নেপালের দুর্যোগে অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন মানসী

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬
  • ১০ বার
নেপালের দুর্যোগে অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন মানসী

প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

নেপালের ভয়াবহ বন্যা ও দুর্যোগ থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন ভারতীয় অভিনেত্রী ও সঞ্চালক মানসী পারেখ। কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রায় অংশ নিতে নেপাল হয়ে তিব্বতের পথে থাকা এই অভিনেত্রী বর্তমানে চীনে নিরাপদে অবস্থান করছেন। তবে যে এলাকায় যাওয়ার কথা ছিল, সেখানে তার পৌঁছানোর আগেই ভয়াবহ বন্যা ও দুর্যোগ নেমে আসায় বড় ধরনের বিপদের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন তিনি।

সাম্প্রতিক বন্যা ও ভূমিধসে নেপালের তিব্বত সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। বিশেষ করে রাসুওয়া জেলার গিরং সীমান্ত এলাকার পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। পাহাড়ি অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধস দেখা দেওয়ায় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং বহু মানুষ বিভিন্ন স্থানে আটকা পড়েন।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই মানসী পারেখের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্ট নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সেখানে তিনি জানান, ২৭ আগস্ট ওই এলাকায় থাকার কথা ছিল তার। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের আগেই সেখান থেকে চলে আসায় তিনি বিপদ এড়িয়ে যেতে সক্ষম হন। বর্তমানে তিনি চীনে অবস্থান করছেন এবং নিরাপদে আছেন বলে জানিয়েছেন।

নেপালের দুর্যোগের বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন মানসী। একটি ভিডিও শেয়ার করে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি জানান, পরিস্থিতি দেখে তিনি গভীরভাবে বিচলিত। যে জায়গায় কয়েক দিন আগেও তিনি গিয়েছিলেন এবং স্থানীয় মানুষের কাছ থেকে উষ্ণ অভ্যর্থনা পেয়েছিলেন, সেই এলাকাকেই অল্প সময়ের ব্যবধানে পানির নিচে দেখতে হচ্ছে—বিষয়টি তাকে মানসিকভাবে নাড়া দিয়েছে।

মানসীর প্রকাশ করা ভিডিও ও বক্তব্যে ভ্রমণের আনন্দের পাশাপাশি হঠাৎ দুর্যোগের ভয়াবহ বাস্তবতাও ফুটে উঠেছে। কয়েক দিন আগে যে জায়গায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা দেখেছেন, সেখানে এখন বন্যার পানি ও ধ্বংসযজ্ঞের ছবি দেখে তিনি নিজের ভাগ্যকেও নতুন করে উপলব্ধি করছেন।

একটি পোস্টে তিনি জীবনের অনিশ্চয়তার কথাও তুলে ধরেছেন। তার ভাষায়, জীবন অত্যন্ত অনিশ্চিত এবং সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো তাকে বারবার মানসিকভাবে ভেঙে দিচ্ছে। নিজের নিরাপদ থাকার বিষয়টি জানালেও দুর্যোগে আটকে পড়া ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের কথা ভেবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এই অভিনেত্রী।

মানসী একই সঙ্গে নেপালে বিপদে পড়া মানুষের জন্য প্রার্থনা করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি জানান, ঈশ্বরের কৃপায় তারা চীনে নিরাপদে আছেন। একই সঙ্গে তাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ চলছে। বন্যা ও ভূমিধসের কারণে যেসব মানুষ বিভিন্ন এলাকায় আটকা পড়েছেন, তাদের সন্ধান ও উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো কাজ করছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

মানসীর এই অভিজ্ঞতা আবারও দেখিয়ে দিয়েছে পাহাড়ি অঞ্চলে দুর্যোগ কত দ্রুত পরিস্থিতি বদলে দিতে পারে। পর্যটক কিংবা তীর্থযাত্রীদের জন্য একটি এলাকা কয়েক ঘণ্টা আগেও নিরাপদ মনে হলেও ভারী বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল কিংবা ভূমিধসের কারণে মুহূর্তের মধ্যে তা বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। ফলে এ ধরনের যাত্রায় আবহাওয়া পরিস্থিতি, স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা এবং যোগাযোগব্যবস্থার সর্বশেষ তথ্য অনুসরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মানসী পারেখ মূলত ভারতীয় চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন অঙ্গনের পরিচিত মুখ। অভিনয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও বিনোদনমূলক কর্মকাণ্ডেও তার উপস্থিতি রয়েছে। আধ্যাত্মিক ও ধর্মীয় ভ্রমণের প্রতিও তার আগ্রহ রয়েছে। সেই আগ্রহ থেকেই সদগুরু জগ্গী বাসুদেবের ইশা ফাউন্ডেশনের আয়োজিত কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রায় অংশ নিয়েছেন তিনি।

কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রা সাধারণ পর্যটন ভ্রমণের তুলনায় অনেক বেশি কঠিন। দুর্গম পাহাড়ি পথ, উচ্চতার পরিবর্তন এবং আবহাওয়ার দ্রুত পরিবর্তন এ যাত্রাকে কঠিন করে তোলে। তার ওপর নেপাল ও তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিলে যাত্রীদের জন্য পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।

মানসী যে সময়ে নেপালে ছিলেন, তখন দেশটির বিভিন্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাত ও আকস্মিক বন্যার খবর সামনে আসে। পাহাড়ি নদী ও ছোট ছোট জলধারার পানি বেড়ে গিয়ে বিভিন্ন সড়ক ও জনপদ প্লাবিত হয়। কোথাও কোথাও ভূমিধসের কারণে সড়ক বন্ধ হয়ে যায়। ফলে তীর্থযাত্রী, পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই নিরাপদ স্থানে যাওয়ার জন্য অপেক্ষায় পড়েন।

নেপালের এই দুর্যোগে শুধু মানসী নন, আরও কয়েকজন ভারতীয় তারকা বিপাকে পড়েছেন বলে জানা গেছে। ভারতীয় অভিনেতা খরাজ মুখার্জিও নেপালে গিয়ে দুর্যোগের মধ্যে পড়েছেন। তাদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া ও দেশে ফেরানোর বিষয়টি নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এদিকে বাংলাদেশি অভিনেত্রী অপু বিশ্বাসও নেপালে গিয়ে দুর্যোগের মধ্যে পড়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। ফলে নেপালের সাম্প্রতিক দুর্যোগ বিনোদন অঙ্গনের কয়েকজন পরিচিত মুখের ভ্রমণকেও অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলেছে।

মানসীর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় স্বস্তির বিষয় হলো, বিপজ্জনক এলাকায় নির্ধারিত সময়ের আগে সরে আসতে পেরেছিলেন তিনি। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে একই জায়গার দৃশ্য এতটা বদলে যেতে পারে—এই বাস্তবতা তাকে যেমন নাড়া দিয়েছে, তেমনি তার অনুসারীদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি করেছে।

দুর্যোগের এমন মুহূর্তে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অন্যদের জন্য উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মানসী। তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে ব্যক্তিগত স্বস্তির চেয়ে বিপদে থাকা মানুষের জন্য সহমর্মিতাই বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। তিনি আটকে পড়া মানুষদের দ্রুত উদ্ধার এবং নিরাপদে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য প্রার্থনা করতে বলেছেন।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ মানুষের পরিকল্পনাকে কতটা দ্রুত বদলে দিতে পারে, মানসীর সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা তারই একটি উদাহরণ। কয়েক দিন আগে যে পথে আধ্যাত্মিক ভ্রমণের অংশ হিসেবে যাত্রা করেছিলেন, সেখানেই পরে নেমে এসেছে ভয়াবহ দুর্যোগ। ভাগ্যক্রমে তিনি আগেই সরে যাওয়ায় নিরাপদে চীনে পৌঁছাতে পেরেছেন।

তবে নেপালে আটকে থাকা বা দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত সবার ভাগ্য এতটা অনুকূল নয়। তাদের জন্য এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো দ্রুত উদ্ধার, নিরাপদ আশ্রয় এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত করা। মানসীর মতো আরও অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের জন্য প্রার্থনা ও সহায়তার আহ্বান জানাচ্ছেন।

নিজের নিরাপদ থাকার খবর জানিয়ে মানসী মূলত একটি কথাই মনে করিয়ে দিয়েছেন—জীবন অত্যন্ত অনিশ্চিত। ভ্রমণ যতই পরিকল্পিত হোক, প্রকৃতির আচরণ সব সময় মানুষের নিয়ন্ত্রণে থাকে না। তাই দুর্গম এলাকায় ভ্রমণের ক্ষেত্রে সতর্কতা, স্থানীয় পরিস্থিতি সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজ নেওয়া এবং ঝুঁকি দেখা দিলে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়া জরুরি।

নেপালের দুর্যোগ কাটিয়ে মানসী শেষ পর্যন্ত নিরাপদে আছেন—এটাই তার ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের জন্য সবচেয়ে বড় স্বস্তির খবর। তবে যে মানুষগুলোর সঙ্গে কয়েক দিন আগে তিনি একই এলাকায় ছিলেন, তাদের অনেকেই এখন দুর্যোগের কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি। সেই স্মৃতি ও বাস্তবতার পার্থক্যই তার সাম্প্রতিক পোস্টগুলোকে আরও আবেগঘন করে তুলেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত