শরীয়তপুরে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতার নেতৃত্বে মিছিল

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬
  • ২২ বার
শরীয়তপুরে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতার নেতৃত্বে মিছিল
প্রকাশ: ১৪ আগস্ট  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
শরীয়তপুর সদর উপজেলার গঙ্গানগর বাজারে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক লীগের এক কেন্দ্রীয় নেতার সরাসরি নেতৃত্ব ও নির্দেশনায় একটি ঝটিকা মিছিল ও সংক্ষিপ্ত পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আয়োজিত এই কর্মসূচিতে স্থানীয় পর্যায়ের অন্তত পাঁচ শতাধিক আওয়ামী লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও অন্যান্য অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী এবং সমর্থকরা অংশ নেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও আত্মগোপনে থাকার পর হঠাৎ করে এ ধরনের প্রকাশ্যে জমায়েত ও মিছিলের খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো জেলাজুড়ে চাঞ্চল্য এবং তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে অভিযান চালালেও পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মূল অভিযুক্তরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। তবে এই ঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দেওয়া বিবরণে জানা যায়, উক্ত ঝটিকা মিছিল ও সমাবেশের মূল নেতৃত্ব প্রদান করেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ স্বেচ্ছাসেবক লীগের ঢাকা মহানগর উত্তর কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিথুন ঢালী। তিনি মূলত শরীয়তপুর সদর উপজেলার গঙ্গানগর এলাকারই স্থায়ী বাসিন্দা। ২০২৪ সালের গত ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই শরীয়তপুরের স্থানীয় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও অন্যান্য সহযোগী সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভয়ে আত্মগোপনে চলে যান। বিগত বেশ কিছুদিন ধরে দলীয়ভাবে তাদের কোনো ধরনের প্রকাশ্যে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায়নি। তবে এর মাঝেও মাঝে মধ্যে রাতের আঁধারে বা খুব অল্প সময়ের জন্য জেলার বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিল কিংবা সংক্ষিপ্ত সড়ক অবরোধ করার মতো বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটিয়েছিল নিষিদ্ধ সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। এসব অননুমোদিত ও বেআইনি কর্মকাণ্ডের জেরে অতীতেও পুলিশ বিভিন্ন থানায় সুনির্দিষ্ট মামলা দায়ের করেছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে হঠাৎ করেই গঙ্গানগর বাজারে সংঘটিত এই মিছিলের বেশ কিছু ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। আত্মগোপনে থাকা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা ওই ভিডিওগুলো তাদের নিজ নিজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রোফাইল থেকে ব্যাপকভাবে প্রচার করেন। ভিডিও ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ থেকে জানা যায় যে, ডোমসার-গঙ্গানগর-কাজিরহাট সড়কের দক্ষিণ প্রান্ত থেকে একটি সুশৃঙ্খল দলীয় মিছিল অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে গঙ্গানগর বাজারে প্রবেশ করে। মিছিলের একদম সামনের ভাগে একটি বড় আকারের ব্যানার বহন করা হচ্ছিল। ওই ব্যানারে লেখা ছিল ‘১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস ২০২৬, শোক থেকে শক্তি, শোক থেকে জাগরণ’। ব্যানারটিতে জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ছাড়াও ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট নিহত ব্যক্তিবর্গের পরিবারের সকল সদস্যের ছবি স্থান পেয়েছিল। পাশাপাশি তৎকালীন শরীয়তপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ইকবাল হোসেন, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাছিম এবং জাজিরা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোবারক আলী শিকদারের ছবিও ওই ব্যানারে দৃশ্যমান ছিল।
মিছিলটি যখন গঙ্গানগর বাজারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করছিল, তখন মিছিলে অংশগ্রহণকারী নেতাকর্মীরা বিভিন্ন ধরনের সরকারবিরোধী ও দলীয় স্লোগান দিতে শুরু করেন। বিশেষ করে নিষিদ্ধ স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় নেতা মিথুন ঢালীর উচ্চকিত কণ্ঠের স্লোগানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে মিছিলে অংশ নেওয়া অন্য নেতাকর্মীরাও শেখ হাসিনা, শেখ মুজিবুর রহমান ও আওয়ামী লীগের পক্ষে নানা স্লোগান দিতে থাকেন। এ সময় তাদের অনেকের হাতেই বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার পাশাপাশি কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের দলীয় প্রতীকসংবলিত পতাকাও বহন করতে দেখা যায়। মিছিলটি বাজারের শেষ প্রান্তে পৌঁছে গঙ্গানগর-কাজিরহাট সড়কের ওপর অবস্থান নেয় এবং সেখানে একটি সংক্ষিপ্ত পথসভার আয়োজন করা হয়। ওই পথসভায় প্রধান বক্তা ও কেন্দ্রীয় নেতা মিথুন ঢালীকে অত্যন্ত জোরালোভাবে বক্তব্য প্রদান করতে দেখা যায়। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আসন্ন দলীয় বিভিন্ন দিবসকে কেন্দ্র করে এই ধরনের আকস্মিক শোডাউন সাধারণ মানুষের মধ্যে একধরনের আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠার জন্ম দেয়।
এদিকে আকস্মিক এই মিছিল ও পথসভার খবর দ্রুত চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের টনক নড়ে। শরীয়তপুর সদরের পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম গণমাধ্যমকে জানান যে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ কোনো সংগঠনের নেতার নেতৃত্বে শরীয়তপুরে প্রকাশ্য মিছিল ও সমাবেশ করা হচ্ছে—এমন গোপন ও তাৎক্ষণিক সংবাদ পাওয়া মাত্রই দ্রুত সেখানে পুলিশের একটি বিশেষ টিম পাঠানো হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে নেতাকর্মীরা দ্রুত সটকে পড়ার চেষ্টা করে এবং অনেকেই পালিয়ে যায়। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপরতা চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে অন্তত দুজনকে আটক করতে সমর্থ হয়। বর্তমানে আটককৃতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের সমস্ত প্রস্তুতি চলছে। একই সঙ্গে ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে এই ঝটিকা মিছিলের নেপথ্যে থাকা অন্য উসকানিদাতা ও অংশগ্রহণকারী নেতাকর্মীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জন্য পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত