সাদিক কায়েমকে পাটোয়ারীর অভিনন্দন

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৪৩ বার
সাদিক কায়েমকে পাটোয়ারীর অভিনন্দন

প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

আসন্ন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রার্থী মনোনয়ন ঘিরে যখন তৎপরতা বাড়ছে, তখন প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলের একজন সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীর প্রতি সৌজন্য ও শুভেচ্ছা জানিয়ে আলোচনায় এসেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হওয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েমকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী সাদিক কায়েমের প্রতি এই শুভেচ্ছা জানান। সেখানে তিনি রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় সৌহার্দ্য, সৌজন্য এবং ইতিবাচক পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন। তার এই বক্তব্যকে আসন্ন সিটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থানে থাকা প্রার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান ও ইতিবাচক প্রতিযোগিতার বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ফেসবুক পোস্টে নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী বলেন, ‘গণতান্ত্রিক প্রতিযোগিতায় মতের ভিন্নতা থাকুক, তবে থাকুক সৌহার্দ্য, সৌজন্য ও ইতিবাচক প্রতিযোগিতা।’ একই সঙ্গে তিনি নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে ব্যক্তিগত বিরোধ বা সংঘাতের পরিবর্তে নগরবাসীর জন্য ভালো কিছু করার প্রতিযোগিতায় পরিণত করার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ‘আসুন, ঢাকার জন্য প্রতিযোগিতা হোক—কে কতটা ভালো সেবা ও পরিবর্তন দিতে পারি।’ পাশাপাশি সাদিক কায়েমের সর্বাঙ্গীন সাফল্য কামনা করে তার জন্য শুভকামনা জানান এনসিপির এই নেতা।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের কাছে নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীর বক্তব্যের তাৎপর্য রয়েছে। কারণ ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থানীয় সরকার এলাকা। রাজধানীর একটি বড় অংশের নাগরিক সেবা, সড়ক ব্যবস্থাপনা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জলাবদ্ধতা নিরসন, জনস্বাস্থ্য, নগর পরিকল্পনা এবং বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রমের সঙ্গে মেয়র ও সিটি করপোরেশনের কার্যক্রম সরাসরি যুক্ত। ফলে এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুধু রাজনৈতিক পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নাগরিক সেবা ও নগর ব্যবস্থাপনার সক্ষমতার ওপরও নির্ভর করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

সাদিক কায়েমের রাজনৈতিক পরিচয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো তার ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততা। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যদিকে নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী জাতীয় নাগরিক পার্টির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন। ফলে একই নির্বাচনী মাঠে ভিন্ন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের প্রতিনিধিত্বকারী দুই তরুণ নেতার অবস্থান রাজধানীর রাজনৈতিক অঙ্গনে বিশেষ আগ্রহ তৈরি করেছে।

ঢাকা দক্ষিণের মেয়র নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে সাদিক কায়েমকে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নের বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে দলটি রাজধানীর স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি ও জনসমর্থনের পরীক্ষা নিতে চাইছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে। অন্যদিকে এনসিপিও ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

এমন পরিস্থিতিতে একজন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে প্রকাশ্যে অভিনন্দন জানানো রাজনৈতিক সৌজন্যের একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে সামনে এসেছে। সাধারণত নির্বাচনী প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা, পাল্টাপাল্টি বক্তব্য কিংবা সমালোচনা দেখা গেলেও নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীর বক্তব্যে প্রতিযোগিতার পাশাপাশি সৌহার্দ্যের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

তার বক্তব্যের মূল সুর হলো, নির্বাচনে মতের ভিন্নতা থাকা স্বাভাবিক হলেও সেই ভিন্নতা যেন ব্যক্তিগত বিদ্বেষ বা সংঘাতে রূপ না নেয়। বরং প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা হওয়া উচিত নাগরিকদের জন্য কে বেশি কার্যকর সেবা দিতে পারবেন, কে নগরবাসীর সমস্যা সমাধানে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা দিতে পারবেন এবং কে রাজধানীর জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন—এসব বিষয়কে কেন্দ্র করে।

ঢাকা শহরের নাগরিকদের কাছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন তাই শুধু দলীয় রাজনীতির প্রতিফলন নয়; এটি তাদের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। রাস্তাঘাটের অবস্থা, যানজট, জলাবদ্ধতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ফুটপাত দখল, মশাবাহিত রোগের বিস্তার, নাগরিক নিরাপত্তা এবং নগর পরিবেশের মতো বিষয়গুলো সিটি করপোরেশনের কার্যক্রমের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ফলে নির্বাচনী প্রচারে এসব বাস্তব সমস্যা কতটা গুরুত্ব পায়, সেদিকেই নজর থাকবে নগরবাসীর।

নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী তার বক্তব্যে মূলত সেই নাগরিক প্রত্যাশার দিকটিই সামনে এনেছেন। ‘ঢাকার জন্য প্রতিযোগিতা’ করার আহ্বানের মধ্য দিয়ে তিনি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে দ্বন্দ্বের পরিবর্তে নগর উন্নয়ন ও সেবার মান নিয়ে প্রতিযোগিতার ধারণাকে গুরুত্ব দিয়েছেন। তার এই অবস্থান নির্বাচনী পরিবেশে ইতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতির একটি বার্তা হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।

অন্যদিকে সাদিক কায়েমের প্রার্থিতা সামনে আসায় ঢাকা দক্ষিণের নির্বাচনী সমীকরণও নতুন মাত্রা পাচ্ছে। তার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার বড় অংশ ছাত্ররাজনীতিকেন্দ্রিক হলেও ডাকসুর নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা তাকে রাজধানীর তরুণ ভোটারদের কাছে পরিচিত মুখ করে তুলেছে। নির্বাচনী মাঠে এই পরিচিতি কতটা জনসমর্থনে রূপ নেয়, তা ভোটের সময়ই স্পষ্ট হবে।

এনসিপি ও জামায়াতের মধ্যে রাজনৈতিক অবস্থান ও সাংগঠনিক কাঠামোর পার্থক্য থাকলেও নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় পারস্পরিক সৌজন্যের এই বার্তা রাজধানীর রাজনীতিতে আলাদা গুরুত্ব তৈরি করেছে। নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীর অভিনন্দনকে তাই কেবল একজন প্রার্থীকে শুভেচ্ছা জানানোর ঘটনা হিসেবে না দেখে নির্বাচনী সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক আচরণের একটি দৃষ্টান্ত হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

সিটি নির্বাচনকে ঘিরে সামনে আরও রাজনৈতিক বক্তব্য, প্রচার-প্রচারণা ও নীতিগত বিতর্ক তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রার্থীদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে গিয়ে নগরবাসীর বাস্তব সমস্যাগুলোকে সামনে আনা এবং সেগুলোর কার্যকর সমাধানের পরিকল্পনা তুলে ধরা। ভোটাররাও প্রার্থীদের প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি তাদের যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, সততা এবং বাস্তবায়ন সক্ষমতা বিবেচনা করবেন—এমন প্রত্যাশাই স্বাভাবিক।

এই প্রেক্ষাপটে নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীর শুভেচ্ছাবার্তা নির্বাচনী প্রতিযোগিতার একটি ভিন্ন দিক সামনে এনেছে। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও প্রতিদ্বন্দ্বীকে সম্মান করা এবং নির্বাচনী মাঠকে ইতিবাচক প্রতিযোগিতার জায়গা হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান দিয়েছেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ঢাকা দক্ষিণের ভোটাররা কোন প্রার্থীকে বেছে নেবেন, তা নির্ধারিত হবে ভোটের ফলাফলে। তবে তার আগে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে সৌজন্য, সহনশীলতা এবং নাগরিক সেবার প্রতিশ্রুতিকে কেন্দ্র করে প্রতিযোগিতা হলে তা রাজধানীর নির্বাচনী পরিবেশকে আরও ইতিবাচক করে তুলতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত