রংপুরে মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে নিয়োগপ্রলোভনে ৪২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১২ আগস্ট, ২০২৫
  • ১০১ বার

প্রকাশ: ১২ আগস্ট’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক, একটি বাংলাদেশ অনলাইন

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার পাগলাহাট দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে নিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে বিপুল অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সহজ-সরল কৃষক ও গ্রামীণ বাসিন্দাদের অভিযোগ, ২০২২ ও ২০২৩ সালে মাদ্রাসায় চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী পদে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে মোট ৪২ লাখ টাকা গ্রহণ করেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি এবং টাকা ফেরতও দেওয়া হয়নি, ফলে ক্ষোভ ও অসন্তোষ তৈরি হয়।

ভুক্তভোগীদের দাবি, চাকরি না হওয়ার বিষয়টি বারবার তোলার পর সুপার শহিদুল ইসলাম নানা অজুহাত দেখাতে শুরু করেন। এ নিয়ে গত মাসে অন্তত দুইবার উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী তাকে তার নিজ কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখে। খবর পেয়ে স্থানীয় পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং শহিদুল ইসলামকে উদ্ধার করে নিরাপদে থানায় নিয়ে যায়।

অভিযোগের বিস্তারিত অনুযায়ী, মাদ্রাসার কাম্পিউটার অপারেটর ও অফিস সহায়কসহ মোট চারটি পদে নিয়োগ দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তিনি প্রতিটি প্রার্থী বা তাদের পরিবার থেকে ধাপে ধাপে টাকা নিয়েছেন। ভুক্তভোগীরা লিখিতভাবে বিষয়টি মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর দাখিল করেছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, নিয়োগপ্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার নামে একাধিক ব্যক্তি থেকে মোট ৪২ লাখ টাকা আত্মসাত করা হয়েছে।

তবে সুপার শহিদুল ইসলাম তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, এটি তার ভাবমূর্তি নষ্ট করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। অন্যদিকে, মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিশ্চিত করেছেন যে তারা শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে একটি চাঁদাবাজির অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি প্রাথমিকভাবে তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।

মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মাদ্রাসার সভাপতি জিল্লুর রহমান বলেন, “৪২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আমার কাছে এসেছে। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখব এবং তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” তিনি আরও জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ সংক্রান্ত দুর্নীতি প্রমাণিত হলে তা শুধু আইনগত শাস্তিই নয়, বরং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পদচ্যুতি ও প্রশাসনিক শাস্তির কারণও হতে পারে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাগলাহাট দাখিল মাদ্রাসা এলাকার একটি সুপরিচিত ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ফলে এর সুপারের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। অনেকে মনে করছেন, যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তবে এটি শুধু ব্যক্তিগত অপরাধ হিসেবে নয়, বরং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সুনাম ও নৈতিক মানদণ্ডের জন্য বড় আঘাত হয়ে দাঁড়াবে।

বর্তমানে অভিযোগের তদন্ত প্রক্রিয়া প্রাথমিক ধাপে রয়েছে এবং প্রশাসন জানিয়েছে, বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ভুক্তভোগীদের সাক্ষ্য ও প্রমাণ সংগ্রহ করা হবে। মামলার অগ্রগতি ও ফলাফল স্থানীয়দের পাশাপাশি সারাদেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ সংক্রান্ত দুর্নীতি দমনে একটি উদাহরণ স্থাপন করতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com