সীমান্তে মাদকবিরোধী অভিযানে বড় সাফল্য: ধামইরহাটে ট্যাপেন্টাডলসহ গ্রেপ্তার দুই চোরাকারবারি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১১ আগস্ট, ২০২৫
  • ৮০ বার

প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

নওগাঁ জেলার ধামইরহাট সীমান্তে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ১০০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ দুই চোরাকারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। রোববার (১০ আগস্ট) দিবাগত রাতে উপজেলার বস্তাবর বিওপির আওতাধীন বলরামপুর গ্রামে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এই অভিযানে বিজিবি সদস্যরা মাদক চোরাচালান চক্রের গুরুত্বপূর্ণ দুই সদস্যকে হাতে-নাতে আটক করতে সক্ষম হন।

গ্রেপ্তার হওয়া দুই ব্যক্তি হলেন নওগাঁর সেলিমপুর এলাকার মৃত আবু তাহেরের ছেলে তৌহিদুল ইসলাম (৩২) এবং একই এলাকার ফরিয়াদ হোসেনের ছেলে হাবিবুর রহমান (৪২)। পত্নীতলা ১৪ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বস্তাবর বিওপির কমান্ডার হাবিলদার মো. বাদশা আলমগীরের নেতৃত্বে একটি টহল দল রাতের আঁধারে অভিযান পরিচালনা করে। সীমান্ত থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পশ্চিম বলরামপুর গ্রামের একটি পাকা রাস্তার ওপরে টহল দল সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করা অবস্থায় দুজন ব্যক্তিকে চ্যালেঞ্জ করে। তল্লাশি চালিয়ে তাদের কাছ থেকে ভারতীয় উৎপত্তি ট্যাপেন্টাডল জাতীয় ১০০ পিস নিষিদ্ধ ট্যাবলেট জব্দ করা হয়।

ধৃত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে এবং তাদের ধামইরহাট থানায় হস্তান্তরের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিজিবি। বিজিবির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক, চোরাচালান ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দমনে তাদের নিয়মিত টহল ও নজরদারি কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্যাপেন্টাডল একটি শক্তিশালী ব্যথানাশক, যা মূলত চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত। তবে সম্প্রতি এটি দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা হয়ে অবৈধভাবে ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করে মাদকসেবীদের কাছে পৌঁছাচ্ছে। এই ওষুধ অতিরিক্ত সেবনের ফলে নেশা সৃষ্টি করে এবং শারীরিক ও মানসিকভাবে মারাত্মক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

স্থানীয়দের মতে, ধামইরহাটসহ আশপাশের সীমান্ত অঞ্চলগুলো অনেক আগে থেকেই মাদক চোরাচালানের রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিজিবির তৎপরতা ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর ফলে চোরাকারবারিরা ক্রমেই কোণঠাসা হয়ে পড়ছে।

এমন প্রেক্ষাপটে বিজিবির এই সাফল্যকে সীমান্তে মাদকবিরোধী অভিযানের একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখছে স্থানীয় প্রশাসন ও সচেতন মহল। তারা আশা প্রকাশ করেছেন, নিয়মিত এমন অভিযানের মাধ্যমে মাদক চোরাচালান রোধ সম্ভব হবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম রক্ষা পাবে এই মারাত্মক সামাজিক ব্যাধি থেকে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত