ঢাবিতে ককটেল বিস্ফোরণ, নিরাপত্তা নিয়ে ৩ দাবি

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৩০ বার
ঢাবিতে ককটেল বিস্ফোরণ, নিরাপত্তা নিয়ে ৩ দাবি

প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে পরপর তিনটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে তিন দফা দাবি জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টির ছাত্র সংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাতে জগন্নাথ হলের সামনে বিস্ফোরণের পর সংগঠনটির নেতাকর্মীরা তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল করেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ঘটনার তদন্ত, জড়িতদের শনাক্ত এবং ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানান তারা।

এর আগে মঙ্গলবার রাত পৌনে ১১টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় পৃথক দুটি স্থানে তিনটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা যায়, জগন্নাথ হলের সামনে দুটি বিস্ফোরণ হয়। একই সময়ে টিএসসি মেট্রোরেল স্টেশনসংলগ্ন সড়কে আরও একটি বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। বিস্ফোরণের ধরন নিয়ে প্রাথমিকভাবে বিভিন্ন বর্ণনা থাকলেও পরবর্তী প্রতিবেদনে ঘটনাগুলোকে ককটেল বিস্ফোরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।

ঘটনার পরপরই ক্যাম্পাসের পরিবেশে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে আবাসিক হলের আশপাশে রাতে বিস্ফোরণের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, জগন্নাথ হলের সামনে অল্প সময়ের ব্যবধানে দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। পরে টিএসসি এলাকার বিস্ফোরণের খবরও আসে। তবে কারা এসব বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে এবং কী উদ্দেশ্যে ঘটানো হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম ঘটনাস্থলে যায়। শাহবাগ থানা পুলিশের সদস্যরাও সেখানে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনাটির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে বলে জানানো হয়েছে। একটি প্রতিবেদনে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ইসরাফিল রতনের বক্তব্যে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এ অবস্থায় জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। সংগঠনটির নেতারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে বিস্ফোরণের ঘটনা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনার পেছনে কারা রয়েছে তা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে বের করা প্রয়োজন এবং জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা জরুরি।

পরে জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সেখানে তারা তিন দফা দাবি তুলে ধরেন। প্রথম দাবিতে তারা অবিলম্বে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হামলাকারী ও পরিকল্পনাকারীদের শনাক্ত করার আহ্বান জানান। তাদের মতে, ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার নজরদারি ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হলে বিস্ফোরণের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গতিবিধি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

দ্বিতীয় দাবিতে সংগঠনটি নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের যেসব কর্মী এখনো ছদ্মবেশে ক্যাম্পাসে অবস্থান করছে বলে তারা অভিযোগ করছে, তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায়। তবে এ দাবিটি জাতীয় ছাত্রশক্তির রাজনৈতিক বক্তব্য ও অভিযোগ হিসেবে এসেছে; সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় বা অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। এখন পর্যন্ত বিস্ফোরণের ঘটনায় কারা জড়িত, সে বিষয়ে প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে চূড়ান্তভাবে কোনো পক্ষকে দায়ী করার তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

তৃতীয় দাবিতে জাতীয় ছাত্রশক্তি ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তা আরও জোরদার করার কথা বলেছে। তাদের দাবি, শিক্ষার্থীদের জন্য দ্রুত নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। আবাসিক হল, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, প্রবেশপথ এবং শিক্ষার্থীদের চলাচলের স্থানগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

ককটেল বিস্ফোরণের পর শুধু জাতীয় ছাত্রশক্তিই নয়, ক্যাম্পাসের অন্য ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যেও প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলও তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে টিএসসির রাজু ভাস্কর্যের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এতে সংগঠনটির বিশ্ববিদ্যালয় ও হল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

এদিকে বিস্ফোরণের ঘটনায় কোনো শিক্ষার্থী আহত না হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় ঘটেনি। তবে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখার ক্ষেত্রে এমন ঘটনা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস শুধু শ্রেণিকক্ষ ও আবাসিক হলের সমষ্টি নয়; প্রতিদিন হাজারো শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও দর্শনার্থীর চলাচলের কারণে এর নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্বও অনেক বেশি। ফলে কোনো ধরনের বিস্ফোরণ বা সহিংসতার ঘটনা ঘটলে তার কারণ উদঘাটন এবং ভবিষ্যতে পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি ওঠে।

ঘটনার উদ্দেশ্য কী ছিল, বিস্ফোরকগুলো কোথা থেকে এসেছে এবং একই সময়ে ক্যাম্পাসের দুটি এলাকায় বিস্ফোরণের মধ্যে কোনো যোগসূত্র ছিল কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর এখন তদন্তের ওপর নির্ভর করছে। প্রাথমিক পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তৎপরতা থাকলেও ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষে বিস্তারিত তথ্য সামনে আসতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতারা তাদের দাবিগুলো বাস্তবায়নে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে যাতে কোনো ধরনের সহিংসতা বা বিস্ফোরণের ঘটনা আর না ঘটে, সে বিষয়ে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা প্রত্যাশা করছেন শিক্ষার্থীরা। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা ও জড়িতদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পরই এ ঘটনার দায় ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু প্রশাসনের দায়িত্ব নয়, ক্যাম্পাসে অবস্থানরত সবার জন্যই তা গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক বিস্ফোরণের ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা দূর করতে স্বচ্ছ তদন্ত, যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং দ্রুত তথ্য প্রকাশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এখন নজর থাকবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তে এবং বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের বিষয়ে পরবর্তী তথ্যের দিকে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত