বন্যায় ভেসে এল ব্যাংকের ভল্ট, নেপালে গ্রেপ্তার ২৯

ফারহান ফারাবী
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬
  • ২৮ বার

প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের মধ্যে একটি ব্যাংকের নগদ অর্থ রাখার ভল্ট পানিতে ভেসে ত্রিশূলী নদী দিয়ে অনেক দূর চলে যাওয়ার পর সেটি ভেঙে অর্থ লুটের অভিযোগে ২৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

নেপাল পুলিশ জানিয়েছে, রাসুয়া এলাকা থেকে বন্যার পানিতে ভেসে আসা ভল্টটি ধাদিং জেলার গালছির কাছে ত্রিশূলী নদীর তীরে পাওয়া যায়। পরে কয়েকজন ব্যক্তি ভল্টটি ভেঙে ভেতরে থাকা নগদ অর্থ নিয়ে যেতে শুরু করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই ভল্ট থেকে অর্থ সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। পরে নেপাল পুলিশ ও সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর যৌথ অভিযানে ২৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে ৯২ লাখ ৭০ হাজার নেপালি রুপি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বাংলাদেশি মুদ্রায় উদ্ধার করা অর্থের মূল্য প্রায় ২ কোটি ২৩ লাখ টাকা। তবে ভল্টে শুরুতে মোট কত অর্থ ছিল, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

ফলে উদ্ধার হওয়া অর্থই ভল্টে থাকা সম্পূর্ণ নগদ ছিল কি না, নাকি আরও অর্থ নিখোঁজ রয়েছে—তা এখনো স্পষ্ট নয়। বিষয়টি নিশ্চিত করতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে নেপালের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

বন্যার স্রোতে ভেসে যায় ভল্ট

ভয়াবহ বন্যায় রাসুয়া এলাকার একটি ব্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর সেখানকার ভল্টটি পানির প্রবল স্রোতে ভেসে যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরে সেটি ত্রিশূলী নদীর স্রোতে ভেসে ধাদিং জেলার দিকে চলে যায়।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কান্টিপুরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ধাদিং জেলার গালছির কাছাকাছি এলাকায় ভল্টটি পাওয়া যায়। নদীর তীরে ভল্টটি দেখতে পাওয়ার পর স্থানীয় কয়েকজন সেটি তুলে ভেঙে ফেলেন বলে পুলিশের অভিযোগ।

ভল্টটি ভাঙার পর এর ভেতরের নগদ অর্থ নেওয়া শুরু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ও সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা সেখানে অভিযান চালান এবং সন্দেহভাজনদের আটক করেন।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে উদ্ধার করা ৯২ লাখ ৭০ হাজার নেপালি রুপি বর্তমানে তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

আরও অর্থ নিখোঁজ কি না, তদন্তে গুরুত্ব

তদন্তকারীদের সামনে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, ভল্টটিতে বন্যার আগে মোট কত অর্থ রাখা হয়েছিল। ব্যাংক কর্তৃপক্ষের হিসাবের সঙ্গে উদ্ধার হওয়া অর্থ মিলিয়ে দেখার পরই জানা যাবে কোনো অর্থ এখনো নিখোঁজ রয়েছে কি না।

পুলিশ একই সঙ্গে খতিয়ে দেখছে, ভল্টটি নদীতে ভেসে যাওয়ার পর কতজন সেটির কাছে পৌঁছেছিলেন এবং নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগে কেউ অতিরিক্ত অর্থ নিয়ে গিয়েছিল কি না।

ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য কোনো ব্যক্তি থাকলে তাঁদের শনাক্ত করার কাজও চলছে বলে জানা গেছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ভল্টটি উদ্ধারের পর কী ঘটেছিল এবং অর্থ কীভাবে সরানো হয়েছিল, সে বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করছে তদন্তকারীরা।

বন্যার পর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

নেপালে সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সড়ক, সেতু, বসতবাড়ি ও বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি বহু এলাকা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

দুর্যোগের পর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সম্পদ রক্ষাও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। বন্যার পানিতে ভেসে আসা সম্পদ নিয়ে যাতে চুরি বা লুটপাটের ঘটনা না ঘটে, সে জন্য বিভিন্ন এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

ব্যাংকের ভল্ট ভেঙে অর্থ নেওয়ার এই ঘটনা দুর্যোগ পরিস্থিতিতে নিরাপত্তার আরেকটি দিক সামনে এনেছে। একই সঙ্গে এটি বন্যার প্রবল স্রোতের শক্তি ও এর ফলে অবকাঠামো ও সম্পদ কত দূর পর্যন্ত ভেসে যেতে পারে, তারও একটি অস্বাভাবিক উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ভল্টে থাকা মোট অর্থের পরিমাণ এবং নিখোঁজ অর্থের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। তবে ২৯ জনের গ্রেপ্তার এবং বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ উদ্ধারের ঘটনায় নেপালে দুর্যোগ-পরবর্তী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর নতুন করে নজর পড়েছে।

বিস্তারিত জানতে আরো পড়ুন>> 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত