রিয়াদের আগুনে নিহত ৯ বাংলাদেশির মরদেহ দেশে

ফারহান ফারাবী
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬
  • ১২ বার

প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৯ বাংলাদেশির মরদেহ দেশে পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মরদেহগুলো গ্রহণ করেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

নিহতদের মধ্যে নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলার সাতজন, নাটোর জেলার নলডাঙ্গা উপজেলার একজন এবং রাজশাহী জেলার বাগমারা উপজেলার একজন রয়েছেন। আত্রাইয়ের নিহত সাতজনের মধ্যে চারজন একই গ্রামের বাসিন্দা এবং দুজন সহোদর।

গত ৯ আগস্ট রিয়াদের একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে ১৬ বাংলাদেশি কর্মী নিহত হন। সৌদি কর্তৃপক্ষ ফিঙ্গারপ্রিন্ট পরীক্ষার মাধ্যমে এ পর্যন্ত নয়জনের পরিচয় শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে। বাকি সাতজনের পরিচয় এখনও শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

মরদেহ গ্রহণের পর আয়োজিত ব্রিফিংয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানান, অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাকি সাত কর্মীর ফিঙ্গারপ্রিন্ট পরীক্ষা করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে সিআইডির তত্ত্বাবধানে তাদের স্বজনদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাকি কর্মীদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সর্বাত্মক কার্যক্রম চলছে। সৌদি আরবের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও বাংলাদেশ দূতাবাস এ বিষয়ে কাজ করছে।

নিহত নয় কর্মীর পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তার সিদ্ধান্তের কথাও জানান তিনি। ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রত্যেক পরিবারকে লাশ পরিবহন ও দাফন খরচ বাবদ ৩৫ হাজার টাকা এবং এককালীন আর্থিক অনুদান হিসেবে ৩ লাখ টাকা দেওয়া হবে। অর্থাৎ প্রত্যেক পরিবার মোট ৩ লাখ ৩৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবে।

এ ছাড়া ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের নিজস্ব অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে মরদেহগুলো সরাসরি নিহতদের গ্রামের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানান প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী।

মরদেহ গ্রহণের সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, কোনো মৃত্যুই কাম্য নয়। প্রবাসী বাংলাদেশিরা পরিবারের জন্য অর্থ উপার্জনের উদ্দেশ্যে বিদেশে গিয়ে কঠোর পরিশ্রম করেন এবং দেশে অর্থ পাঠান।

বাকি সাতজনের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে তিনি বলেন, যারা মারা গেছেন কিন্তু এখনও তাদের মরদেহ দেশে আনা সম্ভব হয়নি, তাদের মরদেহ ফিরিয়ে আনতে সৌদি দূতাবাসের কর্মকর্তারা নিরলসভাবে কাজ করছেন। আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত মরদেহ শনাক্তের জন্য ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে এবং এ বিষয়ে নিহতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।

রিয়াদের ওই অগ্নিকাণ্ডে ১৬ বাংলাদেশি কর্মীর মৃত্যু দেশের প্রবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। সৌদি আরব বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক প্রবাসী কর্মীর অন্যতম প্রধান গন্তব্য। বিভিন্ন কারখানা, নির্মাণকাজ, সেবা ও অন্যান্য খাতে বাংলাদেশিরা সেখানে কর্মরত রয়েছেন।

নিহত নয় বাংলাদেশির মরদেহ দেশে ফেরত আসায় তাদের পরিবারগুলো অন্তত স্বজনদের শেষবারের মতো দেখার সুযোগ পাচ্ছে। একই সঙ্গে বাকি সাতজনের পরিচয় শনাক্ত ও মরদেহ দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়াও দ্রুত সম্পন্ন করার দাবি উঠেছে।

মরদেহ গ্রহণের সময় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক মো. আসাদুজ্জামান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (কনস্যুলার ও কল্যাণ) দেওয়ান আলি আশরাফ এবং ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি আরবের ডেপুটি চিফ অব মিশন ইব্রাহীম আলাহমারি।

বিস্তারিত জানতে আরো পড়ুন>> 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত