প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
অদম্য মেধা, কঠোর অধ্যবসায় এবং প্রবল ইচ্ছাশক্তির জোরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উচ্চশিক্ষার এক অনন্য সুযোগ অর্জন করেছেন এক সাধারণ রিকশাচালকের সন্তান। বগুড়া জেলার শেরপুর উপজেলার এক দরিদ্র পরিবারের মেধাবী সন্তান নাজমুল হাসান সুইডেনের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্সে অধ্যয়নের জন্য শতভাগ টিউশন ফি মওসহ পূর্ণ বৃত্তি বা ফুল স্কলারশিপ লাভ করেছেন। তবে আর্থিক অসচ্ছলতা এবং বিদেশযাত্রা, আবাসন ও প্রাথমিক জীবনযাপনের ব্যয় বহনের পর্যাপ্ত সামর্থ্য না থাকায় তার এই সোনালী স্বপ্ন একপর্যায়ে গভীর অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছিল। ঠিক সেই সংকটময় মুহূর্তে অদম্য এই তরুণের পাশে দেবদূতের মতো এসে দাঁড়িয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও দেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার প্রত্যক্ষ আর্থিক সহায়তা ও পৃষ্ঠপোষকতায় নাজমুলের সুদূর সুইডেনে উচ্চশিক্ষা অর্জনের স্বপ্ন এখন বাস্তবায়নের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে, যা দেশজুড়ে এক মানবিক ও অনুপ্রেরণাদায়ী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নাজমুল হাসান বগুড়া জেলার শেরপুর উপজেলার খামারকান্দি গ্রামের অত্যন্ত সাধারণ ও প্রান্তিক পরিবারের সন্তান। তার বাবা আয়নাল হক পেশায় একজন খেটে খাওয়া রিকশাচালক। দীর্ঘকাল ধরে কঠোর রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে দিনভর রিকশা চালিয়ে তিনি কোনোমতে নিজের পরিবারের অন্নসংস্থান এবং দুই ছেলের পড়াশোনার খরচ জুগিয়ে আসছেন। তাদের পরিবারের ছোট ছেলে আতিক হাসান সম্প্রতি শেরপুর সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। চরম অর্থনৈতিক সংকটের মাঝেও দুই ভাইয়ের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া এবং নাজমুলের আজকের এই কৃতিত্বের পেছনে রয়েছে তার বাবার অক্লান্ত পরিশ্রম ও ত্যাগের এক সুদীর্ঘ ইতিহাস। বর্তমানে নাজমুল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের মাস্টার্স বা থিসিসের শিক্ষার্থী। প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সহ-মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ছোটবেলা থেকেই জিয়া পরিবারের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি।

সম্প্রতি নিজের মেধা ও যোগ্যতার বলে নাজমুল সুইডেনের খ্যাতনামা University of Skövde-এ মাস্টার্স ইন বায়োসায়েন্সে ভর্তির জন্য শতভাগ টিউশন ফি মওকুফসহ পূর্ণ বৃত্তি অর্জন করেন। এই অর্জন শুধু তার নিজের বা পরিবারের জন্যই নয়, বরং গোটা এলাকার জন্য একটি বিরাট গৌরবের বিষয় ছিল। কিন্তু বৃত্তির আওতায় টিউশন ফি ও স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা নিশ্চিত হলেও সুইডেনের মতো একটি ব্যয়বহুল দেশে যাতায়াতের বিমানভাড়া, আবাসন ব্যবস্থা এবং প্রাথমিক জীবনযাপনের খরচ বহন করার মতো বিত্তবৈভব তার দরিদ্র পরিবারের ছিল না। ফলে আনন্দ ও অর্জনের ঠিক মুহূর্তেই তার পরিবার গভীর হতাশায় নিমজ্জিত হয়। নাজমুল নিজেই জানান যে, ছোটবেলা থেকেই তারেক রহমান তার রাজনৈতিক ও আদর্শিক জীবনের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ অনুপ্রেরণা। জিয়া পরিবারের আদর্শকে পাথেয় করেই তিনি তার জীবন পরিচালনা করে আসছেন। এমন পরিস্থিতিতে নিজের অসহায়ত্ব ও উচ্চশিক্ষার আকুতি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আনার জন্য তিনি বিভিন্ন মহলের শরণাপন্ন হন।
পরবর্তীতে শেরপুরের বিশিষ্ট ব্যক্তি ডা. মনজুর রশিদের আন্তরিক সহযোগিতা এবং প্রধানমন্ত্রীর সহকারী চিকিৎসক ডা. এ.এন.এম. মনোয়ারুল কাদির বিটুর মাধ্যমে নাজমুলের আবেদনপত্র ও তার সার্বিক পরিস্থিতির বিবরণ সরাসরি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে নাজমুলের উচ্চশিক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। গত বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার সুযোগ পান নাজমুল হাসান। এ সময় তার দরিদ্র পিতা আয়নাল হকও সঙ্গে ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সেই সাক্ষাতের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন নাজমুল। তিনি জানান যে, প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত স্নেহের সঙ্গে ও পরম আন্তরিকতায় তাদের কথা শুনেছেন এবং তাকে বুকে টেনে নিয়ে দোয়া করেছেন। পাশাপাশি তাকে কঠোর ও মনযোগ দিয়ে পড়াশোনা করে ভবিষ্যতে দেশের একজন দক্ষ বিশেষজ্ঞ হিসেবে গড়ে ওঠার এবং দেশের মানুষের কল্যাণে নিজেকে আত্মনিয়োগ করার মূল্যবান পরামর্শ দিয়েছেন।

নাজমুল আরও বলেন যে, এই সংকটময় ও কঠিন সময়ে প্রধানমন্ত্রী যদি তার পাশে সহায়তার হাত বাড়িয়ে না দিতেন, তবে হয়তো তার পক্ষে কখনো সুইডেনে গিয়ে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা সম্ভব হতো না। এই সহায়তা তার কাছে কেবল কিছু আর্থিক অনুদান নয়, বরং এটি তার জীবনের নতুন অধ্যায় শুরুর এক বিরাট অনুপ্রেরণা। তিনি এই বিরল সুযোগের সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার করে দেশ ও দশের কল্যাণে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে যারা এই পুরো প্রক্রিয়ায় বিভিন্নভাবে পাশে দাঁড়িয়ে সহযোগিতা করেছেন, তাদের সবার প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। যার মধ্যে ডা. এ.এন.এম. মনোয়ারুল কাদির বিটু, ডা. মনজুর রশিদ এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক নেতাকর্মীদের অবদানের কথা বিশেষভাবে স্মরণ করেন। রিকশাচালকের পরিবারের সন্তান হয়েও কেবল মেধা ও সংগ্রামের জোরে নাজমুলের এই উচ্চশিক্ষার সুযোগ লাভ এবং সরকারের পক্ষ থেকে এমন মানবিক সহায়তা প্রাপ্তি দেশের তরুণ সমাজকে এক নতুন স্বপ্ন দেখাতে শুরু করেছে।