বাবরের উদ্যোগে ওমরাহে যাচ্ছেন ৪৭ নেতাকর্মী

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১৯ বার
বাবরের উদ্যোগে ওমরাহে যাচ্ছেন ৪৭ নেতাকর্মী

প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

নেত্রকোনা-৪ আসনের বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের ৪৭ জন নেতা-কর্মী পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব যাচ্ছেন। সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও নেত্রকোনা-৪ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবরের উদ্যোগে এবং তাঁর নিজস্ব অর্থায়নে এই ওমরাহ যাত্রার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। তিন উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাদের পাশাপাশি জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের একজন নেতাও এই কাফেলায় থাকছেন।

মঙ্গলবার রাতে ৪৭ সদস্যের এই দলটির হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সৌদি আরবের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, নেত্রকোনা-৪ আসনের মোহনগঞ্জ, মদন ও খালিয়াজুরী উপজেলার রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মধ্য থেকে তাঁদের নির্বাচন করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বিএনপির নেতাদের মধ্যে আগ্রহ ও উৎসাহ তৈরি হয়েছে।

লুৎফুজ্জামান বাবরের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) মির্জা মো. হায়দার আলী জানিয়েছেন, বাবরের নিজস্ব অর্থায়নে তাঁর নির্বাচনি এলাকার মোট ৪৭ জনকে ওমরাহ পালনের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে মোহনগঞ্জ উপজেলার ১৮ জন, মদন উপজেলার ১৭ জন এবং খালিয়াজুরী উপজেলার ১১ জন রয়েছেন। তাঁর নিজেরও কাফেলার সদস্য হিসেবে যাওয়ার কথা রয়েছে। তবে লুৎফুজ্জামান বাবর নিজে এই দলের সঙ্গে সৌদি আরব যাচ্ছেন না বলে তিনি জানান।

সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য অনুযায়ী, ধর্মীয় অনুশাসনের প্রতি নেতাকর্মীদের আরও মনোযোগী করার ভাবনা থেকেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় বিএনপি নেতারা এটিকে তাঁদের জন্য বিশেষ একটি সুযোগ হিসেবে দেখছেন। তাঁদের ভাষ্য, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ব্যস্ততার বাইরে পবিত্র স্থানগুলোতে গিয়ে ইবাদত ও আত্মশুদ্ধির সুযোগ তাঁদের ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে প্রভাব ফেলতে পারে।

নেত্রকোনা-৪ আসনের অন্তর্ভুক্ত তিন উপজেলা হলো মোহনগঞ্জ, মদন ও খালিয়াজুরী। সাম্প্রতিক সংসদীয় তথ্যেও এই তিন উপজেলাকে আসনটির অন্তর্ভুক্ত এলাকা হিসেবে দেখানো হয়েছে। ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে লুৎফুজ্জামান বাবর এই আসন থেকে নির্বাচিত হন।

ওমরাহ কাফেলায় মোহনগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি সেলিম কার্ণায়েন, সিনিয়র সহসভাপতি হাবিবুর রহমান হাবিব, সাধারণ সম্পাদক গোলাম এরশাদুর রহমান, পৌর বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম ভিপি, সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানী পুতুলসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা রয়েছেন। তাঁদের সঙ্গে যুবদল ও ছাত্রদলের স্থানীয় নেতারাও যাচ্ছেন। এতে উপজেলা ও পৌর পর্যায়ের বিভিন্ন সাংগঠনিক পর্যায়ের প্রতিনিধিত্ব রয়েছে।

মদন উপজেলা থেকেও বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা কাফেলায় যুক্ত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে উপজেলা বিএনপি ও পৌর বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও অন্যান্য পদধারী নেতাদের পাশাপাশি যুবদল, ছাত্রদল ও ওলামা দলের প্রতিনিধিরা রয়েছেন। খালিয়াজুরী উপজেলা থেকেও বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক, যুগ্ম সম্পাদক এবং যুবদল ও ছাত্রদলের স্থানীয় নেতারা এই সফরে যাচ্ছেন।

এ ছাড়া জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মদন উপজেলা সভাপতি মুফতি আনোয়ার হোসেনও এই ওমরাহ কাফেলার সদস্য হিসেবে থাকছেন। ফলে দলীয় নেতাকর্মীদের বাইরে স্থানীয় ধর্মীয় সংগঠনের একজন প্রতিনিধিও এই সফরে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

খালিয়াজুরী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুর রউফ স্বাধীন এই উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। তাঁর ভাষ্য, এতজন নেতাকর্মীকে একসঙ্গে ওমরাহ পালনের সুযোগ করে দেওয়ার উদ্যোগ বাবরের ব্যক্তিগত আগ্রহ ও মানসিকতার প্রকাশ। তিনি এ জন্য বাবরের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

মোহনগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি সেলিম কার্ণায়েনও একই ধরনের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁদের নেতা লুৎফুজ্জামান বাবর স্থানীয় নেতাকর্মীদের জন্য পবিত্র ওমরাহ পালনের এই সুযোগ করে দিয়েছেন। তিনি এ উদ্যোগের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বাবরের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন।

রাজনৈতিক অঙ্গনের নেতাকর্মীদের জন্য ধর্মীয় সফরের এমন উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে আলাদা আগ্রহ তৈরি করেছে। সাধারণত রাজনৈতিক কর্মসূচিতে মিছিল, সভা, সাংগঠনিক বৈঠক ও নির্বাচনী কার্যক্রমই নেতাকর্মীদের দৈনন্দিন ব্যস্ততার বড় অংশজুড়ে থাকে। এর বাইরে একটি দলীয় এলাকার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকে একসঙ্গে ধর্মীয় সফরে পাঠানোর ঘটনা তাঁদের কাছে ভিন্ন ধরনের অভিজ্ঞতা তৈরি করছে বলে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে উঠে এসেছে।

ওমরাহ মুসলমানদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ইবাদত। হজের নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে বছরের বিভিন্ন সময়ে মক্কা ও মদিনায় গিয়ে মুসলমানরা ওমরাহ পালন করেন। পবিত্র কাবা শরিফ তাওয়াফ, সাফা-মারওয়ার মধ্যে সাঈসহ নির্ধারিত ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে ওমরাহ সম্পন্ন করা হয়। এ কারণে অনেক মুসলমানের কাছে জীবনে অন্তত একবার ওমরাহ পালনের সুযোগ পাওয়া বিশেষ তাৎপর্যের বিষয়।

স্থানীয় নেতাদের বক্তব্যে এই ধর্মীয় অনুভূতির বিষয়টিই বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। তাঁদের কাছে এটি কেবল একটি বিদেশ সফর নয়, বরং পবিত্র স্থান পরিদর্শন, ইবাদত এবং আত্মশুদ্ধির একটি সুযোগ। একই সঙ্গে রাজনৈতিক সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের একসঙ্গে যাওয়ার কারণে তাঁদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সম্পর্কও আরও ঘনিষ্ঠ হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

লুৎফুজ্জামান বাবরের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও নেত্রকোনা-৪ আসনের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ সম্পর্ক রয়েছে। তিনি এর আগে একাধিকবার এই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এবং ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ কারাবাসের পর ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তিনি মুক্তি পান। মুক্তির পর নিজ এলাকায় তাঁর রাজনৈতিক তৎপরতা এবং দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগের খবর বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত হয়েছে।

২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নেত্রকোনা-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে তাঁর জয়ও এই আসনে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানের ধারাবাহিকতার একটি সাম্প্রতিক উদাহরণ। নির্বাচন কমিশনের তথ্যভিত্তিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে আসনটির প্রার্থী ও ফলাফলের তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

এবার তাঁর উদ্যোগে স্থানীয় ৪৭ জন নেতাকর্মীর ওমরাহ যাত্রা রাজনৈতিক কর্মসূচির বাইরে ধর্মীয় একটি আয়োজন হিসেবে সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এর মাধ্যমে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহকর্মীদের সঙ্গে ব্যক্তিগত ও সামাজিক সম্পর্কেরও একটি ভিন্ন মাত্রা তৈরি হতে পারে।

তবে এই ওমরাহ সফরের পুরো ব্যয় কত এবং প্রত্যেক অংশগ্রহণকারীর জন্য কী ধরনের ব্যবস্থা করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত আর্থিক তথ্য সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে প্রকাশ করা হয়নি। শুধু বাবরের নিজস্ব অর্থায়নে এই ব্যবস্থার কথা জানানো হয়েছে। ফলে সফরের মোট ব্যয় বা পৃথক ব্যয়ের বিষয়ে নিশ্চিত কোনো পরিমাণ উল্লেখ না করে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যের মধ্যেই তথ্যটি সীমাবদ্ধ রাখা হচ্ছে।

মঙ্গলবার রাতে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে যাত্রা শুরু করার পর কাফেলাটি সৌদি আরবে পৌঁছাবে। এরপর মক্কা ও মদিনায় ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা পালনের কথা রয়েছে। সফর শেষে তাঁরা দেশে ফিরবেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

নেত্রকোনা-৪ আসনের তিন উপজেলার নেতাকর্মীদের নিয়ে এই সফর স্থানীয় বিএনপির সাংগঠনিক পরিসরেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে একই এলাকার মানুষ হিসেবে তাঁরা একসঙ্গে একটি ধর্মীয় সফরে অংশ নিচ্ছেন—এই বিষয়টিই এখন স্থানীয় পর্যায়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে। পবিত্র ওমরাহ পালনের মাধ্যমে ব্যক্তিগত ইবাদত ও আত্মশুদ্ধির যে সুযোগ তাঁরা পাচ্ছেন, সেটিই এই সফরের মূল উদ্দেশ্য বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত