ভারতে বাংলাভাষী মুসলিম-রোহিঙ্গাদের অভিযান নিয়ে জাতিসংঘের উদ্বেগ

ফারহান ফারাবী
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬
  • ৯ বার

প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ভারতে রোহিঙ্গা শরণার্থী, বাংলাভাষী মুসলমান, অভিবাসী ও আশ্রয়প্রার্থীদের লক্ষ্য করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান বেড়েছে বলে উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘের জাতিগত বৈষম্য দূরীকরণ কমিটি। তবে জাতিসংঘের এই পর্যবেক্ষণকে রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিদ্বেষপূর্ণ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত।

মঙ্গলবার জাতিসংঘের জাতিগত বৈষম্য দূরীকরণ কমিটি এক বিবৃতিতে জানায়, ২০১৭ সালে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা নির্দেশ এবং ২০২৫ সালের পহেলগাম সন্ত্রাসী হামলার পর বিশেষ করে রোহিঙ্গা, বাংলাভাষী মুসলমান, অভিবাসী ও আশ্রয়প্রার্থীদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান বৃদ্ধি পেয়েছে।

২০১৭ সালের নির্দেশনায় রোহিঙ্গাসহ অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত, বহিষ্কার ও ফেরত পাঠানোর বিষয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছিল। পরে ২০২৫ সালের এপ্রিলে জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার কয়েক সপ্তাহ পর ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোকে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার থেকে আসা সন্দেহভাজন অবৈধ অভিবাসীদের নথিপত্র ও পরিচয় যাচাইয়ের নির্দেশ দেয়।

ওই নির্দেশনার পর ভারতের কয়েকটি রাজ্যে পুলিশ বাংলাভাষী ব্যক্তিদের আটক করে তাদের ভারতীয় নাগরিকত্বের প্রমাণ দেখাতে বলে। অভিযোগ রয়েছে, নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হওয়া অনেককে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে। আবার ভুলবশত বাংলাদেশে পাঠানো কিছু ব্যক্তি ভারতীয় নাগরিক হিসেবে শনাক্ত হওয়ার পর নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।

জাতিসংঘের কমিটি ভারতের তফসিলি জাতি, তফসিলি ট্রাইব এবং অন্যান্য গোষ্ঠীর বিরুদ্ধেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কথিত মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নয়াদিল্লির প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

তবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জাতিসংঘের পর্যবেক্ষণ প্রত্যাখ্যান করেছে। বুধবার মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, জাতিসংঘের কমিটির পর্যালোচনাটি নিয়মিত চুক্তিভিত্তিক প্রক্রিয়ার অংশ এবং ভারত এতে গঠনমূলক মনোভাব নিয়ে অংশ নিয়েছে।

তিনি জানান, পর্যালোচনার সময় ভারত তার সাংবিধানিক সুরক্ষা, আইনি কাঠামো, বহুমাত্রিক সংস্কৃতি এবং অনগ্রসর সম্প্রদায়গুলোর সুরক্ষায় নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের বিষয়টি তুলে ধরেছে।

জয়সওয়াল বলেন, ‘কমিটির পর্যবেক্ষণগুলোর জবাব আমরা নির্ধারিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই দেব।’ তিনি আরও জানান, সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতার নেতৃত্বে ভারতের আন্তঃমন্ত্রণালয় প্রতিনিধি দল পর্যালোচনা বৈঠকে ঢালাও মন্তব্য, ভিত্তিহীন অভিযোগ এবং কমিটির এখতিয়ারবহির্ভূত বিষয়গুলো প্রত্যাখ্যান করেছে।

জাতিসংঘের পর্যবেক্ষণ এবং ভারতের পাল্টা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে দেশটিতে অভিবাসন, নাগরিকত্ব যাচাই এবং সংখ্যালঘু ও শরণার্থীদের অধিকার নিয়ে বিতর্ক আবারও সামনে এসেছে। বিশেষ করে পহেলগাম হামলার পর বাংলাদেশ ও মিয়ানমার থেকে আসা সন্দেহভাজন অভিবাসীদের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপ নিয়ে মানবাধিকার ও বৈষম্যের প্রশ্নটি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও গুরুত্ব পেয়েছে।

বিস্তারিত জানতে আরো পড়ুন>> 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত