মার্কিন অ্যালকোহলে সাসকাচুয়ানের ৫০% পাল্টা শুল্ক

ফারহান ফারাবী
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬
  • ১৪ বার

প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শুল্কনীতির জবাবে মার্কিন অ্যালকোহলজাত পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে কানাডার সাসকাচুয়ান প্রদেশ। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে এই নতুন শুল্ক কার্যকর হবে বলে জানিয়েছেন প্রদেশটির প্রধান স্কট মো।

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে চলমান বাণিজ্য সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার মধ্যেই বুধবার এই ঘোষণা দেওয়া হয়। সাসকাচুয়ান এতদিন কানাডার কয়েকটি প্রদেশের মধ্যে অন্যতম ছিল, যেখানে মার্কিন ওয়াইন, বিয়ার ও স্পিরিট বিক্রি অব্যাহত ছিল। তবে নতুন সিদ্ধান্তের ফলে মার্কিন অ্যালকোহল আমদানিকারক ও বিক্রেতাদের ওপর অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ তৈরি হবে।

সাসকাচুয়ানের প্রধান স্কট মো জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের প্রতিশোধমূলক শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তকে তিনি সমর্থন করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সাসকাচুয়ানের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদার হিসেবেই থাকবে।

কৃষি ও প্রাকৃতিক সম্পদনির্ভর এই প্রদেশে শস্য, পটাশ ও ইউরেনিয়াম উৎপাদন হয়। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক সাসকাচুয়ানের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

মো বলেন, কানাডা বর্তমান বাণিজ্য পরিস্থিতি তৈরি করেনি। যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শুল্কের জবাবে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া এবং নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করা প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

সাসকাচুয়ানে এতদিন মার্কিন অ্যালকোহল বিক্রি চালু থাকলেও এর বিক্রি ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। প্রাদেশিক প্রধানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন অ্যালকোহলের বিক্রি প্রায় ৪০ শতাংশ কমে গেছে। এরপরও নতুন করে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কানাডার অন্যান্য প্রদেশের অবস্থান অবশ্য এরই মধ্যে আরও কঠোর হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতির প্রতিক্রিয়ায় দেশটির বেশিরভাগ প্রদেশ তাদের সরকারি দোকানগুলো থেকে মার্কিন অ্যালকোহল সরিয়ে নিয়েছে। সাসকাচুয়ান ও আলবার্টা এতদিন মার্কিন ওয়াইন, বিয়ার ও স্পিরিট বিক্রি অব্যাহত রেখেছিল।

এদিকে দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও বাড়ে গত সপ্তাহে বাণিজ্য আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর। এরপর ট্রাম্প কানাডার বিয়ার, চিজ, ইলেকট্রনিক্সসহ বিভিন্ন পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এর কঠোর জবাব দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। এর অংশ হিসেবে কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে একাধিক প্রতিশোধমূলক বাণিজ্য ব্যবস্থা নেওয়ার পথে এগোচ্ছে।

কানাডার অর্থমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া-ফিলিপ শ্যাম্পেন মঙ্গলবার বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে কানাডাকে অবশ্যই জবাব দিতে হবে। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র থেকে বছরে প্রায় ২৭২ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করে কানাডা। এর মধ্যে মার্কিন ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম পণ্যের ওপর কানাডার বিদ্যমান পাল্টা শুল্ক বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এর পাশাপাশি পোশাক, আসবাবপত্র, ভিডিও গেম কনসোল এবং বিভিন্ন ইলেকট্রনিক পণ্যসহ প্রায় ৭০০টি মার্কিন পণ্যের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব পণ্যে ১৫, ২৫ ও ৫০ শতাংশ হারে শুল্ক বসানো হবে।

শ্যাম্পেনের ভাষায়, এসব ব্যবস্থা হবে ‘আনুপাতিক, লক্ষ্যভিত্তিক ও কৌশলগত’। কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতির জবাব দিতে শুল্কহারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার নীতি অনুসরণ করছে।

সাসকাচুয়ানের মার্কিন অ্যালকোহলের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপও সেই বৃহত্তর পাল্টা বাণিজ্যনীতির অংশ। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে এটি কার্যকর হলে মার্কিন অ্যালকোহল আমদানির খরচ আরও বেড়ে যাবে এবং শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব ভোক্তাদের ওপরও পড়তে পারে।

সাসকাচুয়ানের সিদ্ধান্ত একই সঙ্গে কানাডা-যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ বাণিজ্যিক সম্পর্কের ওপর বাড়তে থাকা চাপের প্রতিফলন। দুই দেশের সীমান্তপারের বাণিজ্য বহু বছর ধরে উত্তর আমেরিকার অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হলেও সাম্প্রতিক শুল্কযুদ্ধ সেই সম্পর্ককে নতুন অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলেছে।

ট্রাম্প প্রশাসন মার্কিন শিল্প ও কর্মসংস্থান রক্ষার যুক্তিতে কানাডীয় পণ্যের ওপর উচ্চহারে শুল্ক আরোপ করছে। বিপরীতে কানাডা বলছে, এ ধরনের পদক্ষেপের ফলে দুই দেশের ব্যবসা ও ভোক্তা উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং এর জবাব দিতে তাদেরও পাল্টা ব্যবস্থা নিতে হবে।

মার্কিন অ্যালকোহলের ওপর সাসকাচুয়ানের নতুন শুল্ক সেই পাল্টা ব্যবস্থারই আরেকটি দৃশ্যমান উদাহরণ। ফলে সামনে দুই দেশের মধ্যে আরও শুল্ক আরোপ ও পাল্টা শুল্কের মাধ্যমে বাণিজ্য সংঘাত আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিস্তারিত জানতে আরো পড়ুন>> 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত