শিশু সুরক্ষায় ফেসবুক-ইনস্টাগ্রামে বড় পরিবর্তন

ফারহান ফারাবী
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬
  • ১৪ বার

প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

শিশু-কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাবের অভিযোগের পর যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক ডজন অঙ্গরাজ্যের সঙ্গে ১৮ বিলিয়ন ডলারের সমঝোতায় পৌঁছেছে মেটা। এই সমঝোতার অংশ হিসেবে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে কিশোর ব্যবহারকারীদের সুরক্ষায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে সম্মত হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

সমঝোতা অনুযায়ী, ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সী ব্যবহারকারীদের জন্য ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারে প্রতিদিন সর্বোচ্চ দুই ঘণ্টার সীমা থাকবে। রাত ১২টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত অ্যাপ দুটি ‘নাইট মোডে’ থাকবে, অর্থাৎ এ সময়ে কিশোররা এগুলো ব্যবহার করতে পারবে না। স্কুল চলাকালীন নোটিফিকেশনও সীমিত করা হবে। এসব সেটিংস পরিবর্তনের ক্ষমতা থাকবে শুধু অভিভাবকদের হাতে।

কিশোরদের পোস্টে ‘লাইক’ সংখ্যাও ডিফল্টভাবে বন্ধ থাকবে। একইভাবে ‘এক্সট্রিম মেকআপ’ ধরনের বিউটি ফিল্টারও স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিষ্ক্রিয় থাকবে। ব্যবহারকারীরা ভিডিও অটোপ্লে বন্ধ করার সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি অ্যালগরিদমের ব্যক্তিগতকৃত সুপারিশের পরিবর্তে বিকল্প ধরনের ফিড ব্যবহারের সুযোগও রাখা হবে।

সমঝোতার শর্ত অনুযায়ী এসব পরিবর্তন বাস্তবায়নের জন্য মেটাকে ছয় মাস সময় দেওয়া হয়েছে।

বয়স যাচাইয়ের ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী করতে হবে মেটাকে। এমন প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে, যার মাধ্যমে কিশোর ব্যবহারকারীদের বয়স নির্ভুলভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হবে এবং ১৩ বছরের কম বয়সীদের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে বাধা দেওয়া যাবে।

সমঝোতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো স্বাধীন তদারকি। এত দিন মেটা নিজস্ব নিরাপত্তাব্যবস্থার কার্যকারিতা নিজেই যাচাই করতে পারলেও এখন সমঝোতার শর্ত বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণে স্বাধীন নিরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা থাকবে।

ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল রব বোন্টা এই উদ্যোগকে ‘রূপান্তরমূলক’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, সমঝোতার মাধ্যমে শিশু-কিশোরদের অনলাইন সুরক্ষায় বাস্তব প্রয়োগ ও দীর্ঘস্থায়ী সুরক্ষাব্যবস্থা তৈরি হবে।

তবে সমঝোতায় পৌঁছালেও কোনো অন্যায় স্বীকার করেনি মেটা। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান আইন কর্মকর্তা সি জে মাহোনি বলেছেন, নতুন কাঠামো অভিভাবকদের সন্তানদের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের ওপর আরও সহজে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সুযোগ দেবে। তাঁর দাবি, এসব পরিবর্তন পুরো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম শিল্পের জন্য একটি নতুন পথ তৈরি করতে পারে।

তবে অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞ ও সংগঠনগুলোর একাংশ মনে করছে, প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলো এখনো যথেষ্ট নয়। তাদের প্রধান উদ্বেগ, কিশোরদের জন্য অ্যালগরিদমভিত্তিক ব্যক্তিগতকৃত ফিড এখনো ডিফল্ট ব্যবস্থা হিসেবে থাকবে।

সমালোচকদের মতে, এতে মেটার মূল ব্যবসায়িক কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে না। ব্যবহারকারীদের দীর্ঘ সময় প্ল্যাটফর্মে ধরে রাখার জন্য ব্যক্তিগতকৃত কনটেন্ট সুপারিশ ব্যবস্থা মেটার ব্যবসার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ফলে ব্যবহারের সময় সীমিত করা হলেও অ্যালগরিদমের মৌলিক ভূমিকা অক্ষুণ্ন থাকছে।

১০ বছরে পরিশোধ হবে ১৮ বিলিয়ন ডলার

সমঝোতা অনুযায়ী, মেটা ১০ বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে সর্বোচ্চ ১৮ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করবে। এর মধ্যে ১২ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার নিশ্চিতভাবে দেওয়ার কথা রয়েছে। বাকি অর্থের একটি অংশ টিকটক ও ইউটিউব একই ধরনের শিশু সুরক্ষাব্যবস্থা গ্রহণ এবং আর্থিকভাবে অবদান রাখবে কি না, তার ওপর নির্ভর করবে।

সমঝোতা থেকে পাওয়া অর্থ শিশু-কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য, অনলাইন নিরাপত্তা এবং সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে ব্যয় করার কথা রয়েছে। একই ধরনের সুরক্ষাব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মেটা টিকটক ও ইউটিউবের প্রতিও আহ্বান জানিয়েছে।

অঙ্গরাজ্যগুলোর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রয়োজন হলে অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

তবে ১৮ বিলিয়ন ডলারের সম্ভাব্য অর্থপ্রদান মেটার জন্য বড় আর্থিক ধাক্কা নাও হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। তাদের মতে, আরও বড় জরিমানা কিংবা দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের অনিশ্চয়তা এড়াতে পারাটিই মেটার জন্য বড় সুবিধা। সমঝোতার খবর প্রকাশের পর প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের দামও কিছুটা বেড়েছে।

তারপরও মেটার আইনি ঝুঁকি পুরোপুরি শেষ হচ্ছে না। ব্যক্তি, স্কুল জেলা এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের করা শত শত মামলা এখনো চলমান রয়েছে। এসব মামলায় প্রতিষ্ঠানটিকে আরও বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দিতে হতে পারে।

ফলে ১৮ বিলিয়ন ডলারের এই সমঝোতা শিশু-কিশোরদের সুরক্ষা নিয়ে মেটার বিরুদ্ধে চলমান আইনি লড়াইয়ের একটি বড় অধ্যায় শেষ করলেও, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব এবং কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির ওপর চাপ এখনো অব্যাহত থাকবে।

বিস্তারিত জানতে আরো পড়ুন>> 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত