কাউখালীতে ৬৯ রাউন্ড কার্তুজসহ যুবক গ্রেপ্তার

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৪০ বার
কাউখালীতে ৬৯ রাউন্ড কার্তুজসহ যুবক গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

পিরোজপুরের কাউখালীতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ শটগানের কার্তুজ, ওয়াকিটকি, দেশীয় অস্ত্র ও পুলিশের ভুয়া পরিচয়পত্রসহ শাওন ইসলাম অপু (২৪) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযানে তার কাছ থেকে ৬৯ রাউন্ড শটগানের কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। একই সঙ্গে উদ্ধার করা হয়েছে দুটি ওয়াকিটকি সেট, দুটি ছোরা, একটি খেলনা পিস্তল, দুটি ভুয়া অস্ত্রের লাইসেন্স, একটি ভুয়া পুলিশ আইডি কার্ড এবং একটি চামড়ার অস্ত্রের কভার।

সোমবার বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত কাউখালী উপজেলার শিয়ালকাঠী ইউনিয়নে মাদক ও অস্ত্র উদ্ধারে পরিচালিত বিশেষ অভিযানের সময় এসব সামগ্রী উদ্ধার করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শিয়ালকাঠী চৌরাস্তা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই যুবককে আটক করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। পরে তার দেহ ও আশপাশের এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ কার্তুজ ও অন্যান্য সরঞ্জাম পাওয়া যায়।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পিরোজপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর আহমেদ সিদ্দিকীর দিকনির্দেশনায় এবং কাউখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে বিশেষ এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে কাউখালী থানার পুলিশ সদস্যদের সমন্বয়ে একটি দল অংশ নেয়। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে এলাকায় তৎপরতা বাড়িয়ে নির্দিষ্ট স্থানে অভিযান পরিচালনার পর শাওন ইসলাম অপুকে আটক করা সম্ভব হয়।

পুলিশ জানায়, শিয়ালকাঠী গ্রামের মৃত শাখাওয়াত হোসেনের দোতলা ভবনের ছাদ থেকে শাওন ইসলাম অপুকে আটক করা হয়। এরপর তাকে জিজ্ঞাসাবাদ ও তল্লাশির পাশাপাশি ভবনের আশপাশের এলাকায়ও তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় ৬৯টি শটগানের কার্তুজ, দুটি ওয়াকিটকি সেট, দুটি ছোরা, একটি খেলনা পিস্তল, দুটি ভুয়া অস্ত্রের লাইসেন্স, একটি ভুয়া পুলিশ আইডি কার্ড এবং একটি চামড়ার অস্ত্রের কভার উদ্ধার করা হয়।

একসঙ্গে এতসংখ্যক শটগানের কার্তুজ ও পুলিশের পরিচয়পত্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয় পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে একটি ভুয়া পুলিশ আইডি কার্ড ও ভুয়া অস্ত্রের লাইসেন্স কী উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছিল, সেগুলো কীভাবে সংগ্রহ করা হয়েছে এবং এগুলোর কোনো অপরাধমূলক কাজে ব্যবহার হয়েছে কি না, তা এখন তদন্তের বিষয় হয়ে উঠেছে। তবে এসব সামগ্রী উদ্ধারের সঙ্গে গ্রেপ্তারকৃত যুবকের সম্পৃক্ততার বিষয়ে পুলিশের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।

কাউখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) ইবাদ আলী জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের একটি চৌকস দল অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে শটগানের কার্তুজ, ওয়াকিটকি ও পুলিশের ভুয়া আইডি কার্ডসহ শাওন ইসলাম অপুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

পুলিশের ভাষ্য, উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর প্রকৃতি ও পরিমাণের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে অস্ত্র ও কার্তুজের উৎস কোথায়, এগুলো কার কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে এবং এগুলো কোনো অপরাধ সংঘটনে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে গ্রেপ্তারকৃত যুবকের সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, সে বিষয়েও তদন্ত চলছে।

মঙ্গলবার গ্রেপ্তারকৃত শাওন ইসলাম অপুকে পিরোজপুর আদালতে পাঠানোর কথা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। আদালতের মাধ্যমে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে। তদন্তে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তার ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট অন্য ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

স্থানীয়ভাবে এ ধরনের অভিযানের গুরুত্বও কম নয়। কোনো এলাকায় অবৈধ অস্ত্র, গুলি কিংবা পুলিশের ভুয়া পরিচয়পত্রের ব্যবহার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে। বিশেষ করে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে পরিচয় গোপন করা কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণার মতো ঘটনার আশঙ্কা থাকায় এ ধরনের সামগ্রী উদ্ধারের পর তদন্তের পরিধি বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে অভিযানে উদ্ধার হওয়া প্রতিটি সামগ্রীর প্রকৃত ব্যবহার ও উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত হতে তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা করতে হবে। পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্যের বাইরে এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তারকৃত শাওন ইসলাম অপু এসব সামগ্রী কেন নিজের কাছে রেখেছিলেন বা এগুলোর সঙ্গে অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তদন্তের মাধ্যমে পুরো বিষয়টি পরিষ্কার করার চেষ্টা চলছে। উদ্ধার হওয়া কার্তুজ ও অন্যান্য সামগ্রীর উৎস অনুসন্ধানের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পূর্ববর্তী কর্মকাণ্ড, যোগাযোগ এবং সম্ভাব্য সহযোগীদের বিষয়েও খোঁজ নেওয়া হতে পারে। তদন্তে কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে কাউখালীতে নিয়মিত মাদক ও অস্ত্রবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখার কথাও জানিয়েছে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অবৈধ অস্ত্র ও মাদক নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় পর্যায়ে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শিয়ালকাঠীর এই অভিযানে বিপুলসংখ্যক শটগানের কার্তুজসহ বিভিন্ন সামগ্রী উদ্ধারের ঘটনায় তদন্ত শেষ হলে ঘটনার পেছনের প্রকৃত কারণ ও সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য সামনে আসতে পারে।

শাওন ইসলাম অপু শিয়ালকাঠী গ্রামের মৃত শাখাওয়াত হোসেনের ছেলে। তাকে গ্রেপ্তারের পর বর্তমানে আইনগত প্রক্রিয়ার আওতায় নেওয়া হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে করা মামলার পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কি না, তা অনুসন্ধান করা হচ্ছে। তদন্তের পরই উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর প্রকৃত উৎস ও ব্যবহারের উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত