বন্ধ কলকারখানা চালুতে ১৭ ব্যাংকের ৪১ হাজার কোটি টাকা

ফারহান ফারাবী
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬
  • ১৩ বার

প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা কলকারখানা পুনরায় চালু, বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো এবং স্থবির অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষিত ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজে অর্থ দিতে ১৭টি ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। এসব ব্যাংক থেকে মোট ৪১ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে।

প্রণোদনা প্যাকেজে অংশ নিতে সম্মত হওয়া ব্যাংকগুলো হলো—সোনালী ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, যমুনা ব্যাংক, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, এনসিসি ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক ও সাউথইস্ট ব্যাংক।

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা কলকারখানা চালু, বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি ফেরানোর লক্ষ্যেই গত ২৩ মে ৬০ হাজার কোটি টাকার এই প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

তখন এক ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান জানিয়েছিলেন, প্যাকেজটি মূলত ‘উৎপাদন ও কর্মসংস্থান পুনরুদ্ধার’ কর্মসূচি হিসেবে নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রায় ২৫ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষিত প্যাকেজের মোট ৬০ হাজার কোটি টাকার মধ্যে ৪১ হাজার কোটি টাকা বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে সংগ্রহ করা হচ্ছে। বাকি ১৯ হাজার কোটি টাকা বাংলাদেশ ব্যাংক নিজস্ব তহবিল থেকে সরবরাহ করবে।

এই প্রণোদনা প্যাকেজের সবচেয়ে বড় অংশ বরাদ্দ রাখা হয়েছে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা শিল্পকারখানা পুনরায় চালুর জন্য। এ খাতে ২০ হাজার কোটি টাকা রাখা হয়েছে। তহবিল থেকে বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের গড়ে সাড়ে ৭ শতাংশ সুদে ঋণ দেওয়ার কথা রয়েছে।

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা কারখানাগুলো পুনরায় চালু হলে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে অব্যবহৃত শিল্প সম্পদকে আবার উৎপাদন ব্যবস্থায় যুক্ত করার মাধ্যমে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে সচল করার লক্ষ্য রয়েছে এই উদ্যোগের।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এই প্যাকেজে ব্যাংকগুলোর অংশগ্রহণকে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরায় উৎপাদনে ফিরিয়ে আনতে তুলনামূলক কম সুদে অর্থায়নের সুযোগ উদ্যোক্তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

প্রণোদনার আওতায় অর্থায়নের মাধ্যমে যেসব শিল্পকারখানা পুনরায় চালু করা সম্ভব হবে, সেগুলোতে উৎপাদন শুরু হলে সংশ্লিষ্ট শিল্পের সরবরাহব্যবস্থা, শ্রমবাজার এবং স্থানীয় অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে। পাশাপাশি নতুন বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরিতেও এ উদ্যোগ ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

তবে প্রণোদনা প্যাকেজের কার্যকারিতা অনেকটাই নির্ভর করবে অর্থ যথাযথ খাতে পৌঁছানো, যোগ্য উদ্যোক্তা নির্বাচন এবং ঋণের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর। বন্ধ কারখানা পুনরায় চালুর ক্ষেত্রে প্রকল্পের বাস্তবসম্মত সম্ভাব্যতা যাচাই এবং অর্থায়নের পরবর্তী পর্যায়ে নজরদারিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

৪১ হাজার কোটি টাকা ব্যাংক খাত থেকে এবং ১৯ হাজার কোটি টাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব তহবিল থেকে মিলিয়ে মোট ৬০ হাজার কোটি টাকার এই প্যাকেজ বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিনের স্থবির শিল্পকারখানার একটি অংশ পুনরায় সচল হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। সরকারের প্রত্যাশা, এর মাধ্যমে উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বেসরকারি বিনিয়োগে নতুন গতি আসবে।

বিস্তারিত জানতে আরো পড়ুন>> 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত