বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে পাঁচ দিনের কর্মসূচি

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬
  • ৫ বার
বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে পাঁচ দিনের কর্মসূচি

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২৬  । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পাঁচ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে দলীয় ইতিহাস, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক ভূমিকা এবং দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামের স্মৃতি তুলে ধরার পাশাপাশি সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি।

বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী এসব কর্মসূচির কথা জানান। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কেন্দ্র থেকে ঘোষিত কর্মসূচির পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন সাংগঠনিক ইউনিট নিজেদের উদ্যোগে নানা কর্মসূচি পালন করবে। দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজনকে অর্থবহ করে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিন ১ সেপ্টেম্বর সকালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন রয়েছে। সকাল ৯টায় দলের প্রতিষ্ঠাতার মাজারে ফাতেহা পাঠ ও পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে। এ কর্মসূচিতে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত থাকবেন বলে জানিয়েছেন রুহুল কবীর রিজভী। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রথম দিনের এই কর্মসূচিকে ঘিরে দলটির কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর ইতিহাসে জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন একটি গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। প্রতিষ্ঠাতার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি দলটির রাজনৈতিক আদর্শ ও অতীত আন্দোলনের নানা অধ্যায় স্মরণ করার সুযোগ হিসেবে এ কর্মসূচিকে দেখছেন নেতাকর্মীরা। এবারও কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে এ আয়োজন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ৫ সেপ্টেম্বর বিশেষ আলোচনাসভার আয়োজন করা হবে। সেখানে দলের প্রতিষ্ঠা, রাজনৈতিক দর্শন, দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিএনপির ভূমিকা এবং দলটির দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। বিশেষ করে গণতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে নেতারা বক্তব্য দিতে পারেন।

এ ছাড়া সুবিধাজনক সময়ে দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করবে বিএনপি। পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজায়নের বার্তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে দলীয় নেতাকর্মীদের বিভিন্ন এলাকায় বৃক্ষরোপণে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। কর্মসূচির নেতৃত্ব দেবেন বিএনপির নেতা শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে সাধারণ মানুষকেও এ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিতে মৎস্য অবমুক্তকরণও রাখা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্ত করার মাধ্যমে জলজ সম্পদ সংরক্ষণ এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষার বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন বিএনপি নেতা হাবিব উন নবী খান সোহেল। সুবিধাজনক দিনে দেশের বিভিন্ন এলাকায় দলীয়ভাবে এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের কথা জানানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী দলের রাজনৈতিক ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসন, নিপীড়ন ও নির্যাতনের মধ্যেও বিএনপিকে পরাস্ত করা যায়নি। তার বক্তব্যে দলটির অতীত রাজনৈতিক আন্দোলন, নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন এবং বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক প্রতিকূলতার বিষয়গুলো উঠে আসে। বিএনপির নেতাকর্মীরা দীর্ঘ সময় ধরে নানা রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দলকে টিকিয়ে রেখেছেন বলেও তিনি দাবি করেন।

দলের প্রতিষ্ঠার ইতিহাস তুলে ধরে রিজভী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, সুরক্ষা ও গণতন্ত্রের প্রত্যয় সামনে রেখে বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে সামনে রেখে বিএনপির রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়েছিল। প্রতিষ্ঠার পর থেকে দলটি দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

জিয়াউর রহমানের শাসনামলের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করে রিজভী বলেন, একসময় বাংলাদেশকে ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও তার নেতৃত্বে দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতার দিকে এগিয়ে যায়। পাশাপাশি নিরক্ষর জনগোষ্ঠীকে অক্ষরজ্ঞান দেওয়ার বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন। এসব সাফল্য দেশি-বিদেশি চক্রান্তকারীরা মেনে নিতে পারেনি এবং এ কারণেই জিয়াউর রহমানকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে জিয়াউর রহমানের ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা রাজনৈতিক বিতর্ক রয়েছে। বিএনপি তার প্রতিষ্ঠাতাকে স্বাধীনতা, বহুদলীয় গণতন্ত্র ও জাতীয়তাবাদী রাজনীতির অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব হিসেবে তুলে ধরে। অন্যদিকে দেশের অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও ইতিহাসবিদদের মধ্যে তার শাসনকাল, রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত এবং রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ভিন্ন মূল্যায়ন রয়েছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির বক্তব্যে এসব ঐতিহাসিক মূল্যায়নের নিজস্ব রাজনৈতিক ব্যাখ্যাই গুরুত্ব পেয়েছে।

রিজভী তার বক্তব্যে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের কথাও স্মরণ করেন। তিনি বলেন, এরশাদের আমল থেকে শুরু করে দীর্ঘ সময় খালেদা জিয়া আপসহীনভাবে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন করেছেন। বিএনপির রাজনৈতিক ইতিহাসে খালেদা জিয়ার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে দলটির নেতারা মনে করেন। বিভিন্ন সময়ের আন্দোলন, সরকারবিরোধী কর্মসূচি এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের ধারায় তার নেতৃত্বকে দলের নেতাকর্মীরা বিশেষভাবে স্মরণ করেন।

এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিতে রাজনৈতিক সভা-সমাবেশের পাশাপাশি সামাজিক ও পরিবেশভিত্তিক কার্যক্রম যুক্ত করাকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন দলটির নেতারা। বৃক্ষরোপণ ও মৎস্য অবমুক্তকরণের মতো কর্মসূচির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সঙ্গে দলের সাংগঠনিক যোগাযোগ আরও বিস্তৃত করার সুযোগ তৈরি হবে বলে তারা মনে করছেন। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে শুধু দলীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে জনসম্পৃক্ততার সঙ্গে যুক্ত করার লক্ষ্যও এতে প্রতিফলিত হয়েছে।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সামনে রেখে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও দেশের বিভিন্ন সাংগঠনিক ইউনিটে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়েও নেতাকর্মীদের মধ্যে কর্মসূচি বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা চলছে। দলীয় নেতারা আশা করছেন, কেন্দ্রীয়ভাবে ঘোষিত কর্মসূচিগুলো শান্তিপূর্ণভাবে পালনের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজন আরও বিস্তৃত হবে।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে থাকা বিএনপির জন্য প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী শুধু সাংগঠনিকভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন নয়, বরং দলটির অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নিজেদের বার্তা তুলে ধরারও একটি বড় সুযোগ। এবারের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিতে সেই রাজনৈতিক ইতিহাসের স্মরণ, নেতাকর্মীদের ঐক্য এবং সামাজিক কর্মকাণ্ড—তিনটি বিষয়ই গুরুত্ব পেয়েছে।

আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়ে ৫ সেপ্টেম্বরের বিশেষ আলোচনাসভার মধ্য দিয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে ঘোষিত কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ অংশ শেষ হবে। এর বাইরে সুবিধাজনক সময়ে দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ ও মৎস্য অবমুক্তকরণ কার্যক্রম চলবে। ফলে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে কয়েক দিন ধরে বিএনপির সাংগঠনিক তৎপরতা অব্যাহত থাকবে। রাজনৈতিক অঙ্গনে দলটির বর্তমান অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ কর্মপন্থার আলোচনার মধ্যেই এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হতে যাচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত