প্রকাশ: ১৭ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
মার্কিন সেনাকে হত্যা বা আটক করে ইরানি কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করতে পারলে ৫০০ কোটি তুমান, যা প্রায় ৩০ হাজার মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ, পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। দেশটির সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল আমির হাতামি এ ঘোষণা দিয়েছেন বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ। খবর মেহের নিউজ এজেন্সির।
জাতীয় সাংবাদিক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে হাতামি এই পুরস্কার কর্মসূচির কথা জানান। তিনি বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিরক্ষা কার্যক্রমে সহায়তার জন্য সাধারণ মানুষের অর্থায়নে পরিচালিত একটি উদ্যোগের আওতায় এই অর্থ দেওয়া হবে।
হাতামির ঘোষণার অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি ‘আগ্রাসী মার্কিন সেনা’ হত্যা বা আটক করে ইরানি কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করতে পারলে তাকে ৫০০ কোটি তুমান পুরস্কার দেওয়া হবে। কোনো ইরানি নারী এ ধরনের কাজে সফল হলে পুরস্কারের পরিমাণ দ্বিগুণ করে ১ হাজার কোটি তুমান করার কথাও জানান তিনি।
এ ছাড়া অভিযানে ব্যবহৃত অস্ত্রের বাজারমূল্যের দ্বিগুণ দাম দিয়ে সেনাবাহিনী সেটি কিনে নেবে এবং পরে একটি বিশেষ সামরিক জাদুঘরে সংরক্ষণ করা হবে বলে জানান ইরানের সেনাপ্রধান।
হাতামি আরও দাবি করেন, ইরানের প্রতিরক্ষা ও আক্রমণাত্মক সামরিক সক্ষমতা দ্রুত পুনর্গঠন ও সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের সময় এসব সক্ষমতার কিছু অংশ প্রদর্শিত হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
ইরানের সামরিক সক্ষমতা সম্পর্কে প্রতিপক্ষরা বড় ধরনের ভুল হিসাব করেছে বলে মন্তব্য করে হাতামি ভবিষ্যতে এমন ভুলের পুনরাবৃত্তি না করার জন্য সতর্ক করেন। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ইরানের কোনো সীমাবদ্ধতা নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ইরানের সামরিক ও নিরাপত্তা কাঠামোয় নতুন করে পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান হাতামি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আঞ্চলিক সামরিক উত্তেজনা যত বাড়বে, ইরানও তত বেশি দৃঢ় অবস্থান নেবে।
মার্কিন সেনাদের বিরুদ্ধে পুরস্কার ঘোষণার এই খবর এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন হরমুজ প্রণালি ও মধ্যপ্রাচ্যকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র রয়েছে। এ ধরনের ঘোষণা দুই দেশের চলমান সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তবে ইরানের ঘোষণাটি দেশটির সরকারি সূত্রের বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত হয়েছে। পুরস্কার কর্মসূচির বাস্তবায়ন, এর আইনি কাঠামো এবং ঘোষিত অর্থ বাস্তবে কীভাবে দেওয়া হবে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।