প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
চট্টগ্রাম নগরের কে সি দে রোডের শহীদ মিনারের আন্ডারগ্রাউন্ড থেকে ডিবি পরিচয়ে এক ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে অর্থ ও স্বর্ণালংকার লুটের ঘটনায় ভুয়া ডিবি চক্রের মূলহোতা সাজু মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) চট্টগ্রাম মেট্রো।
মঙ্গলবার পিবিআই চট্টগ্রাম মহানগর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।
পিবিআই জানায়, ২০২৪ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর ব্যবসায়ী পুলক দাশকে (৪৫) ডিবি পরিচয়ে তুলে নিয়ে যায় একটি দুর্বৃত্ত চক্র। নগরের কে সি দে রোডের শহীদ মিনারের আন্ডারগ্রাউন্ড এলাকা থেকে তাকে তুলে নেওয়ার পর অজ্ঞাত একটি স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে মুখ বাঁধা অবস্থায় তাকে গাড়ি থেকে ফেলে দেয় চক্রের সদস্যরা।
এ সময় পুলক দাশের কাছে থাকা স্বর্ণ বিক্রির নগদ ১৭ লাখ ৯০ হাজার ৫২০ টাকা, স্বর্ণালংকার, মোবাইল ফোনসহ প্রায় ১ কোটি ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৫০ টাকা মূল্যের মালামাল লুট করে নেওয়া হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
ঘটনার পর ২০২৪ সালের ৮ অক্টোবর কোতোয়ালী থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী পুলক দাশ। মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনায় আদালত তদন্তের দায়িত্ব পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) দেন।
পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর পুলিশ সুপার এস এম রফিকুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে জানান, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ভুয়া ডিবি পরিচয়ধারী চক্রের মূলহোতা সাজু মিয়াকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
পুলিশ সুপার বলেন, সাজু মিয়া আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। তার দেওয়া তথ্য এবং মামলার তদন্তে পাওয়া বিভিন্ন তথ্য থেকে চক্রটির কার্যক্রম সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ভুয়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করে অপরাধ সংঘটনের ঘটনায় চক্রটির আরও সদস্য জড়িত থাকতে পারেন। গ্রেপ্তার সাজু মিয়ার জবানবন্দি এবং তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
পিবিআই জানিয়েছে, মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে তাদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনই প্রকাশ করা হয়নি।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করে অপহরণ, চাঁদাবাজি ও লুটের মতো অপরাধের ঘটনা সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করে। বিশেষ করে ডিবি বা পুলিশের পরিচয় দিয়ে কাউকে আটক করার ক্ষেত্রে পরিচয় যাচাই না করলে বড় ধরনের প্রতারণার শিকার হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
পুলক দাশকে তুলে নিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও স্বর্ণালংকার লুটের ঘটনায় মূলহোতা হিসেবে সাজু মিয়ার গ্রেপ্তার মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি বলে মনে করছে পিবিআই। এখন তার জবানবন্দির ভিত্তিতে চক্রটির বাকি সদস্যদের গ্রেপ্তার এবং লুট হওয়া মালামালের বিষয়ে তথ্য উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।