প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের নতুন সময়সূচি নির্ধারণে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে আলোচনা এগোচ্ছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, আগামী নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে সফরটি আয়োজনের একটি সম্ভাব্য সময় নিয়ে দুই দেশ কাজ করছে। তবে এখনো সফরের তারিখ চূড়ান্ত হয়নি এবং বাংলাদেশ বা ভারতের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
এর আগে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর আয়োজনের একটি উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি। এবার নতুন করে সফরের সম্ভাব্য সময় নির্ধারণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে। ফলে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্কের পরবর্তী পর্যায় নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের নতুন হাইকমিশনার আসাদ আলম সিয়াম অক্টোবরের শেষ সপ্তাহ অথবা নভেম্বরের শুরুতে দিল্লিতে দায়িত্ব গ্রহণের পর সফরের সময়সূচি নির্ধারণের আলোচনা আরও গতি পেতে পারে। একজন অভিজ্ঞ কূটনীতিক হিসেবে তাঁর নতুন দায়িত্ব গ্রহণ দুই দেশের কূটনৈতিক যোগাযোগে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে প্রত্যাশা রয়েছে।
তবে সম্ভাব্য সফরের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হয়ে রয়েছে ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের প্রশ্ন। বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে দেশে ফেরত পাঠানোর দাবি জানিয়ে আসছে। অন্যদিকে ভারতীয় পক্ষ জানিয়েছে, বিষয়টি তাদের বিবেচনাধীন রয়েছে। ফলে এই অমীমাংসিত ইস্যু দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে আছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর হলে এটি দুই দেশের সম্পর্কের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ একটি কূটনৈতিক ঘটনা হতে পারে। কারণ দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে বাণিজ্য, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, পানি, জ্বালানি, নিরাপত্তা, যোগাযোগ, আঞ্চলিক সহযোগিতা ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগসহ বিস্তৃত ক্ষেত্রে পারস্পরিক স্বার্থ জড়িত। এসব বিষয়ে নিয়মিত উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগের মাধ্যমে বিভিন্ন অমীমাংসিত বিষয় নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ তৈরি হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের সম্পর্ক পুনর্গঠনের বিষয়ে ঢাকার পক্ষ থেকে আগ্রহের কথা প্রকাশ পেয়েছে। একই সময়ে দিল্লির সঙ্গেও কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। তবে সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় ইস্যুর পাশাপাশি পারস্পরিক আস্থার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানান। ১৭ সেপ্টেম্বর মোদির ৭৬তম জন্মদিন উপলক্ষে দেওয়া বার্তায় তারেক রহমান তাঁর সুস্বাস্থ্য ও কর্মময় জীবনের জন্য শুভকামনা জানান। এর জবাবে মোদি তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানান এবং তাঁর শুভেচ্ছার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। দুই প্রধানমন্ত্রীর এই প্রকাশ্য বার্তা বিনিময় দুই দেশের কূটনৈতিক যোগাযোগের আলোচনায় বিশেষভাবে উঠে এসেছে।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সৌজন্য বিনিময়ের পর সফরের তারিখ দ্রুত চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে এটিকে সফর চূড়ান্ত হওয়ার প্রমাণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে না। কারণ দুই দেশের কোনো পক্ষই এখনো সম্ভাব্য নভেম্বর সফরের তারিখ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি। সাম্প্রতিক অন্য প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে, সফরের তারিখ এখনো নির্ধারিত হয়নি এবং কূটনৈতিক ব্যস্ততার কারণে সময়সূচি নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
সফরের সম্ভাব্য সময় হিসেবে নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহের কথা সামনে এলেও এর আগে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার বিষয় রয়েছে। বিশেষ করে দিল্লিতে বাংলাদেশের নতুন হাইকমিশনারের দায়িত্ব গ্রহণ দুই দেশের সরকারি পর্যায়ের যোগাযোগকে আরও সক্রিয় করতে পারে। তাঁর দায়িত্ব গ্রহণের পর সম্ভাব্য সফরের কর্মসূচি, দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের বিষয় এবং সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
এর পাশাপাশি দুই দেশের সম্পর্কের অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিয়েও আলোচনা প্রয়োজন হবে। শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রশ্ন ছাড়াও সীমান্ত, পানি বণ্টন, বাণিজ্য ভারসাম্য এবং নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয়ে দুই দেশের নিজস্ব স্বার্থ রয়েছে। এসব বিষয়ে অগ্রগতি অর্জনের জন্য রাজনৈতিক পর্যায়ের পাশাপাশি কূটনৈতিক ও কর্মকর্তাপর্যায়ের ধারাবাহিক যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ।
সম্প্রতি ভারতীয় জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের ঢাকা সফরের খবরও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। তবে তাঁর সফর নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারত—কোনো পক্ষ থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে এ সফরকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করার ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন। টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণের কথাও বলা হয়নি।
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বর্তমান প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য সফরকে ঘিরে আগ্রহের অন্যতম কারণ হলো দুই দেশের রাজনৈতিক পর্যায়ে সরাসরি যোগাযোগের সম্ভাবনা। সরকারপ্রধান পর্যায়ের বৈঠকে সাধারণত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিস্তৃত বিষয় নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ থাকে। এর মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, সীমান্ত নিরাপত্তা, আন্তঃসীমান্ত নদী, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, যোগাযোগ এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে।
তবে সফরের সম্ভাব্যতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে কূটনৈতিক বাস্তবতাও গুরুত্বপূর্ণ। দুই দেশের মধ্যে কোনো উচ্চপর্যায়ের সফর আয়োজনের আগে তারিখ নির্ধারণ, পারস্পরিক সম্মতি, নিরাপত্তা প্রস্তুতি, বৈঠকের কর্মসূচি এবং আলোচ্যসূচি নিয়ে একাধিক পর্যায়ে সমন্বয় প্রয়োজন হয়। ফলে কোনো সংবাদমাধ্যমে সম্ভাব্য সময়ের কথা প্রকাশ পেলেই সেটিকে চূড়ান্ত সফরসূচি হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।
বাংলাদেশের নতুন হাইকমিশনারের দিল্লি যাত্রা এবং দুই দেশের সরকারি পর্যায়ে যোগাযোগ বাড়ার মধ্য দিয়ে সফরের প্রস্তুতি এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলেও শেষ সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে দুই সরকারের পারস্পরিক সমঝোতার ওপর। বিশেষ করে যেসব বিষয় দুই দেশের সম্পর্কে সংবেদনশীল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, সেগুলোতে কী ধরনের অগ্রগতি হয়, তার ওপরও সফরের পরিবেশ নির্ভর করতে পারে।
সাধারণ মানুষের দৃষ্টিতেও প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ের ভারত সফরের গুরুত্ব রয়েছে। ভারত বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী ও বাণিজ্যিক অংশীদার। দুই দেশের মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিনের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পারিবারিক যোগাযোগ রয়েছে। সীমান্তবর্তী অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা থেকে শুরু করে ব্যবসা-বাণিজ্য ও যোগাযোগ—বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্কের সরাসরি প্রভাব রয়েছে।
তাই সম্ভাব্য সফর নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু শুধু রাজনৈতিক সম্পর্ক নয়; বরং দুই দেশের সাধারণ মানুষের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ও এর সঙ্গে যুক্ত। একটি কার্যকর দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে যেসব বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে, সেগুলোতে বাস্তব অগ্রগতি হলে তার প্রভাব দুই দেশের জনগণের ওপর পড়তে পারে।
বর্তমানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সফরের তারিখ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হয়নি। নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহকে সম্ভাব্য সময় হিসেবে সামনে আনা হলেও এটি এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রনির্ভর তথ্য। নতুন হাইকমিশনারের দায়িত্ব গ্রহণের পর আলোচনা আরও এগোতে পারে এবং তখন সফরের বিষয়ে স্পষ্টতা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ফলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে এখন মূলত প্রস্তুতি ও কূটনৈতিক আলোচনার পর্যায় চলছে। দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত থাকলেও চূড়ান্ত সময়সূচি এবং সফরের কর্মসূচি সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত বিষয়টি সম্ভাব্য সফর হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।