চট্টগ্রাম কাস্টমসে ৪৪২ কনটেইনার পণ্যের ই-নিলাম

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬
  • ১৬ বার
চট্টগ্রাম কাস্টমসে ৪৪২ কনটেইনার পণ্যের ই-নিলাম

প্রকাশ: ২৪ আগস্ট  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

চট্টগ্রাম বন্দরে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা অখালাসকৃত ও নিলামযোগ্য পণ্য দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস। এর অংশ হিসেবে চলতি আগস্ট মাসে বিশেষ ই-অকশনের মাধ্যমে ৪৪২ কনটেইনার পণ্য নিলামে বিক্রি করা হবে। এসব কনটেইনারে বিভিন্ন ধরনের কেমিক্যাল, যন্ত্রপাতি, যন্ত্রাংশ, প্লাস্টিকজাত পণ্য, কাপড়, সুতা, গৃহস্থালি সামগ্রীসহ নানা ধরনের আমদানি করা পণ্য রয়েছে। একই সঙ্গে ৮৬টি পুরোনো খালি কনটেইনারও নিলামে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের জনসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে সোমবার এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বিশেষ ই-অকশন নম্বর ৯/২০২৬-এর আওতায় ১৫২টি কনটেইনার এবং বিশেষ ই-অকশন নম্বর ১০/২০২৬-এর আওতায় ২৯০টি কনটেইনারের পণ্য নিলামে বিক্রি করা হবে। দীর্ঘ সময় ধরে বন্দরে পড়ে থাকা এসব পণ্য নিষ্পত্তির মাধ্যমে একদিকে যেমন বন্দরের জায়গা ব্যবস্থাপনায় স্বস্তি আসবে, অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় কমানোর সুযোগ তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

চট্টগ্রাম বন্দর দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর হিসেবে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের বড় একটি অংশ পরিচালনা করে। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক কনটেইনার এই বন্দরের মাধ্যমে দেশে প্রবেশ ও দেশের বাইরে যায়। আমদানিকৃত পণ্য নির্ধারিত সময়ে খালাস না হলে কনটেইনারগুলো বন্দরের বিভিন্ন ইয়ার্ডে জমে থাকে। এতে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে চাপ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি জায়গা ব্যবস্থাপনাতেও জটিলতা দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন পড়ে থাকা পণ্য দ্রুত নিলামের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা সেই চাপ কমানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া।

নিলামে ওঠা ৪৪২ কনটেইনারে পণ্যের বৈচিত্র্যও বেশ বিস্তৃত। এসব পণ্যের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের কেমিক্যাল, শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ, পিভিসি ফ্লেক্স ব্যানার, প্লাস্টিক ওয়েস্টেজ বা স্ক্র্যাপ, চেস্ট ফ্রিজার, পাইপ, বিভিন্ন ধরনের সুতা ও কাপড় রয়েছে। পাশাপাশি সোলার মডিউল, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ, টাইলস, স্টেইনলেস স্টিল কয়েল, স্ক্যানার, ব্যাডমিন্টন র‌্যাকেট, এলিভেটর, বিভিন্ন ধরনের লবণ, কাগজ ও গৃহস্থালি সামগ্রীও নিলামে তোলা হবে।

এর ফলে বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের জন্য নিলামটি আগ্রহের বিষয় হয়ে উঠতে পারে। তবে নিলামে অংশ নেওয়ার আগে পণ্যের প্রকৃতি, গুণগত মান, ব্যবহারযোগ্যতা এবং সংশ্লিষ্ট আমদানি নীতিমালার বিষয়গুলো যথাযথভাবে যাচাই করার প্রয়োজন রয়েছে। কারণ নিলামে বিক্রি হওয়া পণ্য খালাসের ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন ও নীতিমালার প্রযোজ্য শর্ত অনুসরণ করতে হবে।

চট্টগ্রাম কাস্টমস জানিয়েছে, ই-অকশন পোর্টালের মাধ্যমে এ নিলাম কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। আগ্রহী দরদাতাদের নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় নিবন্ধন করে অনলাইনে দরপত্র জমা দিতে হবে। বিশেষ ই-অকশন নম্বর ৯/২০২৬-এর দরপত্র ২৭ আগস্ট থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জমা দেওয়া যাবে। অন্যদিকে বিশেষ ই-অকশন নম্বর ১০/২০২৬-এর দরপত্র ২৭ আগস্ট থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টা পর্যন্ত অনলাইনে দাখিল করা যাবে।

নিলামে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে দরদাতাদের প্রস্তাবিত দরমূল্যের ন্যূনতম ১০ শতাংশ জামানতের স্ক্যান কপি অনলাইনে আপলোড করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় মূল কাগজপত্রও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিতে হবে। অর্থাৎ শুধু অনলাইনে দরপ্রস্তাব দিলেই নিলাম প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে না; নির্ধারিত শর্ত ও আনুষ্ঠানিকতাও যথাযথভাবে পূরণ করতে হবে।

নিলামে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে নির্বাচিত হলেও পণ্য খালাসের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আমদানি নীতিমালার শর্ত মানতে হবে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সর্বোচ্চ দরদাতাদের আমদানি নীতি আদেশ ২০২১-২০২৪-এর প্রযোজ্য শর্ত পরিপালন করে পণ্য খালাস নিতে হবে। ফলে কোনো পণ্য নিলামে পাওয়ার পর সেটি খালাসের আগে আইনগত ও নীতিগত বাধ্যবাধকতা পূরণ করা প্রয়োজন হবে।

নিলাম প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বিড করার আগে পণ্য সরেজমিনে দেখার সুযোগ। এতে সম্ভাব্য দরদাতারা কাগজে থাকা বিবরণের পাশাপাশি বাস্তবে পণ্যের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন। বিশেষ ই-অকশন নম্বর ৯/২০২৬-এর আওতাভুক্ত পণ্য ৩০ আগস্ট থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অফিস চলাকালে সরেজমিনে পরিদর্শন করা যাবে। অন্যদিকে বিশেষ ই-অকশন নম্বর ১০/২০২৬-এর পণ্য ৩০ আগস্ট থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পরিদর্শনের সুযোগ থাকবে।

পণ্য পরিদর্শনের এই সুযোগ নিলাম অংশগ্রহণকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ কনটেইনারে থাকা পণ্যের ধরন, পরিমাণ কিংবা অবস্থার সঙ্গে কাগজপত্রের তথ্যের বাস্তব মিল যাচাই করে তারপর দর নির্ধারণ করা সম্ভব হবে। এতে অতিরিক্ত ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি সম্ভাব্য ক্রেতারা নিজেদের বিনিয়োগের বিষয়ে আরও বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।

নিলাম প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপে দরপত্র বাক্স খোলার নির্ধারিত সময়ও জানানো হয়েছে। বিশেষ ই-অকশন নম্বর ৯/২০২৬-এর দরপত্র বাক্স ১৬ সেপ্টেম্বর বেলা সাড়ে ৩টায় খোলা হবে। আর বিশেষ ই-অকশন নম্বর ১০/২০২৬-এর দরপত্র বাক্স খোলা হবে ২০ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টায়। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

চট্টগ্রাম কাস্টমসের এই উদ্যোগকে শুধু নিলাম কার্যক্রম হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা, দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা পণ্যের কারণে তৈরি হওয়া জট কমানো এবং অব্যবহৃত জায়গার কার্যকর ব্যবহারের ক্ষেত্রেও এর গুরুত্ব রয়েছে। কনটেইনার জমে গেলে বন্দরের ইয়ার্ড ব্যবস্থাপনায় অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়। দ্রুত নিলামের মাধ্যমে অখালাসকৃত পণ্য সরিয়ে নেওয়া গেলে বন্দরের কর্মক্ষমতা ও সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

একই সঙ্গে নিলামের মাধ্যমে দীর্ঘদিন পড়ে থাকা পণ্য থেকে রাষ্ট্রের রাজস্ব আদায়ের সুযোগ তৈরি হয়। অন্যথায় সময়ের সঙ্গে অনেক পণ্যের ব্যবহারযোগ্যতা কমে যেতে পারে কিংবা সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার ব্যয় বাড়তে পারে। এ কারণে নির্ধারিত আইন ও বিধি অনুসরণ করে নিলাম সম্পন্ন করা রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মতে, এই ই-নিলাম চট্টগ্রাম বন্দরের কর্ম উপযোগিতা ও সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি বিদ্যমান কনটেইনার জট কমাতে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে পণ্য ও কনটেইনারের ভৌত ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও এর গুরুত্ব রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা পণ্য দ্রুত নিষ্পত্তির মাধ্যমে বন্দরের জায়গা ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করার প্রত্যাশা রয়েছে সংশ্লিষ্টদের।

তবে নিলাম প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া ক্রেতাদের জন্য স্বচ্ছতা ও যথাযথ যাচাই গুরুত্বপূর্ণ। পণ্য সরেজমিনে দেখে, সংশ্লিষ্ট নীতিমালা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে এবং নির্ধারিত জামানত ও কাগজপত্রের শর্ত পূরণ করেই দরপত্রে অংশ নিতে হবে। একই সঙ্গে নিলাম-পরবর্তী সময়ে পণ্য খালাসের ক্ষেত্রে কাস্টমস ও আমদানি নীতির বিধান মেনে চলতে হবে।

সব মিলিয়ে ৪৪২ কনটেইনার পণ্যের এই বিশেষ ই-নিলাম চট্টগ্রাম বন্দরের দীর্ঘদিনের অখালাসকৃত পণ্য ব্যবস্থাপনায় একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সঠিকভাবে সম্পন্ন হলে এতে বন্দরের কনটেইনার জট কমার পাশাপাশি রাজস্ব আদায়, রাষ্ট্রীয় সম্পদের কার্যকর ব্যবহার এবং বন্দর ব্যবস্থাপনায় গতি ফেরানোর সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে অনলাইনভিত্তিক নিলাম প্রক্রিয়া অংশগ্রহণকারীদের জন্য আরও সহজ ও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত