ঢাকায় সার্ক সাংস্কৃতিক উৎসব, আসছে ছয় দেশের প্রতিনিধিদল

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬
  • ১৪ বার
ঢাকায় সার্ক সাংস্কৃতিক উৎসব, আসছে ছয় দেশের প্রতিনিধিদল

প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার এবং দীর্ঘদিন ধরে কার্যত স্থবির হয়ে থাকা দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) পুনরুজ্জীবনের উদ্যোগে নতুন মাত্রা যোগ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এরই অংশ হিসেবে আগামী ১২ থেকে ১৫ জানুয়ারি রাজধানী ঢাকায় আয়োজন করা হচ্ছে সার্ক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে সার্কভুক্ত ছয়টি দেশের সংস্কৃতিমন্ত্রীর নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের প্রতিনিধিদল অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, শিল্পকলা ও জনগণের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগকে গুরুত্ব দিয়ে এই আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

পররাষ্ট্র ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় চার দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উদ্বোধন করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের। আয়োজনটির মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার পাশাপাশি সার্ককে কার্যকর আঞ্চলিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অঙ্গীকার তুলে ধরতে চায় সরকার।

সার্ক পুনরুজ্জীবনের বিষয়টি বর্তমান সরকারের আঞ্চলিক কূটনীতির অন্যতম আলোচিত লক্ষ্য। দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় ২০০ কোটি মানুষের বৃহত্তর স্বার্থে প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বিভিন্ন সময়ে তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর মতে, ভৌগোলিক নৈকট্য, অভিন্ন ইতিহাস, সংস্কৃতি, ভাষা, ঐতিহ্য এবং অর্থনৈতিক সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো প্রত্যাশিত মাত্রায় পারস্পরিক সহযোগিতা গড়ে তুলতে পারেনি। সার্ককে কার্যকর করা গেলে এ অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধির নতুন সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।

নির্বাচনের পর রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে আয়োজিত প্রথম সংবাদ সম্মেলনে তারেক রহমান সার্ক পুনরুজ্জীবনের বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্ট করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, বাংলাদেশ সার্কের উদ্যোক্তা দেশ এবং স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশ সংস্থাটিকে পুনরুজ্জীবিত করতে চায়। বিএনপি সরকার গঠন করলে এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং সরকার গঠনের পর প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা করা হবে। সেই রাজনৈতিক অঙ্গীকারের ধারাবাহিকতায় ঢাকায় সার্ক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজনকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

চার দিনের এই সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর শিল্পী, সংস্কৃতিকর্মী, নীতিনির্ধারক ও প্রতিনিধিদের মধ্যে যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হবে। সংস্কৃতি এমন একটি ক্ষেত্র, যেখানে রাজনৈতিক মতপার্থক্য বা কূটনৈতিক জটিলতার বাইরেও মানুষের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে তোলা সম্ভব। সংগীত, নৃত্য, সাহিত্য, নাটক, চলচ্চিত্র, লোকজ ঐতিহ্য এবং ঐতিহাসিক সংস্কৃতির বিনিময় বিভিন্ন দেশের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক পরিচিতি বাড়াতে পারে। ফলে এই অনুষ্ঠান কেবল আনুষ্ঠানিক সাংস্কৃতিক আয়োজন হিসেবে নয়, বরং আঞ্চলিক সম্পর্ক উন্নয়নের একটি সম্ভাব্য মাধ্যম হিসেবেও গুরুত্ব পাচ্ছে।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে আঞ্চলিক সহযোগিতার ধারণা প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের ভূমিকা ঐতিহাসিক। ১৯৮০-এর দশকের শুরুতে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর একটি আঞ্চলিক কাঠামো গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন। তাঁর উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় কয়েক বছরের কূটনৈতিক আলোচনা ও প্রস্তুতি শেষে ১৯৮৫ সালের ৮ ডিসেম্বর ঢাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে সার্ক প্রতিষ্ঠিত হয়।

প্রতিষ্ঠাকালে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ—এই সাতটি দেশ সংস্থাটির সদস্য হয়। পরবর্তী সময়ে ২০০৭ সালে আফগানিস্তান সদস্য হিসেবে যুক্ত হলে সার্কের সদস্যসংখ্যা দাঁড়ায় আটটি। সংস্থাটির মূল উদ্দেশ্য ছিল দক্ষিণ এশিয়ার মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা, সামাজিক অগ্রগতি নিশ্চিত করা এবং সদস্য দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতা বৃদ্ধি করা।

সার্ক প্রতিষ্ঠার সময় দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সামনে দারিদ্র্য, বেকারত্ব, নিরক্ষরতা, খাদ্যনিরাপত্তাহীনতা, স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা এবং অবকাঠামোগত দুর্বলতার মতো নানা চ্যালেঞ্জ ছিল। এসব সমস্যা মোকাবিলায় সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা থেকেই আঞ্চলিক সংস্থাটির জন্ম। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাণিজ্য, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার সুযোগ তৈরি হয়।

তবে প্রতিষ্ঠার পর থেকে সার্ক প্রত্যাশিত গতিতে এগোতে পারেনি। সদস্য দেশগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক বিরোধ, বিশেষ করে ভারত ও পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের উত্তেজনা সংস্থাটির কার্যক্রমকে বারবার বাধাগ্রস্ত করেছে। ২০১৪ সালের ২৬ ও ২৭ নভেম্বর নেপালের কাঠমান্ডুতে অনুষ্ঠিত হয় সার্কের সর্বশেষ ১৮তম শীর্ষ সম্মেলন। এরপর ২০১৬ সালে পাকিস্তানে ১৯তম শীর্ষ সম্মেলন আয়োজনের পরিকল্পনা থাকলেও আঞ্চলিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে তা স্থগিত হয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে আর কোনো শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়নি।

ফলে সার্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সংস্থা দীর্ঘ সময় ধরে কার্যত স্থবির অবস্থায় রয়েছে। যদিও সচিবালয় ও বিভিন্ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কিছু কার্যক্রম অব্যাহত আছে, তবু রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান পর্যায়ে নিয়মিত যোগাযোগ এবং বড় ধরনের আঞ্চলিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে অগ্রগতি সীমিত।

সার্ক পুনরুজ্জীবনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ যে সাংস্কৃতিক আয়োজনকে গুরুত্ব দিচ্ছে, তার পেছনে রয়েছে একটি বাস্তবসম্মত কূটনৈতিক চিন্তা। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক ও কৌশলগত মতপার্থক্য থাকলেও ভাষা, সাহিত্য, সংগীত, খাদ্যাভ্যাস, পোশাক, উৎসব এবং ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের ক্ষেত্রে অনেক মিল রয়েছে। এসব অভিন্ন বৈশিষ্ট্যকে কাজে লাগিয়ে জনগণের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নের সুযোগ রয়েছে।

বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, ভুটান, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ ও আফগানিস্তানের সংস্কৃতিতে যেমন নিজস্ব বৈচিত্র্য রয়েছে, তেমনি রয়েছে বহু ঐতিহাসিক ও সামাজিক সংযোগ। সংগীত, নৃত্য, লোকশিল্প, সাহিত্য ও চলচ্চিত্রের মাধ্যমে এসব দেশের মানুষের মধ্যে পরিচিতি বাড়ানো সম্ভব। সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচি তরুণ প্রজন্মকে প্রতিবেশী দেশগুলোর ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে জানার সুযোগ করে দিতে পারে।

বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার তরুণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষা, সংস্কৃতি, সৃজনশীল শিল্প এবং পর্যটন খাতে যৌথ উদ্যোগ নেওয়া গেলে নতুন কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে শিল্পী, গবেষক, লেখক, চলচ্চিত্র নির্মাতা এবং সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি যোগাযোগও গড়ে উঠতে পারে।

ঢাকার আসন্ন আয়োজনের ক্ষেত্রে তাই শুধু আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন বা সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে কার্যকর সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরির বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর প্রতিনিধিদের মধ্যে ভবিষ্যৎ সাংস্কৃতিক বিনিময়, যৌথ আয়োজন এবং ঐতিহ্য সংরক্ষণে সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা হলে অনুষ্ঠানটি আরও অর্থবহ হতে পারে।

সার্ক পুনরুজ্জীবিত হলে বাংলাদেশের জন্য একাধিক অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য সহজ করা গেলে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানির নতুন বাজার তৈরি হবে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত হলে পরিবহন ব্যয় কমানো, পর্যটন সম্প্রসারণ এবং জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে সহযোগিতার সুযোগ বাড়তে পারে।

এ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে খাদ্যনিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, নদীর পানি ব্যবস্থাপনা এবং জনস্বাস্থ্যের মতো অভিন্ন সমস্যা রয়েছে। এককভাবে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। কিন্তু পারস্পরিক তথ্য বিনিময়, গবেষণা, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং যৌথ পরিকল্পনার মাধ্যমে কার্যকর সমাধানের পথ তৈরি হতে পারে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানও সার্ক পুনরুজ্জীবন এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পরিবর্তিত বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক চ্যালেঞ্জের মধ্যে শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং আঞ্চলিক সংহতি এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই অবস্থান থেকে বোঝা যায়, সরকার সার্ককে শুধু অতীতের একটি কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে নয়, বরং ভবিষ্যতের আঞ্চলিক সহযোগিতার সম্ভাব্য গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচনা করছে।

তবে সার্ককে কার্যকর করতে হলে শুধু সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বা আনুষ্ঠানিক বৈঠক যথেষ্ট হবে না। সদস্য দেশগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক সদিচ্ছা, পারস্পরিক আস্থা এবং নিয়মিত কূটনৈতিক যোগাযোগ প্রয়োজন। একই সঙ্গে বাণিজ্য, যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জ্বালানি খাতে বাস্তবভিত্তিক কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে। সদস্য দেশগুলোর পারস্পরিক উদ্বেগ ও স্বার্থকে সম্মান জানিয়ে ধাপে ধাপে সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

আগামী ১২ থেকে ১৫ জানুয়ারির সার্ক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সুযোগ। ছয়টি দেশের সংস্কৃতিমন্ত্রীর নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলের অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত হলে এটি দক্ষিণ এশিয়ার সাংস্কৃতিক যোগাযোগ বাড়ানোর ক্ষেত্রে ইতিবাচক বার্তা দেবে। একই সঙ্গে ঢাকায় আন্তর্জাতিক পর্যায়ের এমন আয়োজন বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক সক্ষমতা ও আঞ্চলিক নেতৃত্বের আকাঙ্ক্ষা তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করবে।

তবে এই আয়োজনের সাফল্য শুধু কতজন প্রতিনিধি অংশ নিলেন কিংবা কতটি সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হলো, তার ওপর নির্ভর করবে না। বরং অনুষ্ঠান শেষে দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতার নতুন পরিকল্পনা তৈরি হলো কি না, সাংস্কৃতিক বিনিময়ের ধারাবাহিক কর্মসূচি নেওয়া হলো কি না এবং সার্কের অন্যান্য কার্যক্রম সচল করার বিষয়ে আলোচনা এগোল কি না, সেটিই হবে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়।

সব মিলিয়ে ঢাকায় সার্ক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের উদ্যোগকে দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক সম্পর্ক উন্নয়নের একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাজনৈতিক মতপার্থক্য ও কূটনৈতিক জটিলতার মধ্যেও সংস্কৃতির মাধ্যমে যোগাযোগের দরজা খোলা রাখার সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ যদি এই আয়োজনকে বৃহত্তর আঞ্চলিক সহযোগিতার সূচনা হিসেবে কাজে লাগাতে পারে, তাহলে সার্ক পুনরুজ্জীবনের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা নতুন গতি পেতে পারে। দক্ষিণ এশিয়ার মানুষের শান্তি, সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের স্বার্থে এই উদ্যোগ কতটা কার্যকর হয়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com