প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের কারাগারে মৃত্যুর গুঞ্জনকে কেন্দ্র করে দেশটিতে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তবে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর গণমাধ্যম শাখা ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস (আইএসপিআর) এই খবরকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে।
আইএসপিআরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইমরান খান জীবিত আছেন এবং রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারেই বন্দি রয়েছেন। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তার মৃত্যুর খবরকে গুজব হিসেবেই দেখছে পাকিস্তানের কর্তৃপক্ষ।
ইমরান খানের মৃত্যুর গুঞ্জনের সূত্রপাত করেন মার্কিনভিত্তিক পাকিস্তানি সাংবাদিক ওয়াজাহাত সাঈদ খান। তিনি ‘ইজ খান স্টিল উইথ আস’ এবং ‘হোয়াট হ্যাপেন্স আফটার খান’ শিরোনামে দুটি ভিডিও প্রতিবেদন প্রকাশ করেন।
এসব প্রতিবেদনে সাংবাদিক দাবি করেন, পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সদর দপ্তর জিএইচকিউ-সংশ্লিষ্ট তিনজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার সঙ্গে তার কথোপকথন হয়েছে। তাদের বক্তব্যের ভিত্তিতে ইমরান খান জীবিত আছেন কি না, তা নিয়ে সেনাবাহিনীর ভেতরেও উদ্বেগ রয়েছে বলে তিনি জানান।
এরপর বিষয়টি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ইমরান খানের সমর্থকদের মধ্যে তৈরি হয় আতঙ্ক ও ক্ষোভ। বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে তার মৃত্যুর খবর নিয়েও নানা ধরনের দাবি ছড়িয়ে পড়ে।
তবে পরবর্তীতে ওয়াজাহাত সাঈদ খান নিজেই স্পষ্ট করেন যে, ইমরান খানের মৃত্যুর বিষয়ে তার কাছে কোনো নথিভুক্ত বা নিশ্চিত প্রমাণ নেই। তার সূত্রগুলো মূলত ইমরান খানের বিষয়ে তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে চরম গোপনীয়তা নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়েছিল।
গুজব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার পর পাকিস্তানের আইএসপিআর আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি নিয়ে অবস্থান জানায়। সংস্থাটি ইমরান খানের মৃত্যুর খবরকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ ও ‘ভিত্তিহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করে।
আইএসপিআরের বক্তব্য অনুযায়ী, ইমরান খান জীবিত এবং বর্তমানে আদিয়ালা কারাগারেই বন্দি রয়েছেন।
ইমরানের পরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্র থেকেও তার জীবিত থাকার দাবি করা হয়েছে। বুশরা বিবির পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, নিয়ন্ত্রিত একটি কারা-সাক্ষাতের সময় তাদের কারাগারের ভেতরের সিসিটিভি মনিটর দেখানো হয়। সেখানে ইমরান খানকে নিজে হেঁটে চলাফেরা করতে দেখা গেছে বলে তারা দাবি করেন।
তবে এসব দাবির মধ্যেও ইমরানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ পুরোপুরি দূর হয়নি।
পিটিআই নেতারা বলছেন, ইমরান খানের জীবন ও স্বাস্থ্য নিয়ে কোনো ধরনের গুজব বা অনুমানের সুযোগ থাকা উচিত নয়। তার চিকিৎসা ও শারীরিক অবস্থার বিষয়ে স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশের দাবি জানিয়েছে দলটি।
দলটির নেতারা ইমরানের ব্যক্তিগত চিকিৎসক, বোন এবং আইনজীবীদের তার সঙ্গে অবাধে সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে তা প্রকাশ্যে জানানোর কথাও বলা হয়েছে।
পিটিআইয়ের পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছে, ইমরানের নিরাপত্তা ও চিকিৎসা নিয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা না হলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে। দেশজুড়ে বড় ধরনের বিক্ষোভের আশঙ্কার কথাও জানিয়েছেন দলটির নেতারা।
ইমরানের সমর্থকদের রাওয়ালপিন্ডির দিকে মিছিল করার প্রস্তুতির খবরও সামনে এসেছে। ফলে গুজবকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ইমরান খানের আইনজীবীরাও বিষয়টি নিয়ে সক্রিয় হয়েছেন। পিটিআইয়ের আইনজীবীরা পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।
তারা ইমরানের চিকিৎসা-সুবিধা নিশ্চিত করা এবং কারাগারে তার মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগসংক্রান্ত আবেদনের দ্রুত শুনানির দাবি জানিয়েছেন।
ইমরান খান দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে বন্দি থাকায় তার স্বাস্থ্য, চিকিৎসা এবং কারা-সাক্ষাতের সুযোগ নিয়ে পিটিআই নিয়মিত অভিযোগ করে আসছে। সর্বশেষ মৃত্যুর গুঞ্জন সেই উদ্বেগকে আরও তীব্র করেছে।
এখন পর্যন্ত পাকিস্তানের সেনাবাহিনী এবং ইমরানের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলোর বক্তব্য হলো—ইমরান খান জীবিত এবং আদিয়ালা কারাগারে রয়েছেন। তবে তার স্বাস্থ্য নিয়ে রাজনৈতিক ও জনমনে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা দূর করতে আরও স্বচ্ছ তথ্য ও স্বাধীনভাবে স্বাস্থ্য পরীক্ষার দাবি জোরালো হচ্ছে।