ফল আমদানিতে নগদ মার্জিন প্রত্যাহার, কমতে পারে দাম

ফারহান ফারাবী
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬
  • ৫ বার

প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ফল আমদানির ঋণপত্র (এলসি) খোলার ক্ষেত্রে শতভাগ নগদ মার্জিন রাখার বাধ্যবাধকতা প্রত্যাহার করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে ফল আমদানির এলসির মার্জিন নির্ধারণ করা যাবে।

ডলার বাজার ও বৈদেশিক লেনদেনে স্থিতিশীলতা ফিরে আসার পাশাপাশি দেশের বাজারে ফলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রোববার (১৬ আগস্ট) এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা দেশের সব ব্যাংকে পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারে বলা হয়েছে, শিশু, রোগী, বয়স্ক ব্যক্তি ও গর্ভবতী মায়েদের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় ফল গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টিকর উপাদান। জনস্বাস্থ্য ও পুষ্টির চাহিদা বিবেচনায় ফল আমদানির প্রক্রিয়া সহজ করতে শতভাগ নগদ মার্জিনের শর্ত প্রত্যাহার করা হয়েছে।

নতুন সিদ্ধান্তের ফলে আমদানিকারকদের ফল আমদানির জন্য এলসি খোলার সময় আগের মতো পুরো অর্থ নগদে জমা রাখতে হবে না। সংশ্লিষ্ট ব্যাংক আমদানিকারকের সঙ্গে সম্পর্ক, আর্থিক সক্ষমতা ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় বিবেচনা করে মার্জিন নির্ধারণ করতে পারবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক আশা করছে, এলসি খোলার ক্ষেত্রে এই শর্ত শিথিল হওয়ায় বাজারে ফল আমদানিকারকদের মধ্যে প্রতিযোগিতা বাড়বে। এর ফলে আমদানির পরিমাণ ও সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে এবং ভোক্তারা তুলনামূলক কম দামে ফল কেনার সুযোগ পাবেন।

২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপের কারণে ফলসহ কিছু বিলাসজাতীয় ও আমদানি বিকল্প পণ্যের ক্ষেত্রে শতভাগ নগদ মার্জিন আরোপ করা হয়েছিল। এর ফলে এসব পণ্য আমদানিতে ব্যাংক থেকে এলসি খোলার সময় আমদানিকারকদের পুরো আমদানি মূল্যের সমপরিমাণ অর্থ নগদে জমা রাখতে হতো।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, বর্তমানে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার ও বৈদেশিক লেনদেনে কাঙ্ক্ষিত স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে। এ পরিস্থিতি বিবেচনায় ফল আমদানির ক্ষেত্রে আগের কঠোর শর্ত শিথিল করা হয়েছে।

তবে অন্যান্য বিলাসজাতীয় পণ্যের ক্ষেত্রে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে আরোপ করা শতভাগ নগদ মার্জিনের নিয়ম এখনো বহাল থাকবে। অর্থাৎ নতুন সিদ্ধান্তটি শুধু ফল আমদানির এলসি খোলার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে।

ফল আমদানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের জন্য এই সিদ্ধান্ত আমদানি ব্যয় ও নগদ অর্থের চাপ কমাতে সহায়ক হতে পারে। একই সঙ্গে বাজারে সরবরাহ বাড়লে আমদানি করা ফলের দামও তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

বাংলাদেশের ফলের বাজারে আমদানি করা ফলের একটি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে। বিশেষ করে স্থানীয় উৎপাদনের বাইরে থাকা বিভিন্ন জাতের আপেল, কমলা, আঙুর, নাশপাতি ও অন্যান্য ফলের চাহিদা মেটাতে আমদানির ওপর নির্ভর করতে হয়। এলসি খোলার শর্ত সহজ হওয়ায় এসব ফলের আমদানি কার্যক্রমে গতি আসতে পারে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই পদক্ষেপ মূলত বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় স্থিতিশীলতার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আমদানিকারকদের জন্য অর্থায়নের সুযোগ বাড়লে বাজারে সরবরাহ ও প্রতিযোগিতা দুটোই বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে ফলের খুচরা বাজারে এই সিদ্ধান্তের প্রকৃত প্রভাব নির্ভর করবে আমদানি ব্যয়, আন্তর্জাতিক বাজারদর, পরিবহন খরচ, ডলারের বিনিময় হার এবং স্থানীয় বাজার ব্যবস্থাপনার ওপর। এসব ক্ষেত্রে স্থিতিশীলতা থাকলে এলসি মার্জিন কমানোর সুফল ভোক্তা পর্যায়েও পৌঁছাতে পারে।

বিস্তারিত জানতে আরো পড়ুন>> 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত