৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট, প্রথম ভোট হাফিজের

ফারহান ফারাবী
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬
  • ১৭ বার

প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

৩৫ বছর পর আবারও বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের সরাসরি ভোট গ্রহণ হচ্ছে। বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় জাতীয় সংসদের সংসদকক্ষে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শুরু হয়। ভোটের শুরুতেই রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনরত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভোট দেন।

ভোট গ্রহণ চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। ভোট শেষে সংসদকক্ষেই ব্যালট গণনা করা হবে এবং নির্বাচনী কর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন ফলাফল ঘোষণা করবেন। পরে নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করা হবে।

এবার রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দুজন। তাঁরা হলেন বিএনপির সদ্য সাবেক মহাসচিব ও মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ।

মির্জা ফখরুল সংসদ সদস্য হওয়ায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন। রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের দিন তাঁর সংসদীয় আসন শূন্য হবে। ভোট গ্রহণ শুরুর আগেই তিনি সংসদে পৌঁছান। অন্যদিকে অলি আহমদ সংসদ সদস্য না হওয়ায় ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না।

দুপুর ২টায় পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন উপলক্ষে ডাকা বিশেষ বৈঠক শুরু হয়। শুরুতে সংসদকক্ষের মাইকে সামান্য ত্রুটি দেখা দিলেও অল্প সময়ের মধ্যেই তা ঠিক করা হয়।

এরপর নির্বাচনী কর্তা সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন ভোটার সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন। তিনি জানান, সংবিধানের ৪৮(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন।

সিইসি জানান, বাংলা নামের আদ্যক্ষর অনুযায়ী ব্যালটে প্রথম প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন অলি আহমদ। তাঁর প্রস্তাবক বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান এবং সমর্থক এনসিপির সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিন। দ্বিতীয় প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রস্তাবক আবদুল মঈন খান এবং সমর্থক গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

১৯৯১ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের ভোটদানের পদ্ধতিও ব্যাখ্যা করেন সিইসি। এরপর শুরু হয় ভোট গ্রহণ।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট গোপন ব্যালটে হচ্ছে না। সংসদ সদস্যদের ব্যালটে পছন্দের প্রার্থীর নামের পাশে পূর্ণ নাম লিখে স্বাক্ষর করতে হচ্ছে। প্রথমে ব্যালট পেপারের মুড়ি অংশে পূর্ণ নাম লিখে ও স্বাক্ষর করে ব্যালট গ্রহণ করতে হচ্ছে। পরে মূল ব্যালটে পছন্দের প্রার্থীর নামের পাশে নির্ধারিত স্থানে পূর্ণ নাম লিখে স্বাক্ষর করে তা ব্যালট বাক্সে ফেলতে হচ্ছে।

রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনরত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালও সংসদ সদস্য হিসেবে ভোটার তালিকায় রয়েছেন।

মির্জা ফখরুলের জয় কার্যত নিশ্চিত

বর্তমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে বিএনপির একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়া কার্যত নিশ্চিত। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ সদস্যরা দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দিতে পারেন না। ফলে দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে বিএনপির সংসদ সদস্যদের ভোট দেওয়ার সুযোগ নেই।

তবে একাধিক প্রার্থী থাকায় নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ভোট গ্রহণ করতে হচ্ছে। এ কারণে ফলাফল আগে থেকেই অনেকটা নিশ্চিত হলেও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন এবার আনুষ্ঠানিক ভোটের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

গত ২৪ জুলাই আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেন। তাঁর পদত্যাগের পর রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হয়। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় ৬ আগস্ট নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।

সংসদের অধিবেশন নয়, বিশেষ বৈঠক

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সময় জাতীয় সংসদের নিয়মিত অধিবেশন চলমান নেই। এ কারণে ভোট গ্রহণের জন্য সংসদ সদস্যদের নিয়ে আলাদা বৈঠক ডাকা হয়েছে। এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করার পাশাপাশি নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার।

নির্বাচিত রাষ্ট্রপতির শপথ আগামীকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টায় বঙ্গভবনে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম।

২৫০ বনাম ৯০

১৯৯১ সালে বাংলাদেশে সংসদীয় সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের পর প্রথমবার সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়েছিল। এরপর পরবর্তী সাতজন রাষ্ট্রপতি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। এবার দ্বিতীয়বারের মতো সংসদ সদস্যরা ভোট দিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করছেন।

বর্তমান জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসনসহ মোট আসন ৩৫০টি। তবে আদালতের নির্দেশের কারণে চট্টগ্রাম-৪ আসনের ফলাফল এখনো ঘোষণা করা হয়নি। ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটার সংসদ সদস্যের সংখ্যা ৩৪৯।

এর মধ্যে বিএনপির সংসদ সদস্য ২৪৭ জন। দলটির মিত্র বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), গণ অধিকার পরিষদ ও গণসংহতি আন্দোলনের একজন করে সদস্য রয়েছেন। সব মিলিয়ে বিএনপি জোটের সদস্য সংখ্যা ২৫০।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের সংসদ সদস্য রয়েছেন ৯০ জন। তাঁদের মধ্যে জামায়াতের ৭৭ জন এবং জামায়াতের সমর্থনে নির্বাচিত জাগপার একজন সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য রয়েছেন। এ ছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আটজন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের তিনজন এবং খেলাফত মজলিসের একজন সদস্য রয়েছেন।

বর্তমান সংসদে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের একজন এবং আটজন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যও রয়েছেন।

সংসদে বিএনপি জোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা এবং সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জয় প্রায় নিশ্চিত। তবু ৩৫ বছর পর দ্বিতীয়বারের মতো সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আয়োজন হওয়ায় এবারের নির্বাচন রাজনৈতিকভাবে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

বিস্তারিত জানতে আরো পড়ুন>> 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত