‘টক্সিক’ কি নারীবিদ্বেষী? জবাব দিলেন যশ

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬
  • ১৪ বার
‘টক্সিক’ কি নারীবিদ্বেষী? জবাব দিলেন যশ

প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মুক্তির আগেই আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে কন্নড় তারকা যশ অভিনীত বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘টক্সিক: আ ফেয়ারিটেল ফর গ্রোন-আপস’। একদিকে ছবিটির আগাম টিকিট বিক্রিতে তৈরি হয়েছে ব্যাপক সাড়া, অন্যদিকে টিজার, গান ও ট্রেলারে নারী চরিত্রের উপস্থাপন নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। দর্শকদের একাংশ সিনেমাটিকে নারীবিদ্বেষী বলেও মন্তব্য করেছেন। এমন পরিস্থিতিতে ছবিটির প্রচারণামূলক অনুষ্ঠানে এসে সেই অভিযোগের জবাব দিয়েছেন যশ।

গীতু মোহনদাস পরিচালিত ‘টক্সিক’ মুক্তির আগেই দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে। ভারতের প্রেক্ষাগৃহে প্রথম দিনের আগাম বুকিংয়ে এখন পর্যন্ত ৪ লাখ ৭৩ হাজারের বেশি টিকিট বিক্রি হয়েছে। আগাম বুকিং থেকে আয়ও ইতোমধ্যে ২৭ কোটি রুপি ছাড়িয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট বক্স অফিস হিসাব থেকে জানা গেছে। ছবিটির বর্তমান গতি অব্যাহত থাকলে মুক্তির আগেই আগাম বুকিংয়ের আয় ৩০ কোটি রুপি ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বাণিজ্যিক সাফল্যের সম্ভাবনার পাশাপাশি ছবিটি নিয়ে বিতর্কও কম নয়। বিশেষ করে নারী চরিত্রগুলোর উপস্থাপন এবং তাঁদের পর্দায় ভূমিকা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের আলোচনা হয়েছে। ছবির টিজারে যশের চরিত্রের সঙ্গে এক নারীর ঘনিষ্ঠ দৃশ্য, পরে ‘তাবাহি’ গানে কিয়ারা আদভানির সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ মুহূর্ত এবং ট্রেলারে নারী চরিত্রগুলোর উপস্থাপন দর্শকদের একটি অংশের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

তবে যশ মনে করেন, পুরো সিনেমা না দেখে শুধু প্রচারণামূলক ভিডিও বা ট্রেলার দেখে ‘টক্সিক’ সম্পর্কে চূড়ান্ত ধারণা তৈরি করা ঠিক হবে না। তাঁর দাবি, ট্রেলার ছবিটির প্রকৃত গল্প সম্পর্কে দর্শকদের একটি ভিন্ন ধারণা দিতে পারে। পুরো সিনেমা দেখার পরই দর্শকদের মতামত দেওয়া উচিত।

সম্প্রতি হায়দরাবাদে আয়োজিত ছবিটির প্রাক্-মুক্তি অনুষ্ঠানে নারী দর্শকদের উদ্দেশে যশ বলেন, সিনেমাটি দেখে উপভোগ করতে। তাঁর প্রত্যাশা, ছবিটি দেখে দর্শকেরা ভালো সময় কাটাবেন। একই সঙ্গে তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, ‘টক্সিক’-এর পরিচালক একজন নারী—গীতু মোহনদাস। যশের মতে, এই বিষয়টি ছবিটির নারী চরিত্র ও নারীর সক্ষমতা নিয়ে আলোচনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

গীতু মোহনদাসের প্রশংসা করে যশ বলেন, জীবনে কিছু অর্জন করা সবার জন্যই কঠিন হলেও নারীদের জন্য অনেক সময় সেই পথ আরও কঠিন হয়ে ওঠে। সমাজের বিভিন্ন স্তরে নারীদের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। একজন নারী কী করতে পারেন, তাঁকে দিয়ে কতটা সম্ভব—এ ধরনের প্রশ্ন এখনো অনেক ক্ষেত্রেই সামনে আসে। যশের বক্তব্য, গীতু তাঁর কাজের মাধ্যমে দেখাতে পারবেন যে একজন নারী নিজের চিন্তা, সিদ্ধান্ত ও সক্ষমতা নিয়ে নিজের শর্তে এগিয়ে যেতে পারেন।

যশের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘টক্সিক’কে শুধু পুরুষকেন্দ্রিক অ্যাকশন সিনেমা হিসেবে দেখলে ছবিটির মূল বক্তব্যের একটি অংশ বাদ পড়ে যাবে। তাঁর দাবি, সিনেমাটি নারীদের কণ্ঠস্বরও তুলে ধরে। প্রচারণামূলক দৃশ্য দেখে যে ধারণা তৈরি হয়েছে, পুরো সিনেমার গল্প তার চেয়ে ভিন্ন।

ছবিটির নারী চরিত্রে অভিনয় করেছেন কিয়ারা আদভানি, নয়নতারা, হুমা কুরেশি, তারা সুতারিয়া ও রুক্মিণী বসন্তের মতো পরিচিত অভিনেত্রীরা। ফলে তাঁদের চরিত্র কতটা গুরুত্বপূর্ণ এবং গল্পের গতিপথে তাঁদের ভূমিকা কী, তা নিয়েও দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল রয়েছে। ছবিটি মুক্তির পরই এসব প্রশ্নের পূর্ণ উত্তর পাওয়া যাবে।

এদিকে আগাম বুকিংয়ের হিসাবও ‘টক্সিক’ নিয়ে দর্শকদের আগ্রহের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে। কন্নড় ও হিন্দি সংস্করণ থেকে সবচেয়ে বেশি আয় এসেছে। কন্নড় সংস্করণের বিভিন্ন শো থেকে প্রায় ৯ কোটি ৬০ লাখ রুপি এবং হিন্দি সংস্করণ থেকে প্রায় ৭ কোটি ৭২ লাখ রুপি আয় হয়েছে। কন্নড় ভাষার আইম্যাক্স ও ফোরডিএক্সের মতো প্রিমিয়াম প্রদর্শনী থেকেও উল্লেখযোগ্য আয় যোগ হয়েছে।

রাজ্যভিত্তিক হিসাবে কর্ণাটক এগিয়ে রয়েছে। যশের জনপ্রিয়তার কারণে তাঁর নিজ রাজ্যে ছবিটি নিয়ে বিশেষ উন্মাদনা দেখা গেছে। সেখানে ১ হাজার ৭৪৪টি শো থেকে আগাম বুকিংয়ে প্রায় ১০ কোটি ৬৯ লাখ রুপি আয় হয়েছে। মুক্তির কয়েক দিন আগেই কর্ণাটকের শত শত শো প্রায় পূর্ণ হয়ে যাওয়ার খবরও পাওয়া গেছে।

শোর সংখ্যার হিসাবে গুজরাট ও মহারাষ্ট্র এগিয়ে থাকলেও আয়ের দিক থেকে তারা কর্ণাটকের তুলনায় অনেক পিছিয়ে। গুজরাটে দুই হাজারের বেশি শো এবং মহারাষ্ট্রেও দুই হাজারের বেশি শো রাখা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ, দিল্লি ও উত্তর প্রদেশেও ছবিটির আগাম বুকিংয়ে ভালো সাড়া দেখা গেছে। সব মিলিয়ে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে ‘টক্সিক’ নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ স্পষ্ট।

তবে বক্স অফিসের এই আগ্রহের পাশাপাশি বিতর্কটি ছবিটির প্রচারণায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ মনে করছেন, ছবির প্রচারণায় নারী চরিত্রকে যেভাবে তুলে ধরা হয়েছে, তাতে নারীবিদ্বেষী বার্তা প্রকাশ পেতে পারে। আবার অন্য একটি অংশ মনে করছে, সিনেমার পূর্ণাঙ্গ গল্প না দেখে কয়েকটি দৃশ্যের ভিত্তিতে এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো অযৌক্তিক।

এই বিতর্কের মধ্যেই যশের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তিনি সরাসরি সমালোচকদের সঙ্গে বিতর্কে না গিয়ে দর্শকদের পুরো সিনেমাটি দেখার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্যের মূল সুর হলো, প্রচারণামূলক উপকরণের পরিবর্তে সিনেমার সম্পূর্ণ গল্প দেখেই এর বার্তা ও চরিত্রগুলোর মূল্যায়ন করা উচিত।

‘টক্সিক’ নিয়ে যশের প্রত্যাশার পেছনে তাঁর আগের সাফল্যও বড় ভূমিকা রাখছে। ‘কেজিএফ’ সিরিজের মাধ্যমে তিনি ভারতের বাইরেও ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। বিশেষ করে ‘কেজিএফ: চ্যাপ্টার ১’ ও ‘কেজিএফ: চ্যাপ্টার ২’-এর সাফল্যের পর তাঁর পরবর্তী সিনেমা নিয়ে দর্শকদের প্রত্যাশা অনেক বেড়ে যায়। ফলে নতুন সিনেমায় তিনি কেমন চরিত্রে আসছেন, গল্পটি কোন ধরনের হবে এবং পরিচালক হিসেবে গীতু মোহনদাস কীভাবে তাঁর তারকাখ্যাতিকে ব্যবহার করেছেন—এসব নিয়ে শুরু থেকেই আগ্রহ ছিল।

‘কেজিএফ’–এর পর বড় কোনো বাণিজ্যিক ফর্মুলা অনুসরণ না করে গীতু মোহনদাসের সঙ্গে কাজ করার সিদ্ধান্তের কথাও জানিয়েছেন যশ। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, গীতু প্রচলিত অর্থে শুধু বড় বাজেট বা অর্থের পেছনে ছুটে কাজ করেননি। বরং নিজের গল্প ও সৃজনশীল ভাবনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। এই বিষয়টিই যশকে তাঁর সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী করে তোলে বলে তিনি জানিয়েছেন।

নিজের সাফল্য ও সম্পদ নিয়েও কথা বলেছেন যশ। তাঁর মতে, মানুষ তাঁকে সম্পদের জন্য সম্মান করে না; তাঁর কাজই তাঁকে সম্মান এনে দিয়েছে। এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তিনি নিজের ক্যারিয়ারে অভিনয় ও সৃজনশীল কাজের গুরুত্বের বিষয়টি তুলে ধরেছেন।

‘টক্সিক’কে ঘিরে বিতর্কের আরেকটি দিক হলো ছবির বিশাল নির্মাণ পরিসর। যশের গ্যাংস্টার অবতার, অ্যাকশন দৃশ্য, সেট নির্মাণ ও দৃশ্যায়ন নিয়ে দর্শকদের একটি অংশ ইতোমধ্যে প্রশংসা করেছে। অর্থাৎ ছবিটি একই সঙ্গে সমালোচনা ও প্রত্যাশা—দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া তৈরি করছে।

এখন মূল পরীক্ষা প্রেক্ষাগৃহে। আগাম বুকিংয়ের বিপুল সাড়া ছবিটির বাণিজ্যিক সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দর্শকের প্রতিক্রিয়া এবং সমালোচকদের মূল্যায়নই নির্ধারণ করবে ‘টক্সিক’ কতটা সফল হলো। বিশেষ করে নারী চরিত্রের উপস্থাপন নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তার উত্তরও মিলবে সিনেমাটি পুরোপুরি দেখার পর।

গীতু মোহনদাস পরিচালিত অ্যাকশন-থ্রিলার ‘টক্সিক’ ২৬ আগস্ট প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির কথা রয়েছে। কন্নড়ের পাশাপাশি হিন্দি, ইংরেজি, তামিল, তেলেগু ও মালয়ালম ভাষায় সিনেমাটি মুক্তি পাবে। বহুভাষিক মুক্তির ফলে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে ছবিটির দর্শকভিত্তি আরও বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সব মিলিয়ে মুক্তির আগেই ‘টক্সিক’ এমন এক জায়গায় পৌঁছেছে, যেখানে বক্স অফিসের প্রত্যাশা ও বিতর্ক পাশাপাশি চলছে। আগাম বুকিংয়ের পরিসংখ্যান বলছে, দর্শকদের বড় একটি অংশ সিনেমাটি দেখতে আগ্রহী। আর নারীবিদ্বেষের অভিযোগের জবাবে যশের বক্তব্য স্পষ্ট করেছে, নির্মাতারা ছবিটিকে শুধু বিতর্কিত কিছু দৃশ্যের আলোকে দেখতে চান না। শেষ পর্যন্ত পর্দায় গল্পটি কীভাবে উপস্থাপিত হয়েছে এবং নারী চরিত্রগুলোকে কীভাবে তুলে ধরা হয়েছে, তার বিচার করবেন দর্শকেরাই।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত