প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
খেলাপি ঋণ আদায় এবং আমানতকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণে একীভূত পাঁচ ইসলামী ব্যাংক প্রায় ১০ হাজার মামলা করেছে। ব্যাংকগুলোর আটকে থাকা অর্থ উদ্ধারে এসব মামলা করা হয়েছে। পাশাপাশি খেলাপি ঋণ আদায়ে আরও মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
বৃহস্পতিবার ঋণ আদায় ও পুনর্গঠন কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে ব্যাংক রেজল্যুশন ডিপার্টমেন্টের (বিআরডি) এক সভায় এসব তথ্য উঠে আসে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র শাহরিয়ার সিদ্দিকী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সভায় একীভূত পাঁচ ইসলামী ব্যাংকের পুনর্গঠন কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করা হয়। এর মধ্যে ব্যাংকগুলোর একীভূতকরণ, পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা পুনর্গঠন, মানবসম্পদ সমন্বয়, শাখা একীভূতকরণ এবং তথ্যপ্রযুক্তি ও পরিচালন কাঠামো একীভূত করার অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়।
খেলাপি ঋণ আদায়ে প্রচলিত আইনগত ব্যবস্থার পাশাপাশি সমঝোতাভিত্তিক বিকল্প পদ্ধতিও ব্যবহার করা হচ্ছে। এর মধ্যে এক্সিট পলিসি এবং অলটারনেটিভ ডিসপিউট রেজল্যুশন বা এডিআরের মাধ্যমে দ্রুত ঋণ আদায় ও বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সভায় আরও জানানো হয়, পাঁচ ব্যাংকের আগের মালিকানা ও ব্যবস্থাপনার সময়ে সংঘটিত অনিয়ম, দুর্নীতি, ঋণ জালিয়াতি এবং সম্পদ অপব্যবহারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে পরিচালিত ফরেনসিক অডিটও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, গত ছয় মাসে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পুনর্গঠনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। স্বতন্ত্র পরিচালকদের প্রাধান্য দিয়ে নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি গত ১৬ জুলাই ব্যাংকটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বা সিইও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও বড় ধরনের সমন্বয় করা হয়েছে। প্রায় ১৬ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদমর্যাদা, দায়িত্ব ও সাংগঠনিক কাঠামো প্রয়োজন অনুযায়ী সমন্বয়ের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
পাঁচটি ব্যাংকের কার্যক্রমকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনতে তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামো একীভূত করার কাজও এগিয়ে চলছে। এর মধ্যে কোর ব্যাংকিং সিস্টেম বা সিবিএস, সুইফট এবং আরএমএ ব্যবস্থাকে সমন্বিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া আমানতকারীরা যাতে একীভূত ব্যাংকের যেকোনো শাখা থেকে নিজেদের আমানতের অর্থ উত্তোলন করতে পারেন, সে জন্য একটি কমন ইন্টারফেস চালুর কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এর ফলে বিভিন্ন ব্যাংকের পৃথক কার্যক্রমের পরিবর্তে একটি সমন্বিত সেবা কাঠামো গড়ে তোলার পথ তৈরি হয়েছে।
শাখা ও ব্যবসায়িক ইউনিট পুনর্বিন্যাসের কাজও চলছে। ব্যাংকের শাখার অবস্থান, ব্যবসায়িক সম্ভাবনা, গ্রাহকসেবা এবং পরিচালন ব্যয় বিবেচনায় ৭৮০টি শাখা এবং ১ হাজার ৫০০টি ব্যবসায়িক ইউনিটের একীভূতকরণ ও পুনর্বিন্যাসের কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংক রেজল্যুশন ডিপার্টমেন্ট এসব কার্যক্রম নিয়মিত পর্যালোচনা করছে। ঋণ আদায়, মামলা নিষ্পত্তি, মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা, শাখা ও ব্যবসায়িক ইউনিট একীভূতকরণ এবং প্রযুক্তিগত সমন্বয়ের অগ্রগতিও নজরদারির আওতায় রাখা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রত্যাশা, পুনর্গঠন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে একীভূত ইসলামী ব্যাংকের সুশাসন ও পরিচালন দক্ষতা বাড়বে। একই সঙ্গে খেলাপি ঋণ আদায় ত্বরান্বিত করা এবং পরিচালন ব্যয় কমানো সম্ভব হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করছে, ঋণ আদায়ের পাশাপাশি ব্যাংকের আটকে থাকা অর্থ উদ্ধার করে উৎপাদনশীল খাতে পুনঃপ্রবাহিত করা গেলে অর্থনীতিতে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এ কারণে মামলার পাশাপাশি সমঝোতা ও বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
একীভূত পাঁচ ইসলামী ব্যাংকের পুনর্গঠন কার্যক্রমের বড় চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে রয়েছে বিপুল খেলাপি ঋণ, পুরোনো অনিয়মের দায় নির্ধারণ, মানবসম্পদ সমন্বয় এবং প্রযুক্তিগত অবকাঠামো একীভূত করা। এসব ক্ষেত্রে অগ্রগতি নিয়মিত পর্যালোচনার মাধ্যমে ব্যাংকটিকে একটি কার্যকর ও টেকসই কাঠামোয় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।