শুল্ক ফাঁকিতে টুকরো করে আনা বিএমডব্লিউ জব্দ

ফারহান ফারাবী
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬
  • ৭ বার

প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

চট্টগ্রামে মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি করা একটি বিলাসবহুল বিএমডব্লিউ গাড়ি জব্দ করেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)। উচ্চহারের শুল্ক ফাঁকি দেওয়ার উদ্দেশ্যে আস্ত গাড়িটি ৩ থেকে ৪টি বড় অংশে কেটে ‘ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশ’ হিসেবে দেশে আনা হয়েছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানিয়েছে সংস্থাটি।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে নগরের রহমতগঞ্জের কে বি আবদুস সাত্তার রোডের সাত্তার মঞ্জিলের বিটিআই ভবনের পার্কিং এলাকা থেকে গাড়িটি জব্দ করা হয়। জব্দ করা গাড়িটির নিবন্ধন নম্বর চট্টগ্রাম মেট্রো-ঘ-১১-৩৬৫১।

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক রেজভী আহমেদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিআইআইডি জানতে পারে, একটি বিলাসবহুল গাড়ি ‘সেমি নকড ডাউন’ বা এসকেডি অবস্থায় ব্যবহৃত যন্ত্রাংশ হিসেবে ঘোষণা দিয়ে দেশে আনা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে শুল্ক ফাঁকি ও চোরাচালানের উদ্দেশ্যে গাড়িটিকে খণ্ডিত করে আমদানি করা হয়ে থাকতে পারে।

তথ্যের ভিত্তিতে সিআইআইডির একটি দল সাত্তার মঞ্জিলের পার্কিং এলাকায় অভিযান চালিয়ে গাড়িটির সন্ধান পায়। কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, গাড়িটি সম্পূর্ণ অবস্থায় আমদানি না করে ৩ থেকে ৪টি বড় অংশে কেটে দেশে আনা হয়েছিল। পরে এসব অংশ জোড়া দিয়ে পূর্ণাঙ্গ গাড়িতে রূপান্তর করা হয়।

সিআইআইডির প্রাথমিক ধারণা, মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে গাড়িটির প্রকৃত পরিচয় গোপন করা হয়েছে। ব্যবহৃত যন্ত্রাংশ হিসেবে ঘোষণা করায় আস্ত বিলাসবহুল গাড়ি আমদানির তুলনায় কম শুল্ক পরিশোধের সুযোগ তৈরি হয়ে থাকতে পারে। এভাবে শুল্ক ফাঁকি দেওয়ার পাশাপাশি চোরাচালান বা জাল নথিপত্র ব্যবহারের ঘটনাও ঘটেছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

অভিযানের সময় গাড়িটির বর্তমান মালিক মোহাম্মদ আইয়ুবের স্ত্রী সুলতানা ফারহানা জাহানকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন কর্মকর্তারা। মোহাম্মদ আইয়ুব বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন বলে জানানো হয়েছে।

শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা গাড়িটির ক্রয়, আমদানি ও মালিকানাসংক্রান্ত বৈধ কাগজপত্র দেখতে চান। তবে সুলতানা ফারহানা ওই সময় কোনো প্রয়োজনীয় নথিপত্র দেখাতে পারেননি বলে সিআইআইডি জানিয়েছে।

অভিযান চলাকালে গাড়িটির চাবি নিয়েও জটিলতা তৈরি হয়। সিআইআইডি ও র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) কর্মকর্তারা একাধিকবার গাড়ির চাবি চাইলেও পরিবারের সদস্যরা তা দিতে অস্বীকৃতি জানান।

গাড়ির বৈধ আমদানি-সংক্রান্ত নথিপত্র এবং চাবি না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত সিআইআইডির অতিরিক্ত মহাপরিচালকের নেতৃত্বাধীন দলটি পার্কিং এলাকা থেকেই বিএমডব্লিউটি জব্দ করে।

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর বলছে, প্রাথমিক অনুসন্ধানে গাড়িটি মিথ্যা ঘোষণা ও সম্ভাব্য চোরাচালানের মাধ্যমে দেশে আনার বিষয়ে যথেষ্ট তথ্য পাওয়া গেছে। তবে চূড়ান্তভাবে শুল্ক ফাঁকি বা চোরাচালানের অভিযোগ প্রতিষ্ঠিত করতে বিস্তারিত তদন্ত প্রয়োজন।

গাড়িটি কীভাবে আমদানি করা হয়েছিল, কোন নথির মাধ্যমে সেটিকে ব্যবহৃত যন্ত্রাংশ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল, গাড়িটি কোথায় এবং কীভাবে জোড়া লাগানো হয়েছে—এসব বিষয় তদন্তের আওতায় নেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে গাড়িটি আমদানির ক্ষেত্রে প্রকৃতপক্ষে কত টাকা শুল্ক ও কর পরিশোধের কথা ছিল এবং ঘোষিত পণ্যের ভিত্তিতে কত টাকা পরিশোধ করা হয়েছে, সেই ব্যবধানও নির্ধারণ করা হবে।

সিআইআইডির তদন্তে যদি মিথ্যা ঘোষণা, শুল্ক ফাঁকি, চোরাচালান বা জাল নথিপত্র ব্যবহারের অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

বিলাসবহুল গাড়ি আমদানিতে উচ্চ শুল্কের কারণে বিভিন্ন সময়ে পণ্যের প্রকৃত পরিচয় গোপন বা খণ্ডিত অবস্থায় আমদানির অভিযোগ উঠে থাকে। চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আমদানি করা গাড়ি ও গাড়ির যন্ত্রাংশের ঘোষণায় কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা শনাক্ত করতে শুল্ক কর্তৃপক্ষের নজরদারিও রয়েছে।

সিআইআইডির এই অভিযান সেই নজরদারির অংশ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এখন বিস্তারিত তদন্তে গাড়িটির আমদানি প্রক্রিয়া, সংশ্লিষ্ট নথি, মালিকানা এবং সম্ভাব্য শুল্ক ফাঁকির পরিমাণ সম্পর্কে আরও তথ্য বেরিয়ে আসবে।

বিস্তারিত জানতে আরো পড়ুন>> 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত