২০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের নিলাম মঙ্গলবার

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬
  • ৫৯ বার
২০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের নিলাম মঙ্গলবার

প্রকাশ:  ২৪  আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

সরকারের দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম বাংলাদেশ গভর্নমেন্ট ট্রেজারি বন্ড। এরই ধারাবাহিকতায় আগামী মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকে ২০ বছর মেয়াদি দুটি ট্রেজারি বন্ডের রি-ইস্যুর নিলাম অনুষ্ঠিত হবে। নিলামে দুটি বন্ডের মোট ২ হাজার কোটি টাকা অভিহিত মূল্যের বন্ড বিক্রির জন্য পুনরায় প্রস্তাব দেওয়া হবে। এর মধ্যে একটি বন্ডের অবশিষ্ট মেয়াদ ১৯ বছর এবং অন্যটির অবশিষ্ট মেয়াদ ১৩ দশমিক ৭৩ বছর।

বাংলাদেশ ব্যাংকের যোগাযোগ ও প্রকাশনা বিভাগ (ডিসিপি) থেকে জারি করা পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নিলাম হবে প্রাইসভিত্তিক। অর্থাৎ অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো নির্দিষ্ট মূল্যে কত পরিমাণ বন্ড কিনতে আগ্রহী, সে অনুযায়ী বিড দাখিল করবে। নিলামে প্রাপ্ত দর ও বাজার পরিস্থিতির ভিত্তিতে বন্ড বরাদ্দের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

প্রথম নিলামে ২০২৫ সালের ২৭ আগস্ট ১০ দশমিক ৩০ শতাংশ কুপন হারে ইস্যু করা ২০ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ গভর্নমেন্ট ট্রেজারি বন্ড রি-ইস্যু করা হবে। এই বন্ডের অভিহিত মূল্য ১ হাজার কোটি টাকা। বন্ডটির আন্তর্জাতিক সিকিউরিটিজ শনাক্তকরণ নম্বর বা আইএসআইএন হলো বিডি ০৯৪৫০৮১২০৮। মূল বন্ডটির মেয়াদপূর্তির তারিখ ২০৪৫ সালের ২৭ আগস্ট। ফলে মঙ্গলবারের নিলামে অংশ নেওয়া বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘমেয়াদি সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগের সুযোগ পাবেন।

অন্য নিলামে ২০২০ সালের ২০ মে ৯ দশমিক ২০ শতাংশ কুপন হারে ইস্যু করা ২০ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ গভর্নমেন্ট ট্রেজারি বন্ড রি-ইস্যু করা হবে। এ বন্ডেরও অভিহিত মূল্য ১ হাজার কোটি টাকা। এর আইএসআইএন নম্বর বিডি ০৯৪০৪০১২০৩ এবং মেয়াদপূর্তির তারিখ ২০৪০ সালের ২০ মে। মূল ইস্যুর সময় বন্ডটির মেয়াদ ছিল ২০ বছর হলেও বর্তমানে এর অবশিষ্ট মেয়াদ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৩ বছর ৮ মাসের কাছাকাছি।

দুটি বন্ডের নিলাম একই দিনে অনুষ্ঠিত হলেও বন্ড দুটির কুপন হার ও অবশিষ্ট মেয়াদ আলাদা। ফলে বিনিয়োগকারীদের জন্য এগুলোর বিনিয়োগ বৈশিষ্ট্যও এক নয়। দীর্ঘমেয়াদি সরকারি বন্ড সাধারণত স্থিতিশীল ও তুলনামূলক দীর্ঘ সময়ের বিনিয়োগ পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত থাকে। বাজারের সুদের হার, মূল্যস্ফীতি, তারল্য পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রত্যাশা এসব বন্ডের বাজারমূল্য ও বিনিয়োগকারীদের আগ্রহে প্রভাব ফেলতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে বিড দাখিল করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকে স্থাপিত এফএমআইয়ের মাধ্যমে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় নিলামে অংশ নিতে হবে। বিশেষ কোনো পরিস্থিতিতে প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট বিভাগের অনুমতি নিয়ে ম্যানুয়াল বিডস ইন সিলড কভারস পদ্ধতিতেও বিড দাখিলের সুযোগ থাকবে।

নিলামে সরাসরি অংশ নেওয়ার সুযোগ সব ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য সমান নয়। সরকারি সিকিউরিটিজের প্রাইমারি ডিলার হিসেবে নিয়োগ পাওয়া ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো সরাসরি বিড দাখিল করতে পারবে। তবে অন্যান্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান নিজেদের বিনিয়োগের পাশাপাশি তাদের ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী গ্রাহকদের পক্ষেও প্রাইমারি ডিলারের মাধ্যমে নিলামে অংশ নিতে পারবে।

অভিহিত মূল্যের প্রতি ১০০ টাকা মূল্যের বন্ডের বিপরীতে বিনিয়োগকারীদের তাঁদের কাঙ্ক্ষিত প্রাইস এবং কত পরিমাণ বন্ড কিনতে চান, তা উল্লেখ করে বিড দাখিল করতে হবে। নিলাম প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর দেওয়া দর সরকারি সিকিউরিটিজের বাজার পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট বন্ডের চাহিদার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।

ট্রেজারি বন্ড মূলত সরকারের ঋণ ব্যবস্থাপনার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ। সরকার যখন বাজেট বাস্তবায়ন, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড কিংবা অন্যান্য সরকারি ব্যয়ের জন্য অর্থের প্রয়োজন অনুভব করে, তখন অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহের জন্য বিভিন্ন ধরনের সরকারি সিকিউরিটিজ ইস্যু করে। ট্রেজারি বন্ড তারই একটি দীর্ঘমেয়াদি মাধ্যম। এর বিপরীতে বিনিয়োগকারীরা নির্ধারিত কুপন হারে সুদ বা মুনাফা পাওয়ার সুযোগ পান এবং মেয়াদ শেষে মূল অর্থ ফেরত পাওয়ার অধিকার রাখেন।

রি-ইস্যুর মাধ্যমে আগে ইস্যু করা কোনো সরকারি বন্ডের একই সিরিজ বা বৈশিষ্ট্যের সিকিউরিটিজ আবার বাজারে বিক্রি করা হয়। এতে সরকারের ঋণ ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হয় এবং একই ধরনের সরকারি সিকিউরিটিজের বাজারে লেনদেনের পরিমাণও বাড়তে পারে। বিনিয়োগকারীদের জন্যও এটি আগে থেকে বিদ্যমান একটি বন্ডে নতুন করে বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করে।

মঙ্গলবারের নিলামে ১০ দশমিক ৩০ শতাংশ কুপন হারের বন্ড এবং ৯ দশমিক ২০ শতাংশ কুপন হারের বন্ড—দুটি আলাদা সিরিজ পুনরায় বাজারে আসছে। কুপন হার নির্ধারিত থাকলেও নিলামে বন্ডের মূল্য বাজারের চাহিদা ও বিনিয়োগকারীদের দেওয়া দর অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে। ফলে কুপন হার এবং প্রকৃত বিনিয়োগ-রিটার্ন এক বিষয় নয়। বিনিয়োগকারীরা বন্ডের ক্রয়মূল্য, কুপন আয় এবং মেয়াদপূর্তিতে প্রাপ্য অর্থ—সবকিছু বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেন।

বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে সরকারি সিকিউরিটিজের নিলাম বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর তারল্য ব্যবস্থাপনা, বাজারে সুদের হারের গতিপ্রকৃতি এবং সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা—সবকিছুর সঙ্গে ট্রেজারি বন্ডের বাজার ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। ফলে প্রতিটি নিলামে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ ও দরপত্রের ধরন বাজারের সামগ্রিক পরিস্থিতি সম্পর্কে একটি ধারণা দিতে পারে।

দীর্ঘমেয়াদি সরকারি বন্ড সাধারণত এমন বিনিয়োগকারীদের কাছে আকর্ষণীয় হতে পারে, যারা নির্দিষ্ট সময় ধরে তুলনামূলক স্থিতিশীল সরকারি সিকিউরিটিজ ধরে রাখতে চান। তবে দীর্ঘ মেয়াদের কারণে এসব বন্ডের বাজারমূল্য সুদের হারের পরিবর্তনে তুলনামূলক বেশি সংবেদনশীল হতে পারে। তাই নিলামে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে শুধু কুপন হার নয়, ভবিষ্যতের সুদের হার, তারল্য পরিস্থিতি এবং বাজারের সম্ভাব্য পরিবর্তনও বিবেচনায় নিতে হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, নিলামে অংশগ্রহণের বিস্তারিত নির্দেশনা প্রাইমারি ডিলারসহ সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে চিঠির মাধ্যমে জানানো হয়েছে। ফলে নিলামের আগে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো নির্ধারিত নিয়ম ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাদের বিড প্রস্তুত করতে পারবে।

মঙ্গলবারের এই নিলাম সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণ ব্যবস্থাপনার ধারাবাহিক কার্যক্রমের অংশ। একই সঙ্গে এটি দেশের আর্থিক বাজারে দীর্ঘমেয়াদি সরকারি সিকিউরিটিজের চাহিদা ও বিনিয়োগকারীদের অবস্থান বোঝার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করবে। দুই হাজার কোটি টাকা অভিহিত মূল্যের দুটি বন্ড পুনরায় ইস্যুর মাধ্যমে সরকার একদিকে অর্থায়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে, অন্যদিকে বাজারে সরকারি বন্ডের সরবরাহও নিশ্চিত করবে।

নিলামে শেষ পর্যন্ত কী পরিমাণ বিড জমা পড়ে, বিনিয়োগকারীরা কোন দরে আগ্রহ দেখান এবং কত টাকা মূল্যের বন্ড বরাদ্দ দেওয়া হয়—এসব তথ্য প্রকাশের পর বাজারের প্রতিক্রিয়াও আরও স্পষ্ট হবে। তবে এর মধ্য দিয়ে দেশের সরকারি সিকিউরিটিজ বাজারে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম সম্পন্ন হতে যাচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com