ঈদে মিলাদুন্নবীর অনুষ্ঠান উদ্বোধন করবেন রাষ্ট্রপতি

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬
  • ১৬ বার
ঈদে মিলাদুন্নবীর অনুষ্ঠান উদ্বোধন করবেন রাষ্ট্রপতি

প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) ১৪৪৮ হিজরি উদযাপন উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে পক্ষকালব্যাপী ‘সিরাতুন্নবী (সা.) অনুষ্ঠানমালা’ শুরু হচ্ছে আগামীকাল মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট)। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এর উদ্বোধন করবেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মঙ্গলবার বাদ মাগরিব সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের পূর্ব সাহানে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম এলাকায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের পাশাপাশি নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত এবারের অনুষ্ঠানমালার মূল লক্ষ্য মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র জীবন, কর্ম, আদর্শ ও মানবিক মূল্যবোধ সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা। একই সঙ্গে তাঁর শিক্ষা অনুসরণের মাধ্যমে সমাজে শান্তি, সাম্য, ন্যায়, সহনশীলতা ও পারস্পরিক সম্প্রীতির চেতনা আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

বাংলাদেশে আগামী বুধবার (২৬ আগস্ট) পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালিত হবে। জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশের আকাশে ১৪৪৮ হিজরি সনের রবিউল আউয়াল মাসের চাঁদ দেখা না যাওয়ায় ১৫ আগস্ট থেকে রবিউল আউয়াল মাসের গণনা শুরু হয়। সে অনুযায়ী ১২ রবিউল আউয়াল, অর্থাৎ ২৬ আগস্ট বুধবার দেশে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপিত হবে।

ঈদে মিলাদুন্নবী মুসলিম বিশ্বের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি ধর্মীয় উপলক্ষ। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন, চরিত্র, মানবিকতা, ন্যায়বোধ ও শান্তির বার্তা স্মরণ করে এ দিন নানা ধর্মীয় আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশেও প্রতিবছর সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে মিলাদ, ওয়াজ মাহফিল, আলোচনা সভা, সেমিনার, ধর্মীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করা হয়।

এবার ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে আয়োজন করা হয়েছে দীর্ঘ সময়ব্যাপী ‘সিরাতুন্নবী (সা.) অনুষ্ঠানমালা’। উদ্বোধনের পর আগামী ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন বাদ মাগরিব থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত দেশের প্রখ্যাত ওলামায়ে কেরাম ও পীর-মাশায়েখরা ওয়াজ করবেন। এসব আলোচনায় মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শ, সুন্নাহ, নৈতিক শিক্ষা এবং ব্যক্তি ও সমাজজীবনে তার প্রয়োগের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হবে।

আয়োজনের অংশ হিসেবে ওয়াজ মাহফিলের পাশাপাশি কিরাত মাহফিল, হামদ-নাত মাহফিল এবং বিভিন্ন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও বাংলাদেশ বেতারের যৌথ উদ্যোগে সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ বেতারে প্রচারিত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শানে রচিত কবিতা পাঠের বিশেষ মাহফিলও থাকবে।

শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতেও বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ইসলামী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। এর মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের কাছে মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শকে আরও সহজ, আকর্ষণীয় ও শিক্ষামূলকভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করা হবে।

অনুষ্ঠানমালাকে কেন্দ্র করে সিরাত স্মরণিকা ও ক্রোড়পত্র প্রকাশের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এতে মহানবী (সা.)-এর জীবন, কর্ম, আদর্শ এবং তাঁর দেখানো মানবিক মূল্যবোধ নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা ও লেখা প্রকাশিত হবে। একই সঙ্গে ইসলামী ক্যালিগ্রাফি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে, যেখানে ইসলামী শিল্প ও সংস্কৃতির বিভিন্ন দিক দর্শনার্থীদের সামনে তুলে ধরা হবে।

জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের পূর্ব ও দক্ষিণ চত্বরে মাসব্যাপী ইসলামী বইমেলার আয়োজনও থাকছে। সেখানে ধর্মীয় জ্ঞান, সিরাত, ইসলামী ইতিহাস, নৈতিক শিক্ষা ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ের বই প্রদর্শন ও বিক্রি করা হবে। ধর্মপ্রাণ মানুষ, শিক্ষার্থী ও পাঠকদের জন্য এ বইমেলা ধর্মীয় জ্ঞানচর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

সিরাতুন্নবী অনুষ্ঠানমালার বিভিন্ন আয়োজনে মহানবী (সা.)-এর জীবন থেকে মানবিক ও নৈতিক শিক্ষা গ্রহণের বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বর্তমান সময়ে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবনে মূল্যবোধের অবক্ষয়, অসহিষ্ণুতা ও বিভাজন নিয়ে যখন নানা আলোচনা রয়েছে, তখন মহানবী (সা.)-এর শান্তি, ন্যায়, ক্ষমা, সহমর্মিতা ও সম্প্রীতির শিক্ষা নতুন করে মানুষের সামনে তুলে ধরার গুরুত্বও রয়েছে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ব্যক্তি ও সামাজিক জীবনে মহানবী (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণের মাধ্যমে নৈতিকতা, মানবিকতা, সহনশীলতা ও শান্তির চেতনা প্রতিষ্ঠাই এসব আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে শুধু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে এর শিক্ষাকে মানুষের দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োগ করার আহ্বানও জানানো হবে।

পক্ষকালব্যাপী এ আয়োজনকে ঘিরে ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে ইতোমধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বায়তুল মোকাররমে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান এবং পরবর্তী ওয়াজ ও ধর্মীয় কর্মসূচিতে বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন। অনুষ্ঠানে আলেম-ওলামা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সংস্কৃতিকর্মী, সাংবাদিকসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণের সুযোগ থাকছে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন ধর্মপ্রাণ মুসল্লি, আলেম-ওলামা, শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সংস্কৃতিকর্মী, সাংবাদিক এবং সর্বস্তরের জনগণকে পক্ষকালব্যাপী অনুষ্ঠানমালায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ সম্পর্কে জানার পাশাপাশি তাঁর শিক্ষা অনুসরণ করে ব্যক্তি ও সমাজজীবনে শান্তি, সৌহার্দ্য ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা নিয়ে এবারের আয়োজন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

আগামীকাল বায়তুল মোকাররমে রাষ্ট্রপতির উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এ অনুষ্ঠানমালা ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে রাষ্ট্রীয় ও ধর্মীয় পর্যায়ের আয়োজনকে আরও বিস্তৃত করবে। ২৬ আগস্ট পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপনের আগে এবং পরে ধারাবাহিক এসব কর্মসূচির মাধ্যমে মহানবী (সা.)-এর জীবন ও শিক্ষার বিভিন্ন দিক মানুষের সামনে তুলে ধরার পাশাপাশি সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যাশা করছে আয়োজকরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত