মশাখালীতে যমুনা এক্সপ্রেস আটকে বিক্ষোভে রেলযোগাযোগ বন্ধ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬
  • ২৪ বার
মশাখালীতে যমুনা এক্সপ্রেস আটকে বিক্ষোভে রেলযোগাযোগ বন্ধ
প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার মশাখালী রেলওয়ে স্টেশনে আন্তনগর যমুনা এক্সপ্রেস ট্রেনের স্থায়ী যাত্রাবিরতির দীর্ঘদিনের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে স্থানীয় শত শত সাধারণ মানুষ ও এলাকাবাসী এক নজিরবিহীন অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, বুধবার সকালে জামালপুর থেকে রাজধানী ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী আন্তনগর যমুনা এক্সপ্রেস ট্রেনটি মশাখালী রেলওয়ে স্টেশনের কাছাকাছি পৌঁছালে আন্দোলনকারীরা রেললাইনের ওপর অবস্থান নেন এবং লাইনে লাল কাপড় টাঙিয়ে ট্রেনটির গতি রোধ করেন। এর ফলে আজ সকাল সাতটা কুড়ি মিনিট থেকে ট্রেনটি মশাখালী এলাকায় আটকে থাকে এবং এর প্রভাবে ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথে সব ধরনের ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়। আকস্মিক এই রেললাইন অবরোধ ও ট্রেন আটকের ঘটনার ফলে যাত্রীদের মধ্যে চরম দুর্ভোগ ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে।
মূলত গফরগাঁও রেলওয়ে স্টেশন থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটারের ব্যবধানে অবস্থিত মশাখালী রেলওয়ে স্টেশনটি এলাকার মানুষের যাতায়াতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পয়েন্ট। আন্দোলনকারী ও স্থানীয় এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের জোরালো দাবি হলো, নবগঠিত দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলার ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা ও জনগুরুত্ব বিবেচনা করে মশাখালী স্টেশনে আন্তনগর যমুনা এক্সপ্রেস ট্রেনের একটি স্থায়ী যাত্রাবিরতি নিশ্চিত করতে হবে। গত দশ থেকে বারো দিন ধরে এলাকাবাসী এই যৌক্তিক দাবিতে শান্তিপূর্ণ ও লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে আসছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার সকালে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী শত শত মানুষ রেললাইনে নেমে পড়েন এবং ট্রেন আটকে দিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন শুরু করেন। আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, সংশ্লিষ্ট রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বা সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে মশাখালী স্টেশনে আন্তনগর ট্রেনের স্থায়ী যাত্রাবিরতির বিষয়ে কোনো ধরনের সুনির্দিষ্ট ও আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত তাদের এই আন্দোলন ও অবস্থান কর্মসূচি কোনোভাবেই থামবে না।
এদিকে সকাল সাড়ে আটটা পর্যন্ত প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ট্রেনটি অবরুদ্ধ থাকায় ঢাকা ও ময়মনসিংহের মধ্যে চলাচলকারী বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীরা চরম বিপাকে পড়েন। বিশেষ করে সকালে অফিসগামী চাকরিজীবী, পরীক্ষার্থী, রোগী ও জরুরি কাজে ঢাকামুখী সাধারণ যাত্রীরা চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েন। হুট করে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলরুটের বিভিন্ন স্টেশনে আটকা পড়ে বেশ কয়েকটি আন্তনগর ও লোকাল ট্রেন, যার ফলে যাত্রীদের দুর্ভোগ বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। অবরোধের খবর পাওয়ার সাথে সাথেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পুলিশ বাহিনী পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন ময়মনসিংহ রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকতার হোসেন। তিনি গণমাধ্যমকে জানান যে, খবর পাওয়ার পরপরই রেলওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের দল ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে এবং আন্দোলনকারীদের সাথে আলোচনা চালিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে।
এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, নবগঠিত দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলার মানুষের অর্থনৈতিক ও সামাজিক যোগাযোগ রক্ষায় মশাখালী স্টেশনটি এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে কাজ করছে। দীর্ঘদিন ধরে এই জনপদের মানুষ উন্নত যাতায়াত সুবিধার ক্ষেত্রে চরম বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছেন। দীর্ঘকাল ধরে এই স্টেশনে ঢাকাগামী কোনো গুরুত্বপূর্ণ আন্তনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি না থাকায় স্থানীয় ছাত্রছাত্রী, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী এবং অসুস্থ রোগীদের চিকিৎসার জন্য জেলা শহর বা রাজধানীতে যাতায়াত করতে গিয়ে মারাত্মক ভোগান্তির মুখোমুখি হতে হয়। বহুবার স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত ও মৌখিক আবেদন জানানো সত্ত্বেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় অবশেষে এলাকাবাসী বাধ্য হয়ে রাজপথে এবং রেললাইনে নেমে আসার কঠিন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত এই জনপদের মানুষের নায্য অধিকার আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং আন্দোলনকারীদের সাথে সমঝোতার মাধ্যমে রেলযোগাযোগ দ্রুত স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়া চলছে। দেশের অন্যতম ব্যস্ত এই ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথে হঠাৎ করে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রেলওয়ের শিডিউলে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে এসেছে। রেলওয়ের কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করছেন যে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপে এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মধ্যস্থতায় আলোচনার মাধ্যমে খুব শীঘ্রই এই সংকটের একটি শান্তিপূর্ণ সমাধান বের করা সম্ভব হবে, যার ফলে আটকে থাকা ট্রেনটি তার গন্তব্যের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করতে পারবে এবং এই জনবহুল রুটে পুনরায় স্বাভাবিক ট্রেন চলাচল নিশ্চিত হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত