ভোলা-বরিশাল সরাসরি সেতু নির্মাণের দাবি

ফারহান ফারাবী
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬
  • ১২ বার

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দ্বীপজেলা ভোলাকে দেশের মূল সড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে কার্যকরভাবে যুক্ত করতে ভোলা-বরিশাল সরাসরি সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছে নাগরিক কমিটি ‘আমরা ভোলাবাসী’। সংগঠনটির দাবি, বিকল্প সড়ক রুটের পরিবর্তে ভোলা-বরিশাল সরাসরি সেতু নির্মাণ করলে সময়, দূরত্ব ও পরিবহন ব্যয় কমবে এবং দীর্ঘমেয়াদে দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা বাড়বে।

মঙ্গলবার ভোলা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন ‘আমরা ভোলাবাসী’র সদস্য সচিব মীর মোশারেফ অমি। এ সময় সংগঠনের সদস্য শরীফ হাওলাদার, সাখাওয়াত শাকিল, মেহেদী হাসানসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সম্প্রতি ভোলাকে দেশের মূল সড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করতে ‘রহমতপুর-হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ-ভোলা’ রুটে মহাসড়ক নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্পে ২১ কিলোমিটার নতুন সড়ক নির্মাণ, ৩৬ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্তকরণ এবং তিনটি বড় সেতু নির্মাণের প্রস্তাব রয়েছে।

নাগরিক কমিটির নেতাদের দাবি, এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ভোলার মানুষের যোগাযোগের সময় ও দূরত্ব কমার পরিবর্তে বরং বেড়ে যেতে পারে। তাই ভোলা-বরিশাল সরাসরি সেতুর তুলনায় প্রস্তাবিত প্রকল্পটির ব্যয়, নির্মাণকাল, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় এবং দীর্ঘমেয়াদি সুফল কতটা যৌক্তিক, তা যাচাই করা প্রয়োজন।

তারা ভোলা-বরিশাল সরাসরি রুট এবং রহমতপুর-হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ-ভোলা রুটের দূরত্ব, যাতায়াতের সময়, নির্মাণ ব্যয়, প্রয়োজনীয় সেতুর সংখ্যা, পরিবহন ব্যয় ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সুফল তুলনা করে একটি পূর্ণাঙ্গ কারিগরি ও অর্থনৈতিক সমীক্ষা করার দাবি জানান। সেই সমীক্ষার ফলাফল জনসম্মুখে প্রকাশেরও আহ্বান জানানো হয়।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়, তাদের এই দাবি কোনো ব্যক্তি, রাজনৈতিক দল বা নির্দিষ্ট এলাকার বিরুদ্ধে নয়। ভোলার মানুষের দীর্ঘমেয়াদি যোগাযোগ সুবিধা ও দক্ষিণাঞ্চলের সামগ্রিক উন্নয়নের স্বার্থেই তারা সরাসরি সেতু নির্মাণের যৌক্তিকতা যাচাইয়ের দাবি জানাচ্ছেন।

গত শনিবার ‘রহমতপুর-হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ-ভোলা’ রুটে মহাসড়ক নির্মাণের মাধ্যমে দ্বীপজেলা ভোলাকে জাতীয় সড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করার ঘোষণা দেওয়া হয়। এর পরই ভেদুরিয়া-লাহারহাট রুটে প্রস্তাবিত ভোলা-বরিশাল সেতুর ভবিষ্যৎ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ভোলা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মাইদুল ইসলাম জানান, প্রস্তাবিত রহমতপুর-হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ-ভোলা রুটে মহাসড়ক নির্মাণের বিষয়ে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে।

তবে ভোলাকে সড়কপথে দেশের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করার জন্য সরাসরি সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা নতুন নয়। বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ একাধিকবার সম্ভাব্যতা যাচাই করে তেঁতুলিয়া নদীর ওপর প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণের প্রস্তাব করেছিল। এই সেতু নির্মিত হলে ভোলা সরাসরি সড়ক যোগাযোগের আওতায় আসার পাশাপাশি গ্যাস পাইপলাইনের মাধ্যমে ভোলা থেকে বরিশালে গ্যাস সরবরাহের পরিকল্পনাও বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

২০২৪ সালে তৎকালীন সেতুমন্ত্রী ভোলা-বরিশাল সেতুর নির্মাণকাজ শুরুর ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবে সেই ঘোষণা বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে প্রস্তাবিত এই সেতু নিয়ে ভোলার মানুষের মধ্যে প্রত্যাশা থাকলেও এখন বিকল্প মহাসড়ক প্রকল্পের সিদ্ধান্তের পর তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

নাগরিক কমিটির নেতারা মনে করছেন, ভোলা-বরিশাল সরাসরি সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা, ব্যয় ও অর্থনৈতিক সুফল নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা হলে কোন প্রকল্পটি ভোলাসহ পুরো দক্ষিণাঞ্চলের জন্য বেশি কার্যকর, তা স্পষ্ট হবে। এ কারণে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দুটি রুটের পূর্ণাঙ্গ তুলনামূলক সমীক্ষা প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন তারা।

বিস্তারিত জানতে আরো পড়ুন>> 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত