সর্বশেষ :
শপথ নিলেন মির্জা ফয়সল আমীন ও এলিজা জামান, সংসদে নতুন দুই মুখ জনমিতিক সুবিধা হারানোর ঝুঁকিতে বাংলাদেশ, সতর্ক বিশ্বব্যাংক ক্যালিফোর্নিয়ার ২০ হাজার ব্যালট নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের আবেদন খারিজ আন্দোলনকারীদের শ্রমিক পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ইরানে মার্কিন হামলার খবরে বিশ্ববাজারে বাড়ল তেলের দাম সাতক্ষীরায় ভারতীয় নাগরিকের শরীরে ৮১৩ গ্রাম স্বর্ণের পেস্ট কাশিয়ানীতে পাঁচ যানবাহনের সংঘর্ষে ভ্যানচালক নিহত ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে টিকিটের চাহিদায় বিশ্বকাপ রেকর্ড সম্পত্তি বিরোধে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী বড় ভাইকে হত্যার অভিযোগ উত্তর কোরিয়ার নতুন ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা

জনমিতিক সুবিধা হারানোর ঝুঁকিতে বাংলাদেশ, সতর্ক বিশ্বব্যাংক

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬
  • ৮ বার
জনমিতিক সুবিধা হারানোর ঝুঁকিতে বাংলাদেশ, সতর্ক বিশ্বব্যাংক
প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশের সামনে এখন একদিকে রয়েছে বিপুল কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে কাজে লাগিয়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার সুযোগ, অন্যদিকে রয়েছে সেই সুযোগ হারানোর আশঙ্কা। দেশের জনসংখ্যার বয়সকাঠামো বর্তমানে অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অনুকূল অবস্থানে থাকলেও পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শ্রমবাজারে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত অগ্রগতি হয়নি। একই সঙ্গে বাড়ছে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা, অথচ তাদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা, দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যা ও সামাজিক সুরক্ষার ব্যবস্থা এখনো পর্যাপ্ত নয়। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে না পারলে জনসংখ্যাগত সুবিধাই ভবিষ্যতে অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে বলে সতর্ক করেছে বিশ্বব্যাংক।

বিশ্বব্যাংকের মঙ্গলবার প্রকাশিত ‘ডেমোগ্রাফিক চেঞ্জ ইন সাউথ এশিয়া: ফ্রম টেলউইন্ডস টু হেডউইন্ডস ফর ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক প্রতিবেদনে দক্ষিণ এশিয়ার জনসংখ্যার বয়সকাঠামোর পরিবর্তন এবং এর অর্থনৈতিক প্রভাব বিশ্লেষণ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বাংলাদেশের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে জনমিতিক লভ্যাংশের সুযোগ কাজে লাগানোর বিষয়টিকে। সংস্থাটির মতে, বাংলাদেশ এখনো এ সুবিধা কাজে লাগানোর জন্য প্রায় দুই দশক সময় পাচ্ছে। তবে এই সময়কে কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে হলে কর্মসংস্থান, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, নারীর অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ এবং সামাজিক নিরাপত্তা খাতে দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে।

জনমিতিক লভ্যাংশ বলতে সাধারণত একটি দেশের জনসংখ্যায় কর্মক্ষম বয়সী মানুষের অনুপাত বেড়ে যাওয়ার ফলে অর্থনৈতিক উন্নয়নের যে অতিরিক্ত সুযোগ তৈরি হয়, তাকে বোঝায়। যখন শিশু ও নির্ভরশীল জনগোষ্ঠীর তুলনায় কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা বেশি থাকে, তখন সঠিক নীতি ও বিনিয়োগের মাধ্যমে উৎপাদন, আয়, সঞ্চয় এবং বিনিয়োগ বাড়ানো সম্ভব হয়। তবে শুধু কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা বেশি হলেই অর্থনৈতিক সুবিধা নিশ্চিত হয় না। তাঁদের জন্য পর্যাপ্ত কাজ, মানসম্মত শিক্ষা, প্রয়োজনীয় দক্ষতা এবং উৎপাদনশীল পরিবেশ তৈরি করা জরুরি। তা না হলে বিপুলসংখ্যক মানুষ কর্মসংস্থানের বাইরে থেকে যেতে পারেন কিংবা কম আয় ও অনিশ্চিত কাজের মধ্যে আটকে পড়তে পারেন।

বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বাংলাদেশের জনমিতিক লভ্যাংশ অর্জনের সুযোগ ২০৪৫ সালে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশ কিছুটা বেশি সময় পেলেও এই সুবিধা কাজে লাগানোর প্রস্তুতি যথেষ্ট নয় বলে প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে দক্ষিণ এশিয়ার সামগ্রিক কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী আগামী এক দশকেরও কম সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে কমতে শুরু করতে পারে। ২০৪৯ সালের মধ্যে অঞ্চলটি বার্ধক্যপ্রবণ অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তখন মোট জনসংখ্যার ১৪ শতাংশের বয়স হবে ৬৫ বছর বা তার বেশি। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও ২০৫১ সালের মধ্যে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর প্রাধান্য তৈরি হতে পারে।

এই পরিবর্তন বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। কারণ কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা কমতে শুরু করলে একই পরিমাণ উৎপাদন ধরে রাখতে শ্রমবাজারে অংশগ্রহণকারী মানুষের উৎপাদনশীলতা বাড়ানো জরুরি হয়ে পড়ে। পাশাপাশি প্রবীণদের স্বাস্থ্যসেবা, চিকিৎসা, পরিচর্যা ও অবসরকালীন আয়ের জন্য রাষ্ট্র ও পরিবারের ব্যয় বাড়তে পারে। এখন থেকেই কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে না তুললে ভবিষ্যতে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ওপর নির্ভরশীল মানুষের আর্থিক ও সামাজিক চাহিদা মেটানো কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

প্রতিবেদনে দক্ষিণ এশিয়ার অতীত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে জনসংখ্যার বয়সকাঠামোর ইতিবাচক অবদানের কথাও তুলে ধরা হয়েছে। ২০০০ সাল থেকে কর্মক্ষম বয়সী মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে এ অঞ্চলের মোট দেশজ উৎপাদনে প্রতিবছর গড়ে অতিরিক্ত ০.৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি যুক্ত হয়েছে। একই সময়ে শ্রম উৎপাদনশীলতা বেড়েছে বছরে ১.১ শতাংশ। তবে এই সুবিধা স্থায়ী নয়। ২০০০ থেকে ২০৫০ সালের মধ্যে জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে জনসংখ্যার বার্ষিক অবদান কমে ০.১ শতাংশে নেমে আসতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। অর্থাৎ ভবিষ্যতে শুধু কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধির ওপর নির্ভর করে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা সম্ভব হবে না।

বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট জোহানেস জুট বলেছেন, দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতিগুলো আগের তুলনায় দ্রুত বার্ধক্যের দিকে এগোচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে উন্নত কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং তরুণ জনগোষ্ঠীর সম্ভাবনা কাজে লাগাতে এখনই প্রয়োজনীয় নীতিগত উদ্যোগ ও অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর বাড়তে থাকা চাহিদা মোকাবিলার প্রস্তুতিও নিতে হবে। তাঁর মতে, কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর সম্ভাবনা কাজে লাগানোর পাশাপাশি সুস্থ ও কর্মক্ষম প্রবীণদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রাখার মাধ্যমে দ্বিতীয় দফায় জনমিতিক লভ্যাংশ অর্জনের ভিত্তি তৈরি করা সম্ভব।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাংক সবচেয়ে বড় বাধাগুলোর একটি হিসেবে চিহ্নিত করেছে কর্মসংস্থানের ঘাটতিকে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের প্রায় ৮৪ শতাংশ কর্মী অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত। সংখ্যার হিসাবে এ জনগোষ্ঠী প্রায় ৫ কোটি ৮০ লাখ। অপ্রাতিষ্ঠানিক খাত দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও সেখানে অধিকাংশ কর্মীর চাকরির নিশ্চয়তা, নিয়মিত আয়, সামাজিক সুরক্ষা এবং অবসরকালীন সুবিধা সীমিত। অনেক ক্ষেত্রে শ্রমিকেরা নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা, নিরাপদ কর্মপরিবেশ কিংবা আইনি সুরক্ষাও পান না। ফলে কর্মক্ষম মানুষের বড় অংশ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকলেও তাঁদের কাজ সব সময় উৎপাদনশীল ও নিরাপদ জীবিকার নিশ্চয়তা দিতে পারছে না।

বিশেষ উদ্বেগের বিষয় হলো, উচ্চশিক্ষা অর্জনের পরও অনেক মানুষ আনুষ্ঠানিক কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছেন না। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রিধারীদের ৪৪ শতাংশ অপ্রাতিষ্ঠানিক কাজে যুক্ত। অর্থাৎ উচ্চশিক্ষা অর্জন করেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক তরুণ তাঁদের যোগ্যতা ও দক্ষতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ চাকরি পাচ্ছেন না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অর্জিত জ্ঞান এবং চাকরির বাজারে প্রয়োজনীয় দক্ষতার মধ্যে ব্যবধান থাকলে এই সমস্যা আরও বাড়তে পারে। এর ফলে একদিকে শিক্ষিত বেকারত্ব তৈরি হয়, অন্যদিকে প্রতিষ্ঠানগুলোও প্রয়োজন অনুযায়ী দক্ষ কর্মী খুঁজে পেতে সমস্যায় পড়ে।

আনুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির গতি ধীর হওয়ার পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মী ছাঁটাইয়ের বিষয়টিও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা দেশের কর্মসংস্থানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস। কিন্তু অর্থায়নের সীমাবদ্ধতা, ব্যবসায়িক ব্যয়, জটিল বিধিবিধান এবং বাজারের অনিশ্চয়তা এসব প্রতিষ্ঠানের সম্প্রসারণকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। ফলে নতুন চাকরি তৈরি এবং বিদ্যমান কর্মসংস্থান ধরে রাখার ক্ষেত্রে চাপ তৈরি হচ্ছে। এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে তরুণ জনগোষ্ঠীর বড় অংশের কর্মক্ষমতা যথাযথভাবে কাজে লাগানো কঠিন হবে।

নারীদের শ্রমবাজারে অংশগ্রহণ বাড়ানোও বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। জনসংখ্যার একটি বড় অংশ নারী হলেও কর্মসংস্থানে তাঁদের অংশগ্রহণের পথে সামাজিক, পারিবারিক ও প্রাতিষ্ঠানিক নানা বাধা রয়েছে। নিরাপদ কর্মপরিবেশের অভাব, যাতায়াত সমস্যা, শিশুযত্নের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকা এবং কর্মক্ষেত্রে বৈষম্যের কারণে অনেক নারী কাজের সুযোগ থেকে দূরে থাকেন। অথচ নারীদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে শ্রমশক্তির আকার বাড়ার পাশাপাশি পরিবারের আয়, শিশুদের শিক্ষা ও পুষ্টি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের কান্ট্রি ডিরেক্টর জিন পেসমে বলেছেন, বাংলাদেশের জনমিতিক সুযোগ কাজে লাগানো নির্ভর করছে এখন নেওয়া পদক্ষেপের ওপর। মানসম্মত কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহায়তা, তরুণদের শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ করে তোলা এবং কর্মক্ষেত্রে নারীদের প্রবেশের বাধা দূর করার ওপর তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন। পাশাপাশি প্রবীণদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা ও অবসরকালীন আয় নিশ্চিত করার ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছেন।

জনসংখ্যার বয়সকাঠামো পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। মানুষের গড় আয়ু বাড়লেও দীর্ঘ সময় সুস্থ ও কর্মক্ষম থাকার নিশ্চয়তা সবার জন্য সমান নয়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেকের নিয়মিত চিকিৎসা, ওষুধ, পরিচর্যা এবং আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন হয়। কিন্তু দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশে এসব সেবার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ অঞ্চলের কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর মাত্র ১৭ শতাংশ পেনশন ব্যবস্থায় অবদান রাখেন। আর প্রবীণদের মাত্র ১০ শতাংশ পেনশন সুবিধা পান। বিশ্বব্যাপী পেনশন সুবিধার তুলনায় এই হার সর্বনিম্ন পর্যায়ের কভারেজগুলোর একটি।

বাংলাদেশের জন্য এই চিত্র বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ এখনকার কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ ভবিষ্যতে প্রবীণ হবেন। তাঁদের অনেকেই যদি আনুষ্ঠানিক চাকরি, পেনশন কিংবা সঞ্চয়ের সুযোগ না পান, তাহলে অবসরকালীন জীবনে পরিবার ও রাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা বাড়বে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের পরিবারে প্রবীণ সদস্যের চিকিৎসা ও দৈনন্দিন ব্যয় মেটানো কঠিন হয়ে উঠতে পারে। তাই প্রবীণদের জন্য সামাজিক সুরক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যার ব্যবস্থা শক্তিশালী করা শুধু মানবিক দায়িত্ব নয়, ভবিষ্যৎ অর্থনীতির স্থিতিশীলতার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংক উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান বাড়ানো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন সহজ করা, ব্যবসায়িক বিধিবিধান সরল করা এবং শিক্ষা ও দক্ষতার মান উন্নয়নের পরামর্শ দিয়েছে। একই সঙ্গে নারীদের কর্মসংস্থানে বিদ্যমান বাধা দূর করে তাঁদের শ্রমবাজারে অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে তরুণদের জন্য নতুন কাজের সুযোগ তৈরি হতে পারে এবং বিদ্যমান কর্মীদের উৎপাদনশীলতাও বাড়তে পারে।

অন্যদিকে প্রবীণদের জন্য উন্নত স্বাস্থ্যসেবা, দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যা ও কার্যকর পেনশন ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছে সংস্থাটি। এতে প্রবীণদের জীবনমান ও আর্থিক নিরাপত্তা বাড়বে। একই সঙ্গে সুস্থ প্রবীণদের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হবে। কর্মজীবন থেকে অবসরের পরও উপযুক্ত পরিবেশে কাজ করার সুযোগ থাকলে ব্যক্তি, পরিবার এবং সামগ্রিক অর্থনীতি—তিন পক্ষই উপকৃত হতে পারে।

সব মিলিয়ে বাংলাদেশের সামনে জনমিতিক লভ্যাংশ কাজে লাগানোর সময় এখনো রয়েছে, কিন্তু সেই সুযোগ অনন্তকাল থাকবে না। বিপুল কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে মানসম্মত কাজে যুক্ত করা, শিক্ষাকে শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা, নারীদের জন্য নিরাপদ ও সমান কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা এবং প্রবীণদের সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করা এখন সময়ের দাবি। শুধু জনসংখ্যার অনুকূল বয়সকাঠামো দিয়ে উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব নয়; প্রয়োজন কার্যকর নীতি, বিনিয়োগ এবং প্রতিষ্ঠানগত সক্ষমতা। সময়মতো এসব ক্ষেত্রে অগ্রগতি না হলে যে জনসংখ্যাগত সুবিধা বাংলাদেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নেওয়ার কথা, ভবিষ্যতে সেটিই বড় সামাজিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com