বাংলা কিউআরে মার্চেন্ট ৩০ লাখ ছাড়াল

ফারহান ফারাবী
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬
  • ১৭ বার

প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলা কিউআরভিত্তিক লেনদেনে দ্রুত আগ্রহ বাড়ছে। মার্চেন্টদের ওপর ন্যূনতম ১ শতাংশ চার্জের বাধ্যবাধকতা প্রত্যাহার এবং লেনদেন খরচে প্রণোদনার সিদ্ধান্তের পর এ ব্যবস্থায় যুক্ত মার্চেন্টের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বাংলা কিউআরে মার্চেন্ট সংখ্যা ৩০ লাখ ছাড়িয়ে ৩০ লাখ ৩১ হাজার ৯০৮টিতে দাঁড়িয়েছে।

কোডভিত্তিক লেনদেনে বাংলা কিউআর বাধ্যতামূলক হওয়ার প্রথম মাস জুলাই শেষে মার্চেন্ট সংখ্যা ছিল ২৪ লাখ ২৫ হাজার ১৩৩। অর্থাৎ অল্প সময়ের ব্যবধানে প্রায় ছয় লাখ নতুন মার্চেন্ট যুক্ত হয়েছে। একই সঙ্গে লেনদেনের পরিমাণও দ্রুত বাড়ছে। গত ১৬ থেকে ২২ আগস্ট সময়ে বাংলা কিউআরে মোট ৭৭৩ কোটি টাকা পরিশোধ হয়েছে। এতে দৈনিক গড় লেনদেন দাঁড়িয়েছে ১১০ কোটি ৩৮ লাখ টাকা।

আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহেও দৈনিক গড় লেনদেন ছিল ৯৩ কোটি ২৬ লাখ টাকা। এর আগের সপ্তাহে গড় লেনদেন ছিল ৭০ কোটি টাকার কম। ফলে মাত্র কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে বাংলা কিউআরের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক ক্যাশলেস লেনদেন বাড়াতে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। মার্চেন্টদের উৎসাহিত করতে গত ১০ আগস্ট দুটি পৃথক নির্দেশনা দেওয়া হয়। এর একটির মাধ্যমে বাংলা কিউআর পরিশোধে মার্চেন্টের কাছ থেকে ন্যূনতম ১ শতাংশ চার্জ নেওয়ার বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়া হয়েছে।

অন্য নির্দেশনায় লেনদেন ব্যয়ের একটি অংশ প্রণোদনা হিসেবে দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানানো হয়। আগামী ১ অক্টোবর থেকে প্রাথমিকভাবে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত প্রতিটি লেনদেনে একুয়্যারিং প্রতিষ্ঠান প্রতি ১০০ টাকায় ১০ পয়সা এবং ইস্যুয়িং প্রতিষ্ঠান ২০ পয়সা হারে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ভর্তুকি পাবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২৩ সালে আন্তঃব্যাংক কোডভিত্তিক লেনদেন নিষ্পত্তির জন্য বাংলা কিউআর চালু করে। এতদিন এটি বাধ্যতামূলক ছিল না। তবে ‘এক দেশ এক কিউআর’ নীতির আওতায় গত ১ জুলাই থেকে ব্যাংক, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ও মোবাইল ওয়ালেটের কোডভিত্তিক লেনদেনে বাংলা কিউআর বাধ্যতামূলক করা হয়।

এই ব্যবস্থার উদ্দেশ্য হলো লেনদেনে স্বচ্ছতা বাড়ানো, নগদ অর্থের ব্যবহার কমানো এবং দ্রুত ও কম খরচে ডিজিটাল লেনদেনের সুযোগ তৈরি করা। একটি মার্চেন্টের কাছে কোনো একটি ব্যাংক বা এমএফএসের বাংলা কিউআর থাকলেই এখন বিভিন্ন ব্যাংক ও এমএফএসের গ্রাহক সেখানে অর্থ পরিশোধ করতে পারেন। ফলে ব্যবসায়ীদের একাধিক কিউআর রাখার প্রয়োজন কমেছে।

বাংলা কিউআর ব্যবস্থাকে আরও জনপ্রিয় করতে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত লেনদেনে প্রণোদনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ জন্য ১০০ কোটি টাকার একটি তহবিল গঠন করা হয়েছে। আগামী অক্টোবর থেকে মাস শেষে একুয়্যারিং প্রতিষ্ঠান লেনদেনের ০.১০ শতাংশ এবং ইস্যুয়িং প্রতিষ্ঠান ০.২০ শতাংশ হারে প্রণোদনা পাবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা জানান, কিউআর কোডভিত্তিক লেনদেন জনপ্রিয় হলে নগদ অর্থের ওপর নির্ভরতা কমবে। এতে ভবিষ্যতে টাকা ছাপানোর প্রয়োজনীয়তাও কমতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংক বাংলা কিউআরে যুক্ত মার্চেন্ট ও লেনদেনের পরিমাণ সাপ্তাহিক ভিত্তিতে পর্যবেক্ষণ করছে। তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাই মাসে মোট ১ হাজার ২৫০ কোটি টাকা বাংলা কিউআরে পরিশোধ হয়েছে। দৈনিক গড় লেনদেন ছিল ৪০ কোটি ৩২ লাখ টাকা। এর আগের জুনে লেনদেন হয়েছিল ৮৪৫ কোটি টাকা।

এর আগে মে মাসে বাংলা কিউআরে ৪৭৯ কোটি, এপ্রিলে ১৯৯ কোটি, মার্চে ২২৯ কোটি, ফেব্রুয়ারিতে ২১৮ কোটি এবং জানুয়ারিতে ২১২ কোটি টাকা পরিশোধ হয়। অর্থাৎ বছরের শুরু থেকে সামগ্রিকভাবে এ ব্যবস্থায় লেনদেনের প্রবণতা ঊর্ধ্বমুখী।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বাংলা কিউআরে যুক্ত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়ে ৪২টিতে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে শীর্ষ পাঁচ প্রতিষ্ঠানের অধীনে রয়েছে ১৮ লাখ ৭৪ হাজার মার্চেন্ট, যা মোট মার্চেন্টের ৬১ দশমিক ৬২ শতাংশ।

গত ১ আগস্ট পর্যন্ত বাংলা কিউআরে যুক্ত প্রতিষ্ঠান ছিল ৩৭টি এবং মার্চেন্ট সংখ্যা ছিল ২৪ লাখ ২৫ হাজার ১৩৩। পরবর্তী ২১ দিনে নতুন করে ছয় লাখ ছয় হাজার ৭৭৫টি মার্চেন্ট যুক্ত হয়েছে। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২৯ হাজার নতুন মার্চেন্ট এ ব্যবস্থায় যুক্ত হয়েছে।

মার্চেন্ট সংখ্যার দিক থেকে শীর্ষে রয়েছে বিকাশ। গত ২২ আগস্ট পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির বাংলা কিউআর মার্চেন্ট ছিল ৮ লাখ ৩ হাজার ৪৫৪টি। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে পূবালী ব্যাংক, যার মার্চেন্ট সংখ্যা ৩ লাখ ৯৪ হাজার ৬২৮টি।

তৃতীয় অবস্থানে থাকা ইসলামী ব্যাংকের মার্চেন্ট ২ লাখ ৬৩ হাজার ২২টি। সোনালী ব্যাংকের মার্চেন্ট বেড়ে হয়েছে ২ লাখ ৮ হাজার ৫৫৩টি। পঞ্চম অবস্থানে থাকা টালিপের মার্চেন্ট সংখ্যা ২ লাখ ৪ হাজার ৩৫৮টি।

এর পর রয়েছে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের এমএফএস সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান রকেট। তাদের মার্চেন্ট সংখ্যা ১ লাখ ৬২ হাজার ৮৮০টি। শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আরও রয়েছে অগ্রণী ব্যাংক, সেবা ফিনটেক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক ও রূপালী ব্যাংক। এসব প্রতিষ্ঠানের মার্চেন্ট সংখ্যা যথাক্রমে ১ লাখ ৫৩ হাজার ৮৫০, ১ লাখ ১৯ হাজার, ১ লাখ ১১ হাজার ৩৫০ এবং ৯৭ হাজার ২৫৩।

মার্চেন্ট সংখ্যা ও লেনদেনের ধারাবাহিক বৃদ্ধিতে স্পষ্ট হচ্ছে, নগদ অর্থের বিকল্প হিসেবে কিউআরভিত্তিক পরিশোধ ব্যবস্থা দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে। চার্জ কমানো, প্রণোদনা এবং একক কিউআর ব্যবস্থার সুবিধা এই প্রবৃদ্ধিকে আরও ত্বরান্বিত করছে।

বিস্তারিত জানতে আরো পড়ুন>> 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত