মানবতাবিরোধী অপরাধে সাবেক দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চার্জ

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬
  • ১০ বার
মানবতাবিরোধী অপরাধে সাবেক দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চার্জ

প্রকাশ: ২৭ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে ঘিরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে সাবেক স্বরাষ্ট্রসচিব জাহাংগীর আলম ও সাবেক যুগ্মসচিব ধনঞ্জয় কুমার দাসের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন। দীর্ঘ তদন্ত ও তথ্য-উপাত্ত যাচাইয়ের পর মামলাটি বিবিধ মামলা থেকে আনুষ্ঠানিক অভিযোগের পর্যায়ে এসেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট প্রসিকিউটর।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রারের কাছে এ অভিযোগ জমা দেওয়া হয়। অভিযোগ দাখিলের মধ্য দিয়ে মামলাটির বিচারিক প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ অতিক্রম হলো। এখন ট্রাইব্যুনাল অভিযোগের বিষয়বস্তু, তদন্ত প্রতিবেদন এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা করে পরবর্তী আদেশ দেবেন।

প্রসিকিউশন সূত্রে জানা যায়, এতদিন সাবেক স্বরাষ্ট্রসচিব জাহাংগীর আলম ও সাবেক যুগ্মসচিব ধনঞ্জয় কুমার দাসের বিরুদ্ধে মামলাটি ‘মিসকেস’ বা বিবিধ মামলা হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছিল। তদন্তের সময় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য, নথি ও ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হয়। দীর্ঘ তদন্ত শেষে তদন্ত সংস্থার পক্ষ থেকে প্রতিবেদন চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়।

এরপর প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও যাচাই-বাছাই করা হয়। অভিযোগের প্রাথমিক ভিত্তি এবং মামলার নথিপত্র পর্যালোচনার পর বৃহস্পতিবার সেটিকে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ হিসেবে ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হয়েছে।

প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ জানিয়েছেন, মামলাটি বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর কার্যতালিকায় রয়েছে। কার্যতালিকায় মামলাটির অবস্থান দুই নম্বরে। অভিযোগ দাখিলের পর বিষয়টি নিয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল পরবর্তী আদেশ দেবেন।

এদিন সকালে সাবেক স্বরাষ্ট্রসচিব জাহাংগীর আলমকে কারাগার থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। সংশ্লিষ্ট মামলার কার্যক্রমে অংশ নিতে তাকে আদালতে আনা হয়। ট্রাইব্যুনালে তার উপস্থিতিকে ঘিরে মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

জাহাংগীর আলম সাবেক স্বরাষ্ট্রসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা চলমান রয়েছে। নতুন করে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল হওয়ায় তার বিরুদ্ধে চলমান আইনি প্রক্রিয়ার পরিধি আরও বিস্তৃত হলো।

অন্যদিকে, সাবেক যুগ্মসচিব ধনঞ্জয় কুমার দাসের বিরুদ্ধেও একই মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে ঠিক কোন কোন ঘটনার সঙ্গে কী ধরনের সম্পৃক্ততার কথা বলা হয়েছে, তা ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগের বিস্তারিত শুনানি ও পরবর্তী কার্যক্রমে স্পষ্ট হবে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে কোনো মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল বিচারিক প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। তদন্ত পর্যায়ে সংগৃহীত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে প্রসিকিউশন যখন মনে করে যে অভিযোগের বিষয়ে বিচারিকভাবে এগিয়ে যাওয়ার মতো ভিত্তি রয়েছে, তখন ফরমাল চার্জ দাখিল করা হয়। এরপর আদালত অভিযোগ গ্রহণ, আসামিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ এবং বিচার কার্যক্রমের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে এরই মধ্যে একাধিক মামলা ও তদন্ত হয়েছে। এসব মামলায় আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা, প্রাণহানি এবং বিভিন্ন ধরনের সহিংসতার অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়েও তদন্ত চলছে। এসব অভিযোগের সত্যতা বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।

সাবেক দুই সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের ঘটনাটিও সেই বৃহত্তর বিচারিক প্রক্রিয়ার অংশ। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের দোষী হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। আদালতে প্রসিকিউশনকে অভিযোগের পক্ষে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করতে হবে এবং আসামিপক্ষ তাদের বক্তব্য ও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাবেন।

মামলাটির পরবর্তী শুনানিতে অভিযোগের বিভিন্ন দিক নিয়ে ট্রাইব্যুনালের সামনে আলোচনা হতে পারে। আনুষ্ঠানিক অভিযোগের ভিত্তি, তদন্তের অগ্রগতি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের ধরন আদালতের পরবর্তী আদেশে আরও পরিষ্কার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে জাহাংগীর আলমের বিরুদ্ধে আগে থেকেই একাধিক মামলা চলমান থাকার বিষয়টিও সামনে এসেছে। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা একজন সাবেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলার বিচারিক কার্যক্রম চলতে থাকায় সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলোর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রেক্ষাপট নিয়েও জনমনে আগ্রহ রয়েছে। তবে বিচারাধীন কোনো বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের মাধ্যমেই আসবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মতো বড় রাজনৈতিক ও সামাজিক ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অভিযোগের বিচার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, প্রমাণের নির্ভরযোগ্যতা এবং আইনি মানদণ্ড অনুসরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগ যত গুরুতরই হোক, প্রত্যেক আসামির ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করাও জরুরি।

সংশ্লিষ্টদের আশা, ট্রাইব্যুনালের পরবর্তী শুনানি ও আদেশের মাধ্যমে মামলাটির বিচারিক গতিপথ আরও স্পষ্ট হবে। দীর্ঘ তদন্তের পর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল হওয়ায় এখন আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই নজর থাকবে। অভিযোগের সত্যতা, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট শেষ পর্যন্ত আদালতের বিচার ও প্রমাণ মূল্যায়নের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত