বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে মন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা শফিকুরের

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১৬ বার
বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে মন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা শফিকুরের

প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের সমালোচনা করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। গত ১৯ সেপ্টেম্বর বগুড়ার মাটিডালী বিমান মোড়ে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চের পথসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের বক্তব্যের সমালোচনা করেন এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রীর বিরুদ্ধে কঠোর ভাষা ব্যবহার করেন। তার বক্তব্যের এই অংশটি পরে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।

বগুড়ায় আয়োজিত ওই পথসভায় ডা. শফিকুর রহমান দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে নিজের অসন্তোষের কথা তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিয়ে মানুষের ভোগান্তি থাকলেও সরকারের পক্ষ থেকে সংকটের বিষয়টি অস্বীকার করা হচ্ছে। বিদ্যুৎমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি মন্ত্রীর সক্ষমতা নিয়েও তীব্র সমালোচনা করেন। তার বক্তব্যে ব্যবহৃত ব্যক্তিগত আক্রমণাত্মক শব্দগুলো ছিল তার নিজস্ব রাজনৈতিক বক্তব্যের অংশ।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিদ্যুৎ ঘাটতি নেই—এমন বক্তব্যের সঙ্গে সাধারণ মানুষের অভিজ্ঞতার মিল নেই বলে তিনি মনে করেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের ব্যাখ্যা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তিনি এ প্রসঙ্গে বিদ্যুৎ সরবরাহে সমস্যার কারণ হিসেবে বিদ্যুতের তার দীর্ঘ হওয়ার একটি ব্যাখ্যার সমালোচনাও করেন। তবে এসব মন্তব্য ছিল তার রাজনৈতিক বক্তব্য ও সরকারের বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে তার মূল্যায়ন; এগুলোকে স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা তথ্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়নি।

শনিবার বিকেলে অনুষ্ঠিত ওই পথসভাটি ছিল ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চের একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি। রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে রংপুরের উদ্দেশে লংমার্চটি শুরু হওয়ার পর সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল ও বগুড়ার চান্দাইকোনা হয়ে বহরটি বগুড়ায় পৌঁছায়। মাটিডালী বিমান মোড়ে স্থানীয় নেতাকর্মীরা লংমার্চের বহরকে স্বাগত জানান। পরে সেখানে আয়োজিত পথসভায় কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য দেন।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পথসভায় বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক অংশ নেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে বগুড়া থেকে শতাধিক গাড়ি লংমার্চের বহরে যুক্ত হওয়ার কথা জানানো হয়। পথসভা শেষে বহরটি রংপুরের দিকে যাত্রা করে। কর্মসূচিতে জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসসহ ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের পাশাপাশি কৃষকদের সার পাওয়া এবং এর দাম নিয়েও বক্তব্য দেন জামায়াত আমির। তার দাবি, কৃষকরা সময়মতো সার পাচ্ছেন না এবং সারের দাম বেড়েছে। তিনি বলেন, একদিকে বিদ্যুৎ সংকটের অভিযোগ রয়েছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের ওপর বেশি বিদ্যুৎ বিল চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এসব বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি বিদ্যুৎ, গ্যাস ও কৃষি উপকরণের সরবরাহকে লংমার্চের দাবিগুলোর সঙ্গে যুক্ত করেন।

১১ দলীয় ঐক্যের এই কর্মসূচির ঘোষিত দাবিগুলোর মধ্যেও বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসনের বিষয়টি ছিল। এর পাশাপাশি গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই-সংশ্লিষ্ট দাবির বাস্তবায়ন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, দলীয়করণ বন্ধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের মতো বিষয়গুলোও কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত ছিল।

বগুড়ার পথসভায় শফিকুর রহমান সরকারের বিভিন্ন প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গও তোলেন। তিনি দাবি করেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নে অগ্রগতি হয়নি। তার বক্তব্যে এক কোটি তরুণের কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি, দুর্নীতি দমন এবং জনসেবা নিশ্চিত করার বিষয়গুলোও উঠে আসে। তিনি সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থতার অভিযোগ তোলেন।

গণভোটের প্রসঙ্গ তুলে জামায়াত আমির আরও বলেন, জনগণ যে মতামত দিয়েছে, সরকারকে সেই মতামতের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি দাবি করেন, সরকার ও বিরোধী দলগুলো গণভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। পরে সরকারের অবস্থান পরিবর্তনের অভিযোগ তুলে তিনি প্রশ্ন তোলেন, জনগণের মতামত বাস্তবায়নে কেন বিলম্ব হচ্ছে। এ বক্তব্যও তার রাজনৈতিক অবস্থানের অংশ হিসেবে এসেছে।

লংমার্চের কর্মসূচি নিয়ে সরকারি দলের সমালোচনার জবাবও দেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা না হলে বিরোধী দলগুলোর এ ধরনের কর্মসূচিতে নামার প্রয়োজন হতো না। তার বক্তব্য অনুযায়ী, বিদ্যুৎ, গ্যাস, সারসহ জনগণের দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো সমাধান না হওয়ায় তারা রাজপথের কর্মসূচি বেছে নিয়েছেন।

পথসভায় তিনি ভবিষ্যতে আরও কর্মসূচির কথাও জানান। তার বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমান লংমার্চটি ঢাকা থেকে রংপুরমুখী হলেও ভবিষ্যতে পঞ্চগড় থেকে ঢাকামুখী লংমার্চের কর্মসূচি আসতে পারে। একই সঙ্গে তিনি ১১ দলীয় ঐক্যের দাবিগুলো বাস্তবায়ন না হলে আরও কঠোর আন্দোলনের দিকে যাওয়ার কথা বলেন। তবে দাবি মেনে নেওয়া হলে নতুন করে এক দফার আন্দোলনের প্রয়োজন হবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এদিকে একই পথসভায় জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামসহ ১১ দলীয় ঐক্যের অন্য নেতারাও বক্তব্য দেন। তাদের বক্তব্যেও বিদ্যুৎ, জ্বালানি, কৃষি উপকরণ, দ্রব্যমূল্য এবং সরকারের বিভিন্ন নীতির সমালোচনা উঠে আসে। ফলে বগুড়ার কর্মসূচিটি কেবল একটি রাজনৈতিক সমাবেশ নয়, বরং একাধিক জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট দাবিকে সামনে রেখে আয়োজিত লংমার্চের অংশ হিসেবে উপস্থাপিত হয়।

বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা একটি গুরুত্বপূর্ণ জনসেবা বিষয়। শিল্পকারখানা, কৃষি, ব্যবসা, শিক্ষা ও দৈনন্দিন জীবন—সব ক্ষেত্রেই বিদ্যুৎ সরবরাহের ধারাবাহিকতা গুরুত্বপূর্ণ। একইভাবে গ্যাস ও জ্বালানির সরবরাহ ও মূল্য অর্থনীতি এবং জনজীবনের ওপর প্রভাব ফেলে। ফলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে সরকার, বিরোধী দল এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বক্তব্যের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের তথ্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

বগুড়ার মাটিডালীতে শফিকুর রহমানের বক্তব্য সেই রাজনৈতিক বিতর্ককেই নতুন করে সামনে এনেছে। তার বক্তব্যে সরকারের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবস্থাপনার সমালোচনা যেমন ছিল, তেমনি লংমার্চের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য এবং ১১ দলীয় ঐক্যের দাবিগুলোও উঠে এসেছে। অন্যদিকে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে তার করা বিভিন্ন অভিযোগ ও রাজনৈতিক মূল্যায়নের বাইরে বাস্তব পরিস্থিতি বোঝার জন্য বিদ্যুৎ উৎপাদন, সরবরাহ, চাহিদা, আঞ্চলিক ঘাটতি এবং গ্রাহক পর্যায়ের তথ্য বিবেচনা করা প্রয়োজন।

সেপ্টেম্বরের ওই কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ১১ দলীয় ঐক্য তাদের রাজনৈতিক দাবিগুলোকে জনসম্মুখে তুলে ধরেছে। আর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিয়ে শফিকুর রহমানের বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার নতুন বিষয় তৈরি করেছে। তবে তার বক্তব্যের কঠোর ভাষা থেকে আলাদা করে মূল বিষয় হিসেবে বিদ্যুৎ সরবরাহ, জ্বালানি নিরাপত্তা, কৃষি উপকরণের প্রাপ্যতা এবং জনগণের প্রত্যাশার বিষয়গুলোই সামনে এসেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত