নাটোর, রাজশাহী ও ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় আজ বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) টানা আট ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। বিদ্যুৎ লাইনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ঝুঁকিপূর্ণ গাছের ডালপালা অপসারণ এবং জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কাজ সম্পন্ন করার জন্য এই সাময়িক বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলোর পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে নির্ধারিত সময়সূচি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকার এলাকাগুলোর তথ্য জানানো হয়েছে।
নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী, কোনো কোনো এলাকায় সকাল থেকেই বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে এবং বিকেল পর্যন্ত এ পরিস্থিতি চলতে পারে। বিশেষ করে নাটোরের বড়াইগ্রাম, রাজশাহী মহানগরের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা এবং ঢাকার কেরানীগঞ্জের জিঞ্জিরা উপকেন্দ্রের আওতাধীন গ্রাহকদের সাময়িক ভোগান্তিতে পড়তে হতে পারে। ফলে এসব এলাকার বাসিন্দাদের দৈনন্দিন কাজ, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে কিছুটা বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।
নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর বড়াইগ্রাম-১ (বনপাড়া) উপকেন্দ্রের ৩ নম্বর ফিডারের আওতায় সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। অর্থাৎ এসব এলাকায় টানা আট ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে না। এ সময় ছাতিয়ানগাছা, গোধড়া, বেলগাছি ও চৌষুডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দারা বিদ্যুৎবিহীন থাকবেন।
বিদ্যুৎ লাইনের কাছাকাছি থাকা গাছের ডালপালা কেটে ফেলার জন্য এ কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ লাইনের ওপর গাছের ডাল ভেঙে পড়লে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনার আশঙ্কাও থাকে। বিশেষ করে ঝড়-বৃষ্টি কিংবা প্রতিকূল আবহাওয়ায় বিদ্যুৎ লাইনের আশপাশে ঝুঁকিপূর্ণ গাছপালা বড় ধরনের সমস্যার কারণ হতে পারে। এ কারণে নিয়মিত পরিচর্যা ও ডালপালা ছাঁটাই বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যদিকে, রাজশাহী মহানগরের বেশ কয়েকটি এলাকায় বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হবে। ১১ কেভি বিদ্যুৎ লাইনের কাছাকাছি থাকা গাছের ডালপালা কর্তনের জন্য নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই পিএলসি (নেসকো) এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে এসব এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে।
নেসকোর নির্ধারিত কর্মসূচির আওতায় রাজশাহীর তালাইমারী, নর্দান মোড়, দেবিশিংপাড়া, সাধুর মোড়, মোন্নাফের মোড়, সেরিকালচার, বড় বটতলা, বালিয়া পুকুর, ভদ্রা, উপরভদ্রা, শিরোইল, শান্তিবাগ ও মটপুকুরসহ আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহে সাময়িক বিঘ্ন ঘটবে। এসব এলাকার বাসিন্দাদের কাজের ধরন ও সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ লাইনের অবস্থান অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন সময়ে বিদ্যুৎ বন্ধ থাকতে পারে। তাই সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারের ক্ষেত্রে গ্রাহকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
রাজশাহীতে বিদ্যুৎ লাইনের পাশে গাছের ডালপালা ছাঁটাইয়ের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় আবাসিক ভবন, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য স্থাপনার মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ বিতরণ লাইন বিস্তৃত রয়েছে। এসব লাইনের আশপাশে গাছের শাখা-প্রশাখা বেড়ে উঠলে বিদ্যুৎ সরবরাহে সমস্যা তৈরি হতে পারে। কখনো গাছের ডাল বিদ্যুৎ লাইনের সংস্পর্শে এসে শর্টসার্কিট বা অন্যান্য বৈদ্যুতিক ত্রুটির ঝুঁকিও বাড়াতে পারে। তাই নির্ধারিত সময়ের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রেখে নিরাপদ পরিবেশে প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে ঢাকার কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকাতেও বৃহস্পতিবার আট ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৪-এর জিঞ্জিরা উপকেন্দ্রের আওতাধীন এলাকায় সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকার তালিকায় রয়েছে মনু ব্যাপারীর ঢাল, ছাটগাঁও, মান্দাইল, দক্ষিণ মান্দাইল, ফয়েজ নগর, রসুলপুর, বরিশুর, কুশিয়ারবাগ, নজরগঞ্জ, কালিন্দীঘাট ও কদমতলী এলাকা। এসব এলাকার আবাসিক গ্রাহকদের পাশাপাশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য বিদ্যুৎনির্ভর স্থাপনাও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সাময়িক সমস্যার মুখে পড়তে পারে।
কেরানীগঞ্জের এসব এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় বাসাবাড়ির দৈনন্দিন কাজ থেকে শুরু করে ছোট-বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমেও প্রভাব পড়তে পারে। বিদ্যুৎচালিত পানির পাম্প, ফ্রিজ, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, কম্পিউটার এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে না পারায় গ্রাহকদের বিকল্প ব্যবস্থা নিতে হতে পারে। বিশেষ করে যেসব পরিবারে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি কিংবা বিদ্যুৎনির্ভর দৈনন্দিন কাজের প্রয়োজন রয়েছে, তাদের জন্য আগাম প্রস্তুতি রাখা জরুরি।
একইভাবে নাটোর ও রাজশাহীর বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন এলাকাগুলোতেও বাসিন্দাদের দৈনন্দিন কাজের পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনতে হতে পারে। বিদ্যুৎ না থাকলে পানি তোলা, রান্নার প্রস্তুতি, অনলাইন কার্যক্রম, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা এবং বিভিন্ন অফিসের কাজ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। দোকানপাট ও ক্ষুদ্র ব্যবসার ক্ষেত্রেও বিদ্যুৎ সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল কার্যক্রম সাময়িকভাবে সীমিত হয়ে আসতে পারে। বিশেষ করে যেসব ব্যবসায় ফ্রিজ বা বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হয়, সেসব প্রতিষ্ঠানের মালিকদের আগেভাগে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
এ পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের বিদ্যুৎ বন্ধ হওয়ার আগেই মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, জরুরি লাইট ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ইলেকট্রনিক যন্ত্র চার্জ দিয়ে রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পানি সংরক্ষণ, ফ্রিজের দরজা অপ্রয়োজনে না খোলা এবং বিদ্যুৎনির্ভর কাজগুলো আগেভাগে শেষ করে রাখা যেতে পারে। বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরায় চালু হওয়ার সময় বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারে সতর্ক থাকাও প্রয়োজন।
বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখার এ কর্মসূচিকে সাময়িক অসুবিধা হিসেবে দেখলেও এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘমেয়াদি সেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্য। বিদ্যুৎ বিতরণব্যবস্থার নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, ঝুঁকিপূর্ণ গাছের ডালপালা অপসারণ এবং লাইনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে অনাকাঙ্ক্ষিত বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। তবে এ ধরনের কার্যক্রমের ক্ষেত্রে গ্রাহকদের আগাম তথ্য দেওয়া এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিতরণ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের আগেই গাছের ডালপালা কর্তন ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ শেষ হলে সংশ্লিষ্ট এলাকায় দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে বিকেল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে না। তবে কাজের অগ্রগতি ও নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনা করে বিদ্যুৎ পুনঃসংযোগ দেওয়া হবে।
সাময়িক এ বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে গ্রাহকদের যে অসুবিধা হবে, তার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলো। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করতে গ্রাহকদের সহযোগিতা কামনা করেছে কর্তৃপক্ষ। বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাকে নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য রাখতে এ ধরনের রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ হলেও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি যতটা সম্ভব কমিয়ে আনার বিষয়টিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।
স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত