উড়োজাহাজে আসা মশার কামড়ে ফ্রাঙ্কফুর্টে ২ মৃত্যু

ফারহান ফারাবী
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬
  • ১৪ বার

প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

জার্মানির ব্যস্ততম ফ্রাঙ্কফুর্ট বিমানবন্দরে ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে দুই কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। বিমানবন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ফ্রাপোর্ট এবং স্থানীয় জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ফ্রাঙ্কফুর্ট বিমানবন্দরে কর্মরত মোট ছয়জন পুরুষ কর্মী বিরল এই ম্যালেরিয়া প্রাদুর্ভাবে আক্রান্ত হন। তাদের মধ্যে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। বেঁচে যাওয়া চারজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং তারা বর্তমানে সুস্থ হয়ে উঠছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের ধারণা, কোনো একটি উড়োজাহাজে করে বহিরাগত একটি ‘অ্যানোফিলিস’ মশা জার্মানিতে প্রবেশ করে থাকতে পারে। পরে ওই মশার কামড়েই বিমানবন্দরের কর্মীরা ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হন।

‘এয়ারপোর্ট ম্যালেরিয়া’ নামে পরিচিত এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত বিরল। সাধারণত সংক্রমিত মশা বিমান বা কার্গো পণ্যের সঙ্গে এক দেশ থেকে অন্য দেশে চলে গেলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। গন্তব্যে পৌঁছানোর পর ওই মশা মানুষকে কামড়ালে স্থানীয়ভাবে ম্যালেরিয়া সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

জার্মানির সরকারি রোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা রবার্ট কক ইনস্টিটিউট (আরকেআই) জানিয়েছে, গত ৪ থেকে ৬ জুলাইয়ের মধ্যে আক্রান্ত কর্মীরা অসুস্থ হয়ে পড়েন। জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে প্রথম চারজনের ম্যালেরিয়া শনাক্ত হয়।

ডাচ ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর পাবলিক হেলথ অ্যান্ড দ্য এনভায়রনমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, পরীক্ষায় আক্রান্তদের শরীরে ম্যালেরিয়ার সবচেয়ে বিপজ্জনক ও প্রাণঘাতী প্রজাতি ‘প্লাজমোডিয়াম ফ্যালসিপেরাম’ শনাক্ত হয়েছে।

ফ্রাঙ্কফুর্ট জনস্বাস্থ্য বিভাগ বর্তমানে ঘটনাটির তদন্ত তদারকি করছে। আক্রান্তরা একটি নাকি একাধিক মশার কামড়ে সংক্রমিত হয়েছেন, তা নির্ধারণে তাদের রক্তের নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে।

এদিকে, মশাটির প্রজাতি ও সম্ভাব্য ভৌগোলিক উৎস শনাক্ত করতে বিমানবন্দর এলাকায় ফাঁদ পেতে ধরা মশাগুলো বেলজিয়ামের অ্যান্টওয়ার্পে অবস্থিত ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল মেডিসিনে পাঠানো হয়েছে। সেখানে মশাগুলোর জিনগত পরীক্ষা করা হবে।

ফ্রাঙ্কফুর্ট স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান পিটার টিনম্যান জার্মান সংবাদ সংস্থা ডিপিএকে জানিয়েছেন, সংক্রমণের জন্য দায়ী মশাটি সম্ভবত এরই মধ্যে মারা গেছে। তার মতে, এ ঘটনায় স্থানীয় সাধারণ মানুষের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি প্রায় নেই।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মতে, ম্যালেরিয়া সংক্রমিত মশার কামড়ের মাধ্যমে ছড়ায়। সাধারণ পরিস্থিতিতে এটি সরাসরি একজন মানুষ থেকে অন্য মানুষের দেহে ছড়ায় না।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ফ্রাপোর্ট তাদের সব কর্মীকে ম্যালেরিয়ার সম্ভাব্য উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

জার্মানির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, ম্যালেরিয়ার প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা অত্যন্ত কার্যকর। তবে চিকিৎসা না করা হলে রোগটি দ্রুত জটিল আকার ধারণ করতে পারে। গুরুতর অবস্থায় রোগী কোমায় চলে যেতে পারেন এবং মৃত্যুও হতে পারে।

এ ঘটনায় চিকিৎসকদের জন্য আরেকটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আরকেআই জানিয়েছে, আক্রান্ত কর্মীদের সাম্প্রতিক সময়ে বিদেশ ভ্রমণের কোনো রেকর্ড ছিল না। ফলে প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসকেরা ম্যালেরিয়ার কথা বিবেচনা করে পরীক্ষা করতে দেরি করেন। শেষ পর্যন্ত এ বিলম্ব প্রাণঘাতী ঝুঁকি তৈরি করে।

পশ্চিম ইউরোপে স্থানীয়ভাবে কিংবা বিমানবন্দরের মাধ্যমে ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা অত্যন্ত বিরল। আরকেআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ফ্রাঙ্কফুর্ট বিমানবন্দরে এর আগে সর্বশেষ ২০২৩ সালে এ ধরনের একটি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছিল।

বর্তমান ঘটনায় তদন্তকারীরা এখন মূলত সংক্রমণের উৎস এবং দায়ী মশাটির গতিপথ শনাক্ত করার চেষ্টা করছেন। বিমানবন্দরের মতো আন্তর্জাতিক যোগাযোগের কেন্দ্রগুলোতে উড়োজাহাজ ও কার্গোর মাধ্যমে বিদেশি মশা প্রবেশের সম্ভাবনা থাকলেও এ ধরনের সংক্রমণ সাধারণত বিরল। তবে ফ্রাঙ্কফুর্টে একই ঘটনায় ছয়জন কর্মী আক্রান্ত এবং দুজনের মৃত্যুর ঘটনা বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে।

বিস্তারিত জানতে আরো পড়ুন>> 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত