খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেলেন আফরোজা খানম রিতা

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬
  • ১৩ বার
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেলেন আফরোজা খানম রিতা

প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মন্ত্রিসভায় প্রথম দফার বড় ধরনের রদবদলে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আফরোজা খানম রিতাকে। শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে মন্ত্রীদের দপ্তর বণ্টন ও পুনর্বণ্টনসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারির পর বিষয়টি নিশ্চিত হয়। এর মধ্য দিয়ে দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় ছয় মাসের মাথায় নতুন মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে যাচ্ছেন মানিকগঞ্জ-৩ আসনের এই সংসদ সদস্য।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায় এটি প্রথম বড় ধরনের দপ্তর পুনর্বিন্যাস। নতুন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের শপথ গ্রহণের পাশাপাশি কয়েকজন বর্তমান মন্ত্রীর দায়িত্বেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। মন্ত্রিসভা গঠনের ছয় মাসের মধ্যে এই রদবদল সরকারের প্রশাসনিক কাঠামো ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব বণ্টনে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

আফরোজা খানম রিতা চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি বিমান চলাচল ও পর্যটন খাতে সুশাসন, স্বচ্ছতা এবং সেবার মান উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। সাম্প্রতিক সময়েও তিনি বিমান খাতের বিভিন্ন অনিয়ম ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা প্রকাশ্যে বলেছেন।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, আফরোজা খানম রিতা ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানিকগঞ্জ-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এর পর বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার গঠনের সময় তাঁকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। সরকারি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটেও তাঁকে ওই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।

এবার খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ায় তাঁর সামনে একেবারেই ভিন্ন ধরনের প্রশাসনিক ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম সরাসরি দেশের খাদ্যনিরাপত্তা, সরকারি খাদ্য মজুত, খাদ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিতরণ ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত। একই সঙ্গে বাজারে খাদ্য সরবরাহ পরিস্থিতি, দুর্যোগ বা সংকটের সময়ে খাদ্য ব্যবস্থাপনা এবং সাধারণ মানুষের কাছে সরকারি খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও মন্ত্রণালয়টির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশের মতো বিপুল জনসংখ্যার দেশে খাদ্য ব্যবস্থাপনা সবসময়ই সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকারপূর্ণ বিষয়। উৎপাদন ভালো হলেও খাদ্যশস্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও সঠিক সময়ে সঠিক জায়গায় সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে সাধারণ মানুষের ওপর তার প্রভাব পড়তে পারে। ফলে নতুন দায়িত্বে আফরোজা খানম রিতার সামনে প্রশাসনিক দক্ষতার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা বোঝার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের বর্তমান ব্যবস্থাপনাতেও রদবদল এসেছে। এতদিন খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ একই সঙ্গে কৃষি ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছিলেন। নতুন দপ্তর বণ্টনের ফলে খাদ্য মন্ত্রণালয়ে আফরোজা খানম রিতাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ পরিবর্তনের ফলে খাদ্য ব্যবস্থাপনায় সরকারের নতুন নীতিগত অগ্রাধিকার কী হবে, সেদিকেও নজর থাকবে সংশ্লিষ্ট মহলের।

মন্ত্রিসভার এই রদবদলের অংশ হিসেবে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে পরিবর্তন এসেছে। বিএনপির জোটসঙ্গী বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থ তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন। এর আগে এই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ছিলেন জহির উদ্দিন স্বপন। তাঁকে মন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে সরিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা করা হয়েছে।

অন্যদিকে এতদিন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতকে মন্ত্রী করা হয়েছে এবং তাঁকে একই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ আফরোজা খানম রিতা খাদ্য মন্ত্রণালয়ে যাওয়ার পর বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে নেতৃত্বের দায়িত্ব থাকছে রশিদুজ্জামান মিল্লাতের হাতে।

মন্ত্রিসভার আরেকটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হলো, নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দায়িত্ব নেওয়ার পর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন মঈন খান। এছাড়া নতুন মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরীকে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ওই পদটি এর আগে দীপেন দেওয়ান পদত্যাগ করার পর শূন্য হয়েছিল। একই সময়ে শামীম কায়সার লিংকন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং হুমায়ুন কবির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন।

নতুন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের শপথও অনুষ্ঠিত হয়েছে শুক্রবার। বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাঁদের শপথ পড়ান। এর আগে একই দিনে রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মির্জা ফখরুল। রাষ্ট্রপতির শপথের পরপরই মন্ত্রিসভার সদস্যদের দপ্তর পুনর্বণ্টনের বিষয়টি সামনে আসে। রাতের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে।

আফরোজা খানম রিতার নতুন দায়িত্বের দিকে বিশেষ নজর থাকার আরেকটি কারণ হলো, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার সরাসরি সম্পর্ক। খাদ্যপণ্যের সরবরাহ, সরকারি গুদামে খাদ্যশস্যের মজুত এবং প্রয়োজনের সময় খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত করা—এসব বিষয় মানুষের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। ফলে নতুন মন্ত্রীর সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রমের প্রভাব প্রশাসনের গণ্ডি পেরিয়ে সাধারণ মানুষের জীবনেও প্রতিফলিত হতে পারে।

রাজনীতির পাশাপাশি ব্যবসা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডেও আফরোজা খানম রিতার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, তিনি মানিকগঞ্জের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হারুনার রশিদ খান মুন্নুর কন্যা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হিসাববিজ্ঞানে পড়াশোনা শেষে তিনি ব্যবসায় যুক্ত হন এবং মুন্নু গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন উদ্যোগও যুক্ত রয়েছে।

রাজনৈতিক জীবনেও তিনি দীর্ঘদিন বিএনপির সঙ্গে যুক্ত। ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে মানিকগঞ্জ-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর তাঁকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। দায়িত্ব নেওয়ার পর বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন খাতে তিনি আধুনিকায়ন, স্বচ্ছতা ও সুশাসনের কথা বলেছেন। আগস্টের শুরুতেও তিনি বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার সরকারি পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন।

এখন নতুন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে তাঁর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার সামনে নতুন পরীক্ষা শুরু হচ্ছে। খাদ্যনিরাপত্তা ও সরকারি খাদ্য ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা, স্বচ্ছতা এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের পাশাপাশি কৃষক ও ভোক্তার স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য রাখাও গুরুত্বপূর্ণ হবে। বিশেষ করে বাজার পরিস্থিতি ও খাদ্যশস্যের সরবরাহ নিয়ে জনমনে উদ্বেগ তৈরি হলে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের কার্যকর ভূমিকা প্রত্যাশিত হবে।

সরকারের মন্ত্রিসভা পুনর্বিন্যাসের এই সময়ে আফরোজা খানম রিতার নতুন দায়িত্বকে তাই শুধু একজন মন্ত্রীর দপ্তর পরিবর্তন হিসেবে দেখার সুযোগ কম। এর মাধ্যমে সরকারের খাদ্য ব্যবস্থাপনা ও জনকল্যাণমূলক নীতিতে নতুন নেতৃত্বের সূচনা হলো। আগামী দিনে খাদ্য সংগ্রহ, মজুত, সরবরাহ এবং সাধারণ মানুষের খাদ্যপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে তিনি কী ধরনের উদ্যোগ নেন, সেটিই হবে তাঁর নতুন দায়িত্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মূল্যায়নের ক্ষেত্র।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত