের কূটনৈতিক ও জনমতের দৃষ্টিতে বিষয়টিকে পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তথ্য উপদেষ্টার মতে, অতীতে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন স্পর্শকাতর ঘটনার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের জনগণের মনে যে আস্থার ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তার সঙ্গে ভারতের কোনো না কোনো পর্যায়ের সংশ্লিষ্টতা, পরোক্ষ মদদ বা নমনীয় সমর্থনের প্রশ্নটি বারবার সামনে চলে আসে। এই কাঠামোগত অবিশ্বাসের দেয়াল ভাঙতে না পারলে দুই দেশের রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মধ্যকার সম্পর্ক স্বাভাবিক করা দুরূহ হবে।

ভবিষ্যতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের রূপরেখা কেমন হওয়া উচিত, সে বিষয়ে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করে ডা. জাহেদ উর রহমান পরিষ্কার ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের রাষ্ট্রীয় সম্পর্ক কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, বিশেষ কোনো রাজনৈতিক দল কিংবা কোনো একক সরকারের সঙ্গে হতে পারে না; বরং এই সম্পর্ক হতে হবে সরাসরি দুই দেশের সার্বভৌম জনগণের সঙ্গে। অতীতের ভুলভ্রান্তি ও একপেশে মিত্রতার নীতি থেকে বেরিয়ে এসে আগামী দিনে দুই দেশের পারস্পরিক অংশীদারিত্ব ও কূটনৈতিক সম্পর্ককে সম্পূর্ণ নতুন একটি কাঠামোর আওতায় বিন্যাস করা বা ‘রিঅ্যালাইনমেন্ট’ করার সময় এখন এসে গেছে। জনগণের প্রকৃত আকাঙ্ক্ষা, পারস্পরিক সম্মান এবং সমতার ভিত্তিতে প্রতিবেশীর সঙ্গে সম্পর্ক নতুন করে সংজ্ঞায়িত না করলে তা কখনোই দীর্ঘমেয়াদে সুফল বয়ে আনবে না। তথ্য উপদেষ্টার এই দায়িত্বশীল ও সময়োপযোগী বক্তব্য দেশের ভেতরে এবং বাইরে কূটনীতি সচেতন মহলে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে এবং এটি আগামী দিনে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের গতিপ্রকৃতি নির্ধারণে একটি বড় মাপকাঠি হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।