হানি ট্র্যাপের অভিযোগ, প্রেমিকের ২২ লাখ টাকা খোয়ানোর দাবি

ফারহান ফারাবী
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬
  • ৩৬ বার

প্রকাশ: ১৭ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়, এরপর বন্ধুত্ব থেকে প্রেম—আর সেই সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে অর্থ ও দামি উপহার হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শীতল আক্তার খুশির বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের দাবি, প্রেম বা বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে ঘনিষ্ঠতা তৈরির পর নানা অজুহাতে তাদের কাছ থেকে অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নেওয়া হয়েছে।

যুগান্তরের অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য, ভুক্তভোগীদের বক্তব্য, আর্থিক লেনদেনের নথি এবং সংশ্লিষ্ট মামলার কাগজপত্রে এমন অভিযোগের কথা উঠে এসেছে। তবে এসব অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি এবং অভিযুক্ত খুশি দাবি করেছেন, তার কাছে দেওয়া অর্থের একটি অংশ উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছিল।

খুশির বিরুদ্ধে করা একটি মামলা বর্তমানে বিচারাধীন। মামলার নথি অনুযায়ী, পাকিস্তানি নাগরিক সালমান আজিজের কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তদন্তে ব্যাংক লেনদেনের তথ্যও যাচাই করা হয়েছে।

সালমানের সঙ্গে পরিচয় অনলাইনে

সালমান আজিজ বর্তমানে সৌদি আরবে বসবাস করছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে বিগো লাইভ অ্যাপের মাধ্যমে শীতল আক্তার খুশির সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে তাদের সম্পর্ক বন্ধুত্ব থেকে প্রেমে গড়ায়।

সালমানের দাবি, বিয়ের প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে তিনি খুশি ও তার পরিবারের বিভিন্ন খরচ বহন করেন। তার কাছ থেকে নগদ অর্থের পাশাপাশি স্বর্ণালংকার, এসি, আইফোনসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী নেওয়া হয় বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

সালমানের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি বিভিন্ন সময়ে খুশিকে বিপুল পরিমাণ অর্থ দিয়েছেন। তার দাবি, মোট অর্থ ও সামগ্রীর মূল্য ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকার মতো। তবে এই দাবির পুরোটা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

তদন্তে উঠে এসেছে প্রায় ২০ লাখ টাকার লেনদেন

মামলার তদন্তে সালমানের কাছ থেকে খুশির কাছে পাঠানো অর্থের হিসাবও যাচাই করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে বিভিন্ন সময়ে মোট ১৯ লাখ ৬৯ হাজার ৯৪৩ টাকা পাঠানোর তথ্য পাওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে।

সালমানের অভিযোগ, একপর্যায়ে তিনি ঢাকায় এসে বিয়ের বিষয়ে এগিয়ে যান এবং খুশিকে আংটিও পরান। পরে তার কাছে একটি ফ্ল্যাট ও ৫০ লাখ টাকা দেনমোহর দাবি করা হয় বলে দাবি করেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে মতবিরোধের পর তিনি অর্থ দেওয়া বন্ধ করেন এবং মামলা করেন।

মামলায় খুশির পাশাপাশি তার বাবা সজিবুর রহমানসহ আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

খুশির বক্তব্য ভিন্ন

অভিযোগের বিষয়ে শীতল আক্তার খুশি টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেননি। তবে তার দাবি, সালমান তাকে যেসব অর্থ দিয়েছেন, সেগুলো তিনি নিজের ইচ্ছায় উপহার হিসেবে দিয়েছেন।

খুশির বক্তব্য অনুযায়ী, সালমান তাকে বিয়ে করতে চেয়েছিলেন এবং তাদের মধ্যে সম্পর্কও ছিল। তবে তিনি দাবি করেন, তিনি সালমানের কাছে অর্থ দাবি করেননি।

এ কারণে অর্থ লেনদেনের বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। মামলাটি বিচারাধীন থাকায় অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।

আরও সম্পর্কের অভিযোগ

অনুসন্ধানে আরও কয়েকজন তরুণের সঙ্গে খুশির ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে যুগান্তর। তাদের একজনের দাবি, খুশির সঙ্গে তার বিয়েও হয়েছিল। পরে তাদের দাম্পত্য সম্পর্কে বিরোধ তৈরি হয় এবং বিচ্ছেদের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

ওই ব্যক্তির অভিযোগের মধ্যে মাদক সেবনের বিষয়ও রয়েছে। তবে খুশি এসব অভিযোগের বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন এবং জানিয়েছেন, তিনি ওই সম্পর্ক থেকে আলাদা হতে চান।

খুশি আরও স্বীকার করেছেন যে তার একাধিক পুরুষ বন্ধু ও সম্পর্ক ছিল। তার বক্তব্য, জীবনে বন্ধুত্ব ও সম্পর্ক থাকা অস্বাভাবিক কিছু নয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতারণার ঝুঁকি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে দ্রুত ঘনিষ্ঠ হয়ে পড়া এবং সেই সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে অর্থ বা মূল্যবান সামগ্রী নেওয়ার ঘটনা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে আসছেন। অনলাইন প্ল্যাটফর্মে পরিচয়ের ক্ষেত্রে ব্যক্তির প্রকৃত পরিচয় যাচাই না করে আবেগনির্ভর সিদ্ধান্ত নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

বিশেষ করে প্রেম, বিয়ে বা ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের প্রতিশ্রুতির সঙ্গে যদি নিয়মিত অর্থ চাওয়া, দামি উপহার দাবি কিংবা ব্যক্তিগত আর্থিক তথ্য সংগ্রহের বিষয় যুক্ত হয়, তাহলে সেটিকে সতর্কতার সঙ্গে দেখা প্রয়োজন।

আইনশৃঙ্খলা ও অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে ডিজিটাল যোগাযোগ, ব্যাংক লেনদেন, উপহারের তথ্য এবং অন্যান্য নথি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

তবে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রতারণা বা হানি ট্র্যাপের অভিযোগ ওঠা মানেই তিনি অপরাধী—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। অভিযোগের সত্যতা, সংশ্লিষ্ট প্রমাণ এবং উভয় পক্ষের বক্তব্য যাচাই করে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই এ ক্ষেত্রে নির্ধারক।

বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন >> 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত