প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বাংলাদেশের টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার এক যুগান্তকারী ও পরিবেশবান্ধব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বিদ্যুৎ খাতের ওপর চাপ কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার উৎসাহিত করার জন্য সরকারি দপ্তরগুলোতে এখন থেকে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে সরকারের পক্ষ থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিপত্র জারি করা হয়েছে, যা দেশের প্রশাসনিক কাঠামোয় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কর্তৃক সোমবার ১০ আগস্ট জারিকৃত এই পরিপত্রে সরকারি দপ্তরগুলোতে সৌরশক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জ্বালানি সাশ্রয় এবং পরিবেশ রক্ষায় সরকারের এই দূরদর্শী সিদ্ধান্তকে দেশের সচেতন নাগরিক সমাজ ও পরিবেশবিজ্ঞানীরা স্বাগত জানিয়েছেন।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব তানিয়া আফরোজ স্বাক্ষরিত ওই দাপ্তরিক পরিপত্রে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বর্তমান সরকার দেশের সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কার্যালয়গুলোতে জ্বালানি সাশ্রয়ী ব্যবস্থা গ্রহণের নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এই সিদ্ধান্তের আওতায় বঙ্গভবন, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, পরিকল্পনা কমিশন এবং অর্থ বিভাগে দাপ্তরিক কাজে ব্যবহৃত মোট বিদ্যুতের সিংহভাগ বা প্রধান অংশটুকু সৌরবিদ্যুৎ থেকে পাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। কেবল উল্লিখিত কার্যালয়গুলোই নয়, বরং পর্যায়ক্রমে দেশের সকল সরকারি দপ্তরে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার সর্বোচ্চ সীমায় নিয়ে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরিপত্রটি জারির সঙ্গে সঙ্গেই অবিলম্বে তা কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা সরকারের দৃঢ় অবস্থানের পরিচয় বহন করে।

এই পরিপত্র জারির প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছিল গত ৩ আগস্ট সচিবালয়ে আয়োজিত সৌরবিদ্যুৎ বিষয়ক এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উচ্চপর্যায়ের সভায়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই সভার সভাপতিত্ব করেন এবং দেশের বর্তমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধির লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। সভার মূল উদ্দেশ্য ছিল সরকারি ভবনগুলোকে সৌরশক্তির আওতায় নিয়ে এসে বিদ্যুৎ খাতের অপচয় রোধ করা এবং একটি টেকসই জ্বালানি কাঠামো গড়ে তোলা। প্রধানমন্ত্রী ওই সভায় স্পষ্টভাবে নির্দেশনা দিয়েছিলেন যেন পর্যায়ক্রমে দেশের সকল গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনে সৌর প্যানেল স্থাপনের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা হয়। রাষ্ট্রীয় সম্পদের সঠিক ব্যবহার এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই সিদ্ধান্ত ছিল প্রধানমন্ত্রীর অন্যতম একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ।
সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত নির্দেশ দিয়েছেন। এর মধ্যে অন্যতম হলো দেশে সোলার ইনভার্টার উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল আমদানিতে সরকারি প্রণোদনা ও সহায়তা নিশ্চিত করা। সাধারণ মানুষের কাছে সৌরবিদ্যুৎকে সাশ্রয়ী, সহজলভ্য এবং আর্থিকভাবে লাভজনক করার লক্ষ্যে একটি কার্যকর অর্থনৈতিক মডেল প্রণয়নের নির্দেশনাও দিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর এই দূরদর্শী উদ্যোগের ফলে ভবিষ্যতে সাধারণ জনগণও সৌরবিদ্যুতের সুফল ভোগ করতে পারবে, যা দেশের সামগ্রিক জ্বালানি সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে। সরকারি দপ্তরগুলো এই প্রকল্পের মডেল হিসেবে কাজ করলে বেসরকারি খাত ও সাধারণ মানুষ সৌর প্যানেল স্থাপনে আরও বেশি উৎসাহিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রথম পর্যায়ে যে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোকে সৌরবিদ্যুতের আওতায় নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে বঙ্গভবন, তেজগাঁওয়ে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, জাতীয় সংসদ ভবন, সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর, অর্থ মন্ত্রণালয়ের ভবন এবং পরিকল্পনা কমিশন ভবন। এসব ভবনে আধুনিক সৌর প্যানেল বসানোর কার্যক্রম খুব দ্রুতগতিতে শুরু হবে। এই স্থাপনাগুলোতে সৌরবিদ্যুতের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হলে সরকারি কোষাগারে বিদ্যুতের বিলবাবদ ব্যয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে হ্রাস পাবে। পাশাপাশি জ্বালানি সংকটের মতো জাতীয় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এটি একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। সরকারের এই উদ্যোগ কেবল পরিবেশ রক্ষায় অবদান রাখবে না, বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহারকারী দেশ হিসেবে ভাবমূর্তিকে উজ্জ্বল করবে।

পরিশেষে বলা যায়, নবায়নযোগ্য জ্বালানির পথে বাংলাদেশের এই অগ্রযাত্রা কেবল অর্থনৈতিক স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনেই সহায়ক হবে না, বরং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব পৃথিবী নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সাহসী ও বিজ্ঞানমনস্ক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকারি দপ্তরে এক নতুন কর্মসংস্কৃতি তৈরি হবে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে সৌরশক্তির মতো অফুরন্ত উৎস ব্যবহারের এই সরকারি উদ্যোগ দেশের টেকসই উন্নয়নের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে। সরকারি দপ্তরগুলোর এই সফল বাস্তবায়নের ওপরই নির্ভর করবে দেশের ভবিষ্যৎ জ্বালানি মানচিত্র, যা বাংলাদেশকে একটি স্বনির্ভর ও আধুনিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যকে ত্বরান্বিত করবে।