সবজি খেতে কাজ করার সময় বজ্রপাতে দিনমজুরের মর্মান্তিক মৃত্যু

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১২ আগস্ট, ২০২৫
  • ৫৭ বার

প্রকাশ: ১২ আগস্ট’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন 

কক্সবাজারের রামু উপজেলার গর্জনিয়া এলাকায় মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার সময় বজ্রপাতে এক দিনমজুরের মৃত্যু ঘটেছে। নিহত সিরাজুল ইসলাম (৪৩) গর্জনিয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম জাউচপাড়ার বাসিন্দা ছিলেন এবং তার বাবা মৃত হাফেজ আহমদ। তিনি ওই সময় বোমাংখিল গ্রামের খালেকুজ্জামান সেতুর পাশে সবজি খেতে কাজে নিয়োজিত ছিলেন।

স্থানীয়রা জানায়, সকালে থেকে আবহাওয়া ছিল বর্ষাকালীন মেঘলা ও বৃষ্টিপাতসহ ঝড়ো হাওয়ার প্রভাবে অস্থির ছিল। গর্জনিয়া ইউনিয়নের বোমাংখিল এলাকায় সকাল থেকে মোট সাতজন দিনমজুর মুলা খেতে ব্যস্ত ছিলেন। দুপুর আড়াইটার দিকে বজ্রপাত হঠাৎ এসে সিরাজুল ইসলামকে আঘাত করে। তাকে আহত অবস্থায় দ্রুত স্থানীয়রা উদ্ধার করে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

গর্জনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মনিরুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “এ ঘটনায় আমরা গভীর শোকাহত। মৃত্যুর পর পরিবারকে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হবে। পুলিশকে অবগত করা হয়েছে এবং নিহতকে যথাযোগ্য সম্মানে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।”

স্থানীয় সমাজকর্মী হাফিজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, “বৃষ্টি ও ঝড়ের মধ্যে দিনমজুররা কাজ করছিলেন। বজ্রপাতের প্রভাব খুব দ্রুত এবং বিধ্বংসী। এ ধরনের দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা পুনরায় না ঘটার জন্য সতর্কতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রয়োজন।”

এই ঘটনাটি কক্সবাজারের গ্রামীণ শ্রমজীবীদের দুর্বল নিরাপত্তা ব্যবস্থার এক প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষাকালে বজ্রপাতে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনা এ অঞ্চলের সাধারণ মানুষের জীবনে সজাগ উদ্বেগের বিষয়। যথাযথ সুরক্ষা ও সচেতনতা ছাড়া গরিব ও দিনমজুর শ্রমিকদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যাচ্ছে।

এ ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন, জনসাধারণ ও সামাজিক সংগঠনগুলোর মধ্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সতর্কবার্তা দেয়ার আহ্বান করা হয়েছে। পাশাপাশি বজ্রপাতসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষার জন্য আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার গড়ে তোলার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

সিরাজুল ইসলামের অকাল মৃত্যু এলাকায় শোকের ছায়া ফেলেছে এবং তার পরিবার বর্তমানে কঠিন সময় পার করছে। তার স্ত্রী ও চার সন্তান রয়েছে বলে জানা গেছে, যারা বর্তমানে গভীর শোক ও অনিশ্চয়তায় আছেন।

স্থানীয়দের মতে, রামু উপজেলা ও এর আশপাশের এলাকায় প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় যথাযথ প্রস্তুতি ও সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সরকারী পর্যায়ে আরও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

বজ্রপাতে একের পর এক প্রাণহানির ঘটনায় গ্রামীন জনজীবনে উদ্বেগ বাড়ছে এবং এটি একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে সামনে এসেছে যে, ক্ষুদ্র শ্রমজীবীদের জীবন ও নিরাপত্তার জন্য সামাজিক ও প্রশাসনিক উদ্যোগের তাগিদ এখন অতীব জরুরি।

এসব প্রেক্ষাপটে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি ও স্থানীয় সমাজসেবী সংগঠনগুলোর সমন্বিত কার্যক্রম ছাড়া দুর্ঘটনাজনিত প্রাণহানির মাত্রা কমানো কঠিন বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

রামু উপজেলার বোমাংখিল গ্রামে গতকালকের এই মর্মান্তিক বজ্রপাতের ঘটনা স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে গভীর দুঃখ ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে, যেখানে জীবন-জীবিকার জন্য দিনরাত পরিশ্রমরত সাধারণ মানুষ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কবলে পড়ছেন। আগামী দিনগুলোতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে প্রয়োজন যথাযথ পরিকল্পনা ও সজাগ মনোযোগ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত