প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দেশজুড়ে বহু জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে নিজেদের প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। দলটির দায়িত্বশীল উচ্চপর্যায়ের সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি এবং সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে সুদীর্ঘ দক্ষতার মূল্যায়নস্বরূপ দলের বর্তমান মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে মনোনীত করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত সুনির্দিষ্ট তফসিল অনুযায়ী আগামী বিশ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবনের মূল অধিবেশন কক্ষে বিরতিহীনভাবে রাষ্ট্রপতি পদের এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংসদ সচিবালয় ও নির্বাচন কমিশন যৌথভাবে সব ধরনের প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন করে এনেছে।
আসন্ন এই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সুশৃঙ্খল ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন করতে নির্বাচন কমিশন এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জাতীয় সংসদের কেবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল। সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণি, বিরোধী দলের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামসহ বিভিন্ন হুইপ এবং সরকারের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ। বৈঠক শেষে চিফ হুইপ গণমাধ্যমকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, সংবিধানের সত্তর অনুচ্ছেদ যেহেতু এখনও সংশোধিত হয়নি, তাই জাতীয় সংসদের কোনো সদস্য দলের দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ভোট প্রদান করার কোনো সুযোগ নেই। যদি কোনো সংসদ সদস্য দলের হুইপ বা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে ভোট দেন, তবে সংবিধান অনুযায়ী তার সংসদ সদস্য পদ বাতিল বলে গণ্য হবে। এছাড়া পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়াটি প্রকাশ্য ব্যালটের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।

এদিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের পক্ষে নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক নোটিশ ও সময়সূচি ইতোমধ্যে জারি করেছেন। ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী আগামী বিশ আগস্ট দুপুর দুইটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে সংসদ কক্ষে ভোটগ্রহণ চলবে। ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ ইতোমধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন আহ্বান করেছেন, যা আগামী সাতাশ আগস্ট বসার কথা রয়েছে। ক্ষমতাসীন দল বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীর নাম পূর্ণাঙ্গভাবে ঘোষণা করা না হলেও, দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা মনোনয়নপত্র সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। গত কয়েকদিন আগে বিএনপির পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে দুটি আনুষ্ঠানিক মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদে একই প্রার্থীর নামে একাধিক মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার আইনগত সুযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে মূল ধারার রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি সংসদের বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যজোটও এই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তাদের নিজেদের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। বিরোধী জোটের পক্ষ থেকে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামানো হয়েছে। জুলাই জাতীয় সনদের রূপরেখা অনুযায়ী এই নির্বাচন সম্পূর্ণ গোপন ব্যালটে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও বিদ্যমান প্রচলিত আইন ও সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে ভোটগ্রহণটি মূলত প্রকাশ্যেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বিরোধী জোট পরাজয়ের সম্ভাবনার কথা জেনেই প্রতীকী ও গণতান্ত্রিক প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবে প্রার্থী দিয়েছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন উপলক্ষে আয়োজিত সাম্প্রতিক সেই যৌথ সভায় নির্বাচন পরিচালনা সংক্রান্ত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। সভা শেষে জানানো হয় যে, ভোটগ্রহণের দিন দেশের বর্তমান (ভারপ্রাপ্ত) রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা, বিরোধীদলীয় নেতা এবং ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের ভোট প্রদানের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তটি সরাসরি টেলিভিশন ও গণমাধ্যমে সম্প্রচার করা হবে। এমনকি ভোটগ্রহণ সমাপ্ত হওয়ার পর ব্যালট গণনা থেকে শুরু করে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটি সরাসরি সম্প্রচার করার সুব্যবস্থা রাখা হচ্ছে, যাতে পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা যায়। সব মিলিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধীনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।