অস্ট্রেলিয়া সফরই ক্যারিয়ারের মোড় ঘোরানো: হাসান

ফারহান ফারাবী
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬
  • ১১ বার

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট জয়কে নিজের ক্যারিয়ারের সেরা সাফল্যগুলোর একটি হিসেবে দেখছেন বাংলাদেশের পেসার হাসান মাহমুদ। তাঁর মতে, ডারউইন টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে হারানো শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্যও বড় সাফল্য। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এমন পারফরম্যান্স বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশের সম্মান আরও বাড়াবে বলে মনে করেন তিনি।

অস্ট্রেলিয়া সফর শেষে ম্যাকাই থেকে সমকালের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে নিজের অভিজ্ঞতা, ডারউইন টেস্টের সাফল্য, পেস বোলিং, কাউন্টি ক্রিকেট এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেছেন হাসান মাহমুদ।

ডারউইন টেস্টে প্রথম ইনিংসে ছয় উইকেট নেওয়ার প্রসঙ্গে হাসান বলেন, অস্ট্রেলিয়া সফর তাঁর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তাঁর ভাষায়, এটি ছিল তাঁর জীবনের সেরা সফরগুলোর একটি। একজন ফাস্ট বোলারের ক্যারিয়ারে এমন কিছু সময় আসে, যা পরবর্তী পথচলায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। অস্ট্রেলিয়া সফর তাঁর ক্যারিয়ারে তেমনই একটি মোড়।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শুরু থেকেই প্রভাব বিস্তার করে খেলার পরিকল্পনা ছিল বলে জানান হাসান। তাঁর মতে, সফরের আগে থেকেই দলের খেলোয়াড়দের মানসিক প্রস্তুতি ছিল শক্ত। অনুশীলনেও সবাই একই রকম একাগ্রতা ও নিবেদন নিয়ে কাজ করেছেন। সেই প্রস্তুতির ফল হিসেবেই প্রথম টেস্টে সফলতা এসেছে।

তবে দ্বিতীয় টেস্টেও ভালো সুযোগ ছিল বলে মনে করেন এই পেসার। তাঁর মতে, প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ আরও কিছু রান করতে পারলে সিরিজের চিত্র ভিন্ন হতে পারত। এমনকি দুই ম্যাচের সিরিজে বাংলাদেশ ২-০ ব্যবধানে জয় পাওয়ার সুযোগও তৈরি করতে পারত।

অস্ট্রেলিয়ার পেস সহায়ক উইকেটে বোলিং করার অভিজ্ঞতাকে বিশেষভাবে উপভোগ করেছেন হাসান। তিনি বলেন, বোলিং উইকেট হলে পেসারদের ভালো লাগাটাই স্বাভাবিক। তবে চ্যালেঞ্জ ছিল বিশ্বের সেরা ব্যাটসম্যানদের বিপক্ষে তাদের নিজেদের কন্ডিশনে বল করা। অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটাররা সারা বছরই এমন পরিবেশে খেলে ও অনুশীলন করে। তাই তাদের মাঠে তাদের বিপক্ষে ভালো পারফরম্যান্স বাংলাদেশের জন্য বিশেষ অর্জন বলে মনে করেন তিনি।

ম্যাকাই টেস্টে নিজের বোলিং নিয়ে আত্মসমালোচনাও করেছেন হাসান। তাঁর মতে, মূল সমস্যা ছিল স্কোরবোর্ডে পর্যাপ্ত রান না থাকা। পাশাপাশি রান লিক করার আশঙ্কায় কিছুটা নার্ভাসও ছিলেন তিনি। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ যদি ২০০ রান করতে পারত, তাহলে ম্যাচের পরিস্থিতি অন্যরকম হতে পারত।

তবে নিজের বোলিং ইউনিটের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট হাসান। তিনি বলেন, শরিফুল ইসলাম ও তাসকিন আহমেদের সঙ্গে মিলে তারা নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তিনি নিজে উইকেট না পেলেও শরিফুল এক প্রান্ত থেকে দারুণ সাপোর্ট দিয়েছেন এবং তাসকিনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। সম্মিলিতভাবে তারা অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের কঠিন সময় দিতে পেরেছেন।

অস্ট্রেলিয়া সফরে তাঁর পারফরম্যান্সের পর পাওয়া প্রশংসা আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে বলেও জানান হাসান। খালেদ মাহমুদ সুজনের প্রশংসাকে বড় প্রাপ্তি হিসেবে দেখছেন তিনি। একইভাবে সাকিব আল হাসান টেস্ট দলে একজন বোলার বেছে নেওয়ার সুযোগ পেলে হাসান মাহমুদকে বেছে নেবেন—এমন মন্তব্য করায় গর্বিত হয়েছেন এই পেসার।

হাসানের মতে, বিশ্ব ক্রিকেটে দীর্ঘদিন প্রভাব বিস্তার করা একজন খেলোয়াড় এবং সাবেক বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের কাছ থেকে এমন প্রশংসা পাওয়া তাঁর জন্য বিশেষ সম্মানের। তবে প্রশংসাকে শুধু ব্যক্তিগত অর্জন হিসেবে না দেখে এর ধারাবাহিকতা ধরে রাখাই এখন তাঁর লক্ষ্য।

কাউন্টি ক্রিকেটের অভিজ্ঞতাও অস্ট্রেলিয়ায় ভালো পারফরম্যান্সে সহায়তা করেছে বলে মনে করেন হাসান। ভবিষ্যতে সুযোগ পেলে নিয়মিত কাউন্টি ক্রিকেট খেলতে চান তিনি। তাঁর মতে, কাউন্টি ক্রিকেটে খেললে একজন ক্রিকেটারের স্কিলের পাশাপাশি মানসিক দক্ষতাও উন্নত হয়। তবে বাংলাদেশের ক্রিকেট মৌসুমের সঙ্গে ইংল্যান্ডের কাউন্টি মৌসুমের সময়সূচিতে সংঘাত থাকায় নিয়মিত খেলা কঠিন।

বাংলাদেশের পেস বোলিংয়ে প্রতিযোগিতাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন হাসান। তাঁর মতে, দলে স্বাস্থ্যকর প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকা গুরুত্বপূর্ণ। সবাই যদি ব্যক্তিগত সাফল্যের পাশাপাশি দলের জন্য ভালো করার চিন্তা করে, তাহলে প্রতিযোগিতা ইতিবাচক ফল বয়ে আনে। একে অপরের কাছ থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে দলীয় বোলিং আরও শক্তিশালী করা সম্ভব।

অস্ট্রেলিয়া সফরের আগে বোলিংয়ের নির্ভুলতা বাড়াতে বিশেষভাবে কাজ করেছেন বাংলাদেশের এই পেসার। নতুন বলে বোলিং, সুইং এবং নিখুঁত ডেলিভারির ওপর জোর দিয়েছেন তারা। বাঁহাতি ও ডানহাতি ব্যাটারের বিপক্ষে কীভাবে বল করতে হবে, সেটিও আলাদাভাবে পরিকল্পনা করেছেন। অনুশীলনে করা সেই পরিকল্পনা ম্যাচে প্রয়োগ করতে পারাই ডারউইনে সাফল্যের অন্যতম কারণ বলে মনে করেন হাসান।

অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞ পেসারদের কাছ থেকেও পরোক্ষভাবে শেখার সুযোগ পেয়েছেন বাংলাদেশের বোলাররা। ম্যাচের পর শরিফুল ও তাসকিন জশ হ্যাজলউড ও মিচেল স্টার্কের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাঁদের কাছ থেকে মাইন্ডসেট, অনুশীলন, ওয়ার্কলোড এবং খাদ্যাভ্যাসসহ ক্যারিয়ার উন্নয়নের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন বাংলাদেশের বোলাররা।

হাসানের মতে, এসব অভিজ্ঞতা শুধু একটি সিরিজে ভালো করার জন্য নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে ক্যারিয়ার এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। অস্ট্রেলিয়া সফর তাই তাঁর কাছে শুধু একটি সফল সিরিজ নয়; বরং একজন পেসার হিসেবে আরও পরিণত হয়ে ওঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

বিস্তারিত জানতে আরো পড়ুন>> 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত