রোনালদোকে বেঞ্চে রেখেই আল নাসরের নাটকীয় জয়

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬
  • ১৫ বার
রোনালদোকে বেঞ্চে রেখেই আল নাসরের নাটকীয় জয়

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে ঘিরেই ম্যাচের আগে ছিল বাড়তি আগ্রহ। চলতি মৌসুমে প্রথমবারের মতো আল নাসরের মূল একাদশে জায়গা পেয়েছিলেন পর্তুগিজ এই মহাতারকা। কিন্তু ম্যাচ শেষ হওয়ার পর আলোচনার কেন্দ্রে রোনালদোর পারফরম্যান্সের চেয়ে বেশি জায়গা করে নিয়েছে তাকে ছাড়াই আল নাসরের অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন। দুই গোলে পিছিয়ে থাকা এবং একজন খেলোয়াড় কম নিয়ে খেলা আল নাসর শেষ পর্যন্ত আল ইত্তিফাককে ৩-২ গোলে হারিয়ে পেয়েছে নাটকীয় জয়।

ম্যাচের শুরু থেকেই অবশ্য আল নাসরের জন্য পরিস্থিতি ছিল কঠিন। মাত্র ১২ মিনিটের মাথায় আল ইত্তিফাকের স্ট্রাইকার মুসা দেম্বেলেকে ফাউল করে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন আল নাসরের গোলরক্ষক বেন্তো। ফলে ম্যাচের বাকি সময়ের বড় একটি অংশ ১০ জনের দল নিয়ে খেলতে হয় আল নাসরকে। একজন খেলোয়াড় কমে যাওয়ার পর আল ইত্তিফাক আক্রমণের চাপ আরও বাড়িয়ে দেয় এবং আল নাসরের রক্ষণকে ব্যস্ত রাখে।

এরপর প্রথমার্ধের ৩১ মিনিটে গোল করে আল ইত্তিফাক এগিয়ে যায়। বিরতির ঠিক আগে যোগ করা সময়েও আরেকটি গোল করে স্বাগতিকরা। ফলে প্রথমার্ধ শেষ হয় ২-০ ব্যবধানে। একজন খেলোয়াড় কম থাকা আল নাসরের সামনে তখন ম্যাচে ফেরার পথটা প্রায় অসম্ভব বলেই মনে হচ্ছিল।

এর মধ্যেই আসে ম্যাচের সবচেয়ে আলোচিত সিদ্ধান্ত। প্রথমার্ধের খেলা শেষ হওয়ার পর আল নাসর কোচ অ্যাঞ্জ পোস্তেকোগলু রোনালদোকে মাঠ থেকে তুলে নেন। চলতি মৌসুমে প্রথমবার মূল একাদশে নামা রোনালদোর জন্য এই সিদ্ধান্ত ছিল নিঃসন্দেহে অপ্রত্যাশিত। মাঠ ছাড়ার সময় তার অভিব্যক্তিতে কোচের সিদ্ধান্তে অসন্তোষের ছাপ ছিল বলেও ম্যাচ-পরবর্তী আলোচনায় উঠে এসেছে।

তবে পোস্তেকোগলুর সিদ্ধান্তের পেছনে ছিল ম্যাচের বাস্তব পরিস্থিতি। প্রথমার্ধে রোনালদোকে তার স্বাভাবিক ছন্দে দেখা যায়নি। পুরো প্রথমার্ধে তিনি মাত্র সাতবার বল স্পর্শ করেন। দুটি শট নিলেও তার একটি ছিল লক্ষ্যে। পাঁচটি পাসের মধ্যে দুটি ছিল ভুল। ফলে একজন খেলোয়াড় কম নিয়ে খেলতে থাকা দলের আক্রমণে প্রত্যাশিত প্রভাব রাখতে পারেননি ৪১ বছর বয়সী এই তারকা।

দলের যখন গোলের প্রয়োজন, তখন রোনালদোর মতো একজন অভিজ্ঞ গোলদাতাকে তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রথম দৃষ্টিতে বিস্ময় তৈরি করতেই পারে। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধের ঘটনাপ্রবাহে দেখা যায়, আল নাসর কোচের কৌশল কার্যকর হয়েছে। রোনালদো মাঠ ছাড়ার পর আল নাসর ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে শুরু করে। খেলোয়াড়সংখ্যায় পিছিয়ে থেকেও তারা আক্রমণে গতি বাড়ায় এবং আল ইত্তিফাকের রক্ষণে চাপ তৈরি করতে থাকে।

অবশেষে ৭৪ মিনিটে সাদিও মানে আল নাসরের হয়ে একটি গোল করে ব্যবধান কমিয়ে আনেন। ২-১ হওয়ার পর ম্যাচের চিত্র দ্রুত পাল্টে যায়। আল নাসরের খেলোয়াড়দের মধ্যে আত্মবিশ্বাস বাড়তে থাকে। আল ইত্তিফাকও তখন নিজেদের দুই গোলের সুবিধা ধরে রাখার চাপে পড়ে যায়।

প্রথম গোলের মাত্র তিন মিনিট পরই আসে সমতা ফেরানোর মুহূর্ত। আবদুল্লাহ আল আমারি গোল করে ২-২ ব্যবধানে নিয়ে আসেন ম্যাচ। মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে দুই গোল করে ১০ জনের আল নাসর প্রমাণ করে, ম্যাচ তখনও তাদের নাগালের বাইরে চলে যায়নি।

সমতায় ফেরার পর ম্যাচের উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। একদিকে আল ইত্তিফাক নিজেদের ঘরের মাঠে জয়ের সুযোগ হারানোর শঙ্কায়, অন্যদিকে আল নাসর অসম্ভবকে সম্ভব করার পথে এগিয়ে চলেছে। নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষ হওয়ার পরও দুই দলই জয়সূচক গোলের সন্ধানে ছিল।

শেষ পর্যন্ত নাটকীয় পরিণতি আসে যোগ করা সময়ে। আবারও গোলের নায়ক হন সাদিও মানে। ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে নিজের দ্বিতীয় গোল করে আল নাসরকে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি। শেষ মুহূর্তের সেই গোলেই সম্পূর্ণ হয় আল নাসরের অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন। দুই গোলে পিছিয়ে থাকা এবং একজন খেলোয়াড় কম নিয়ে খেলা দলটি শেষ পর্যন্ত তিন গোল করে জয় ছিনিয়ে নেয়।

ম্যাচটির আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো রোনালদোর ভূমিকা। দলের সবচেয়ে বড় তারকাকে প্রথমার্ধের পর মাঠে না রেখেই আল নাসর যে জয় তুলে নিয়েছে, সেটি নিঃসন্দেহে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে একজন খেলোয়াড়কে ঘিরে ম্যাচের মূল্যায়ন না করে পুরো দলের পারফরম্যান্স বিবেচনা করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। রোনালদো মাঠে থাকাকালে আল নাসর যে সমস্যায় পড়েছিল, তার পরও সতীর্থরা দ্বিতীয়ার্ধে নিজেদের সংগঠিত করে ঘুরে দাঁড়ানোর অসাধারণ মানসিকতা দেখিয়েছে।

বিশেষ করে সাদিও মানের পারফরম্যান্স আল নাসরের প্রত্যাবর্তনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দুই গোল করে তিনি দলকে শুধু ম্যাচে ফিরিয়েই আনেননি, শেষ পর্যন্ত জয়ও এনে দিয়েছেন। আবদুল্লাহ আল আমারির গোলটিও ছিল সমান গুরুত্বপূর্ণ। ২-২ সমতায় ফেরার পর আল নাসরের আত্মবিশ্বাস আরও বেড়ে যায় এবং শেষ পর্যন্ত তারা জয় নিশ্চিত করে।

এই জয় আল নাসরের পয়েন্ট টেবিলের অবস্থানেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে। লিগে টানা তিন ম্যাচ জিতে দলটি শীর্ষস্থান আরও শক্ত করেছে। মৌসুমের শুরুতেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারা দলটির জন্য ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে এমন জয় খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়াতে পারে।

অন্যদিকে আল ইত্তিফাকের জন্য ম্যাচটি হয়ে থাকবে হতাশার। ১২ মিনিটে প্রতিপক্ষের গোলরক্ষক লাল কার্ড দেখায় এবং প্রথমার্ধে দুই গোলের লিড নেওয়ার পরও তারা জয় ধরে রাখতে পারেনি। ১০ জনের দলের বিপক্ষে দ্বিতীয়ার্ধে তিন গোল হজম করে ম্যাচ থেকে পুরো তিন পয়েন্ট হারানো তাদের জন্য বড় ধাক্কা।

ফুটবলে কখনো কখনো ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ এক মুহূর্তেই বদলে যায়। আল ইত্তিফাকের বিপক্ষে আল নাসরের ম্যাচটিও তার ব্যতিক্রম নয়। প্রথমার্ধে সবকিছু যখন আল নাসরের বিপক্ষে ছিল, তখন দ্বিতীয়ার্ধে পাল্টে যায় পুরো গল্প। রোনালদো বেঞ্চে বসে দেখেছেন সতীর্থদের লড়াই, আর মাঠে থাকা সাদিও মানে ও অন্য খেলোয়াড়রা অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন।

এই ম্যাচ তাই শুধু একটি জয় নয়; এটি আল নাসরের লড়াই করার মানসিকতা, কৌশলগত পরিবর্তন এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দলীয় ঐক্যেরও বড় উদাহরণ হয়ে থাকল। রোনালদোকে ঘিরে শুরু হওয়া ম্যাচের গল্প শেষ হয়েছে সাদিও মানের দুই গোল এবং আল নাসরের ৩-২ ব্যবধানের নাটকীয় জয়ে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত