মাসকাটে জরুরি অবতরণের আগেই বিমানে যাত্রীর মৃত্যু

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬
  • ১৩ বার
মাসকাটে জরুরি অবতরণের আগেই বিমানে যাত্রীর মৃত্যু

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২৬  । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

জেদ্দা থেকে চট্টগ্রামগামী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে অসুস্থ হয়ে ছানোয়ারা বেগম (৫৫) নামে এক নারী যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। আকাশে থাকা অবস্থায় তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ফ্লাইটটি জরুরি চিকিৎসার জন্য ওমানের মাসকাটে ডাইভার্ট করা হয়। পরে মাসকাট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর তাঁকে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহত ছানোয়ারা বেগম চট্টগ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।

বুধবার (২৬ আগস্ট) বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-১৩৬ ফ্লাইটটি সৌদি আরবের জেদ্দা থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে যাত্রা করে। উড্ডয়নের পর মাঝআকাশে ছানোয়ারা বেগম অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় যাত্রীর জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন বিবেচনা করে ফ্লাইটটি নির্ধারিত গন্তব্যের পরিবর্তে মাসকাটে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি পরে মাসকাট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে।

মাসকাটে বিমান অবতরণের পর অসুস্থ যাত্রীকে দ্রুত স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন। তবে তাঁর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। স্বাভাবিকভাবেই আকাশপথে একজন যাত্রীর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়া এবং পরে মৃত্যুর ঘটনায় ফ্লাইটে থাকা অন্য যাত্রীদের মধ্যেও উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়।

চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, ছানোয়ারা বেগমকে মাসকাটে রেখে বিজি-১৩৬ ফ্লাইটটি পরবর্তী সময়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশে যাত্রা করে। তাঁর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের মহাব্যবস্থাপক জনসংযোগ মহিউদ্দিন আহমেদ জানান, স্থানীয় আইন ও প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পর পরবর্তী ফ্লাইটে ছানোয়ারা বেগমের মরদেহ বাংলাদেশে আনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এ প্রক্রিয়ায় ওমানে বাংলাদেশ দূতাবাস সহযোগিতা করছে। বিদেশের মাটিতে কোনো বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যু হলে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে স্থানীয় প্রশাসনিক ও আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। সে অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।

এদিকে যাত্রী মৃত্যুর ঘটনায় বিজি-১৩৬ ফ্লাইটের নির্ধারিত যাত্রাসূচিতেও পরিবর্তন আসে। যাত্রী অসুস্থ হওয়ার পর চিকিৎসার জন্য মাসকাটে ডাইভার্ট হওয়ায় নির্ধারিত সময়ের তুলনায় ফ্লাইটটির চট্টগ্রামে পৌঁছাতে দেরি হয়। সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ফ্লাইটটি শেষ পর্যন্ত বুধবার দুপুরে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

বিজি-১৩৬ ফ্লাইটটি জেদ্দা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে ঢাকার উদ্দেশে পরিচালিত হয়। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, জেদ্দা থেকে যাত্রা শেষে ফ্লাইটটির চট্টগ্রামে পৌঁছে পরবর্তী সময়ে ঢাকায় যাওয়ার কথা ছিল। যাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়ায় মাসকাটে জরুরি অবতরণের কারণে স্বাভাবিক যাত্রাপথে সাময়িক পরিবর্তন আসে। পরে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ করে বিমানটি চট্টগ্রামের উদ্দেশে পুনরায় যাত্রা করে।

ফ্লাইটে কোনো যাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুযায়ী বিমানকে নিকটবর্তী উপযুক্ত বিমানবন্দরে অবতরণের সিদ্ধান্ত নিতে হয়। এ ধরনের সিদ্ধান্ত সাধারণত যাত্রীর শারীরিক অবস্থা, চিকিৎসা সুবিধার প্রাপ্যতা, বিমানের অবস্থান এবং নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করে নেওয়া হয়। ছানোয়ারা বেগমের ক্ষেত্রেও তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতির পর দ্রুত চিকিৎসার সুযোগ তৈরি করতেই ফ্লাইটটি মাসকাটে নেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট তথ্য থেকে জানা গেছে।

তবে জরুরি অবতরণের পরও তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। আকাশপথের দীর্ঘ যাত্রায় এমন একটি ঘটনা শুধু ওই যাত্রীর পরিবারের জন্য নয়, ফ্লাইটে থাকা অন্য যাত্রীদের জন্যও অত্যন্ত বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতা। একজন যাত্রীকে চিকিৎসার জন্য দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাঁর মৃত্যু সংবাদ পুরো ঘটনাকে আরও মর্মান্তিক করে তুলেছে।

ছানোয়ারা বেগমের মরদেহ বর্তমানে ওমানে রয়েছে। বাংলাদেশ দূতাবাসের সহযোগিতায় প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে তাঁর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। মরদেহ দেশে পৌঁছানোর পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর এবং পরবর্তী ধর্মীয় ও পারিবারিক আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে।

নিহত নারীর পারিবারিক পরিচয় বা তিনি কী উদ্দেশ্যে সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশে ফিরছিলেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাঁর মৃত্যুর আগে কোনো নির্দিষ্ট শারীরিক জটিলতা ছিল কি না, সেটিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়নি। ফলে মৃত্যুর কারণ নিয়ে কোনো ধরনের অনুমান না করে চিকিৎসকদের আনুষ্ঠানিক তথ্যের জন্য অপেক্ষা করাই দায়িত্বশীল অবস্থান।

এ ঘটনায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইট পরিচালনায় কোনো ধরনের ত্রুটি ছিল—এমন তথ্যও এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। বরং যাত্রী অসুস্থ হওয়ার পর ফ্লাইট ডাইভার্ট করে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এবং যাত্রীর চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আরও পরিষ্কার হতে পারে।

চট্টগ্রামের বাসিন্দা ছানোয়ারা বেগমের মৃত্যুর সংবাদ তাঁর স্বজনদের জন্য নিঃসন্দেহে গভীর শোকের। দীর্ঘ আকাশযাত্রা শেষে নিজ দেশে ফেরার পথে এমন মর্মান্তিক পরিণতি পরিবারের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক। স্বজনেরা যখন তাঁকে নিরাপদে দেশে ফেরার অপেক্ষায় ছিলেন, তখন মাঝপথে তাঁর মৃত্যুর খবর তাঁদের কাছে পৌঁছায়। এখন পরিবারের প্রধান প্রত্যাশা, দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ করে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা।

এদিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস জানিয়েছে, মরদেহ দেশে আনার প্রক্রিয়ায় ওমানে বাংলাদেশ দূতাবাস সহযোগিতা করছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, স্থানীয় প্রশাসনিক অনুমোদন এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর মরদেহ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে। এ ধরনের প্রক্রিয়া শেষ করতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।

বিজি-১৩৬ ফ্লাইটে ঘটে যাওয়া এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, আকাশপথে যাত্রার সময় কোনো যাত্রীর হঠাৎ গুরুতর অসুস্থতা দেখা দিলে কয়েক মিনিটের সিদ্ধান্তও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ছানোয়ারা বেগমের ক্ষেত্রে দ্রুত বিকল্প বিমানবন্দরে অবতরণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাঁর জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। তাঁর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শেষ হওয়া এবং পরিবারের কাছে তাঁকে শেষবারের মতো ফিরিয়ে দেওয়াই এখন সংশ্লিষ্টদের প্রধান দায়িত্ব।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত